জনপ্রতিনিধি সংকটে ধুঁকছে কুমিল্লা সিটি করপোরেশন। ছয় মাস মেয়র ও কাউন্সিলর ছাড়া চলছে। নগর ব্যবস্থাপনায় কোথাও শৃঙ্খলা নেই বললেই চলে। বর্জ্য ডাস্টবিন উপচে পড়ছে। ফুটপাত দখল, উচ্ছেদ, যানজট নিরসনে নেই সমন্বিত উদ্যোগ। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি ছাড়া এই সংকট সমাধান হবে না বলে নগরবাসীর অভিমত।
গত ৫ আগস্টের পরে সারা দেশের মতো কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের মেয়র-কাউন্সিলরদের বরখাস্ত করা হয়। বসানো হয় প্রশাসক। তিনি কোনো রকম মেয়রের দায়িত্ব পালন করলেও কাউন্সিলরদের ঘাটতি পূরণ হচ্ছে না। কাউন্সিলরদের স্থানে সিটি করপোরেশনের কিছু কর্মকর্তার দায়িত্ব দেওয়া হয়। তারা অফিসের কাজ শেষে ওয়ার্ডে যে দায়িত্ব পালন করছেন তা যথেষ্ট নয় বলে স্থানীয়রা জানান। নগরবাসীর প্রতি দায় না থাকায় সেখানে কাজের গতি নেই বলেও নগরবাসী মনে করেন।
কুমিল্লা নগরীর ২২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা কুমিল্লা ন্যাশনাল ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি দেলোয়ার হোসেন মজুমদার বলেন, জনপ্রতিনিধি না থাকায় মানুষের ভোগান্তির শেষ নেই। এই অঞ্চলে ডাস্টবিন নেই। যত্রতত্র আবর্জনা ফেলা হচ্ছে। এই সমস্যা জানানোর মানুষও নেই। এদিকে সড়কের লাইট নষ্ট। পথ চলতে মানুষের সমস্যা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, বেশি ভোগান্তি প্রত্যয়নপত্র নিয়ে। ওয়ার্ডে দায়িত্ব পাওয়া কর্মকর্তা স্থানীয় মানুষ চিনেন না। তাই তিনি সহজে প্রত্যয়ন দিচ্ছেন না। এতে মানুষকে আদালতের এফিডেভিট, এলাকার ইমামের প্রত্যয়নসহ নানান কাগজপত্র সংগ্রহে হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে। নগরীর অশোকতলা এলাকার বাসিন্দা সচেতন নাগরিক কমিটি কুমিল্লার সদস্য মোহাম্মদ আনিসুর রহমান আখন্দ বলেন, জনপ্রতিনিধি তার এলাকার সমস্যা সম্পর্কে অবগত থাকেন। সেখানে কর্মকর্তা তা বোঝার কথা নয়। তার রুটিন দায়িত্বে জনগণের চাহিদা পূরণ হবে না। সাবেক নারী কাউন্সিলর কোহিনূর আক্তার কাকলী ও সাবেক মেয়র প্রার্থী নিজাম উদ্দিন কায়সার বলেন, সড়ক সংস্কার, পরিচ্ছন্নতাসহ নগরীর ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা আনতে জনপ্রতিনিধির বিকল্প নেই।
কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু সায়েম ভুইয়া বলেন, আমরা অতিরিক্ত দায়িত্ব নিয়ে চালিয়ে নিচ্ছি। জনপ্রতিনিধি থাকলে কাজে আরও গতি আসবে।