রংপুর নগরীর প্রাণকেন্দ্র দিয়ে বয়ে যাওয়া ঐতিহ্যবাহী শ্যামাসুন্দরী খাল অবৈধ দখল-দূষণে মরতে বসেছিল। শ্যামাসুন্দরীতে ১৭০ অবৈধ দখলদার চিহ্নিত করা হয় বেশ কয়েক বছর আগে। গত বছরের ডিসেম্বরে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ অভিযান শুরু করে কর্তৃপক্ষ। ওই উচ্ছেদ অভিযান একদিনেই সীমাবন্ধ ছিল। ফলে আবারও শ্যামার ভাগ্যে নেমে এসেছে দখলের দুর্দশা। নগরবাসী খালের দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন। সেই সঙ্গে বাড়ছে মশার উৎপাদন। অবৈধ দখলদাররা আগের মতো খাল দখল করে রেখেছেন। নগরীর ধাপ এলাকায় দখলদারদের সংখ্যা বেশি।
গত বছরের ডিসেম্বরে নগরীর সাব রেজিস্ট্রি অফিসসংলগ্ন শ্যামাসুন্দরী খালের ওপর থাকা নানা ধরনের অবৈধ অবকাঠামো উচ্ছেদ করাসহ সীমানা নির্ধারণের কাজ শুরু করে। ওই সময় রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সংগঠকরা উপস্থিত ছিলেন। একদিনেই থমকে যায় উচ্ছেদ অভিযান। নগরীর জলাবদ্ধতা দূর করতে রংপুর পৌরসভার প্রথম চেয়ারম্যান ও ডিমলার রাজা জানকী বল্লভ সেন ১৮৯০ সালে তাঁর মা চৌধুরানি শ্যামাসুন্দরী দেবীর নামে খালটি পুনঃখনন করেন। এই খালটির আগের নাম ছিল ঘোষ খাল। এটি ঘাঘট নদী থেকে শুরু করে নগরীর ধাপ পাশারীপাড়া, কেরানীপাড়া, মুন্সীপাড়া, ইঞ্জিনিয়ারপাড়া, গোমস্তাপাড়া, সেনপাড়া, মুলাটোল, তেঁতুলতলা, নূরপুর, বৈরাগীপাড়া হয়ে মাহিগঞ্জের মরা ঘাঘটের সঙ্গে যুক্ত হয়। দীর্ঘদিন থেকে সংস্কার না করায় খালটি নাব্য হারিয়ে ফেলে। এর দুই পাড়ে অবৈধভাবে দখল হয়ে যাওয়ায় সংকীর্ণ হয়ে পড়ে খালটি। সামান্য বৃষ্টিতেই গোটা শহরে সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতা। রংপুর সিটি করপোরেশনের বর্জ্য ব্যবস্থাপক মিজানুর রহমান বলেন, আমরা রুটিন মাফিক খাল পরিষ্কার করছি। তবে বড় ধরনের উচ্ছেদ ও সংস্কার কাজ বন্ধ রয়েছে।