রাজধানীর পরিবহনে শৃঙ্খলা আনতে ঘোষণা দিয়ে গত বৃহস্পতিবার চালু হয়েছিল কাউন্টার ও টিকিটভিত্তিক বাস সার্ভিস। নতুন পদ্ধতিতে গাজীপুর-ঢাকা সড়কের বিভিন্ন রুটে প্রথম অবস্থায় ২১টি কোম্পানির ২ হাজার ৬১০টি বাস নিয়ে যাত্রা শুরুর কথা বলা হয়। আর সব গাড়ির রং হবে ‘গোলাপি’। সপ্তাহ শেষ না হতেই সড়কে বাসের সংখ্যা কমে গেল। শুরুতেই হোঁচট খেয়েছে সড়কে শৃঙ্খলার এ উদ্যোগ।
৬ ফেব্রুয়ারি নির্দিষ্ট রঙের ই-টিকিটিং ও কাউন্টারভিত্তিক বাস চালু উদ্বোধন করে সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি। এই পদ্ধতিতে বাস শ্রমিকরা নিজের হাতে ভাড়া তুলতে পারবেন না। যাত্রীরা কাউন্টার থেকে টিকিট কেটে বাসে উঠবেন। প্রতিদিনের ভাড়া কোম্পানির তত্ত্বাবধানে জমা হবে এবং সেখান থেকে শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি বা মাসিক বেতন দেওয়া হবে। প্রাথমিকভাবে আবদুল্লাহপুর থেকে ঢাকায় প্রবেশ করা বাসগুলোকে গোলাপি রঙে রূপান্তর করে এ কার্যক্রম শুরু হয়। প্রথম ধাপে ২১টি কোম্পানির ১০০টি বাস দিয়ে এ ব্যবস্থা চালু করা হয়। পরবর্তী ধাপে সংশ্লিষ্ট সব কোম্পানির সব বাসকে এ ব্যবস্থার আওতায় আনা হবে বলে জানিয়েছে মালিক সমিতি। শুধু আবদুল্লাহপুর নয়, ঢাকাকে চারটি ভাগে বিভক্ত করে চারটি আলাদা রঙে এ ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়।
কিন্তু যাদের দ্বারা এ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে সেই গণপরিবহন চালক-শ্রমিকরা এ ব্যবস্থাপনা চাচ্ছেন না। ফলে শুরুতে রুট অনুযায়ী বিভিন্ন স্থানে বাসের কাউন্টার বসানো হলেও সেই কাউন্টারের সংখ্যা এখন কমে গেছে। সড়কে গোলাপি রঙের বাসের দেখাও মিলছে না তেমন একটা। কিছু দেখা গেলেও সেসব বাস কাউন্টার ছাড়াও যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামা করাচ্ছে। এ ছাড়া প্রত্যেক স্টেশনে কাউন্টার না থাকায় ভাড়ারও সমন্বয় করা যাচ্ছে না। এতে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ভাড়া বেশি নেওয়া হচ্ছে যাত্রীদের কাছ থেকে।
নতুন ব্যবস্থাপনার কারণে ভোগান্তি বেড়েছে যাত্রীদের। গতকাল সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, আবদুল্লাহপুর থেকে বাড্ডা, রামপুরা রুটে নিয়মিত চলাচলকারী ভিক্টর পরিবহন, রাইদা ও তুরাগ পরিবহনের বাসের সংখ্যা হাতে গোনা। একই অবস্থা মহাখালী সড়কেও। প্রভাতী বনশ্রী, বলাকা, গাজীপুর পরিবহন, পরিস্থান, ভূঁইয়া পরিবহন কম চলতে দেখা গেছে। বাস সংকটের কারণে অনেক যাত্রীকে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে দেখা গেছে। বাস না পেয়ে অনেককে হেঁটে কিংবা বিকল্প উপায়ে গন্তব্যে যেতে দেখা গেছে। তবে সব বাস গোলাপি রং করা হয়নি। এদিকে ১০ ফেব্রুয়ারি সায়েদাবাদ এলাকায় কাউন্টারভিত্তিক বাস চলাচল ব্যবস্থা বন্ধ ও ২০১৮ সালের সড়ক পরিবহন আইনের বিরোধিতা করে বিক্ষোভ করেন গণপরিবহন চালক ও শ্রমিকরা। তারা জানান, কাউন্টারভিত্তিক বাস চলাচলে আয় কম। আবদুল্লাহপুর থেকে ছাড়া গোলাপি রঙের আওতায় আসা বিভিন্ন বাস কোম্পানির চালক-শ্রমিকদের সঙ্গে কথা হলে তারা জানান, আগে প্রতি ট্রিপে নির্দিষ্ট আয় ছাড়াও বাড়তি কিছু আয় জমা হতো। যা তারা নিজেরা রাখতেন। কাউন্টার হওয়ায় এখন আর তারা নিজেরা ভাড়া তোলার সুযোগ পান না। ফলে চুক্তিতে যে টাকা পান দৈনিক, তা যথেষ্ট নয়।
এ বিষয়ে ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল আলম বলেন, যেসব চালক-শ্রমিক এ ব্যবস্থার আপত্তি জানিয়েছে তারা চুক্তিভিত্তিক চলতে চায়। তারা চায় নিজেরা ভাড়া তুলে সেখান থেকে মালিককে দেবে। এতে তারা অধিক আয়ের আশায় সড়কে বিশৃঙ্খলা তৈরি করছে। এ ছাড়া কিছু বাসের মালিক আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত, আরও কিছু আছে যারা শ্রমিক থেকে বাসের মালিক হয়েছে তারা একটু বিশৃঙ্খলা তৈরি করছে। তারা নিজের চিন্তা করে, নাগরিক সুবিধা চিন্তা করে না। তাদের শৃঙ্খলায় আনা একটু কঠিন হয়ে যাচ্ছে। আশা করি, দুই সপ্তাহের মধ্যে ঠিক হয়ে যাবে।