গাজীপুরে থামছে না অটোরিকশার যন্ত্রণা। সড়কে বিশৃৃঙ্খল পরিবেশে চলছে ব্যাটারিচালিত থ্রি-হুইলার। এসব নিয়ন্ত্রণে সিটি করপোরেশন, ট্রাফিক পুলিশ ও থানা পুলিশ কারও কোনো উদ্যোগ নেই। সড়ক-মহাসড়কে বেপরোয়াভাবে চলছে এসব যান। বেপরোয়া চলাচলের কারণে একদিকে যানজট, অন্যদিকে এসব যান কেড়ে নিচ্ছে অনেকের প্রাণ। আবার অটোওয়ালা সেজে ছিনতাই করছে একদল। সড়কে এদের রাজত্ব, পুরো সড়ক এখন অটোর দখলে। সরকারিভাবে এর বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ না নিলে তাদের নৈরাজ্য বাড়তেই থাকবে বলে মন্তব্য করছেন এলাকাবাসী। পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য নগরী গড়তে সরকারের হস্তক্ষেপ জরুরি।
সরেজমিনে ঘুরে জানা যায়, গাজীপুরের সড়কে এসব অবৈধ গাড়ি দিন দিন বেড়েই চলছে। সড়কে অটোরিকশার ধাক্কায় ঘটছে হতাহতের ঘটনা। আবার ছিনতাইচক্র অটোওয়ালা সেজে রাতের আঁধারে গাড়িতে যাত্রী নিয়ে নির্জন স্থানে নিয়ে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে সর্বস্ব কেড়ে নিচ্ছে। টঙ্গী ও গাজীপুরে কত সংখ্যক ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলছে এর সঠিক পরিসংখ্যান কারও কাছে নেই।
অদক্ষ এসব গাড়িচালকরা মানছে না ট্রাফিক আইন। খেয়ালখুশি মতো চলছে। ফলে সড়কে প্রতিদিনই ঘটছে দুর্ঘটনা। এ ছাড়া গুরুত্বপূর্ণ সড়কে জ্যাম লাগার অন্যতম কারণও এসব গাড়ি। কৌশলে বিদ্যুৎ চুরি করে অটোর চার্জ দেওয়া হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা দুলাল হোসেন বলেন, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা সড়কে যেমনি বিশৃঙ্খলা তৈরি করছে, তেমনি মানুষের প্রাণও কেড়ে নিচ্ছে। এসব গাড়ির উৎপাদন বন্ধ করতে গাড়ির ব্যাটারি ও যন্ত্রাংশের আমদানি বন্ধ করতে হবে। এ ছাড়া অটো চালকরা রাতে গাড়ি ভাড়া নিয়ে ছিনতাই কাজে ব্যবহার করছে। পুলিশি ঝামেলার কারণে কেউ থানায় যাচ্ছে না।
এ বিষয়ে ট্রাফিক পুলিশের এসআই শাহজালাল বলেন, মহাসড়কে যেসব অটো চলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এ ছাড়া গাড়ি ডাম্পিং করা হয়। সড়কে এত গাড়ি চলা মুশকিল। টঙ্গী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ ফরিদুল ইসলাম বলেন, সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে সিটি করপোরেশনকে এগিয়ে আসতে হবে। আমরা সিটি করপোরেশনকে সহযোগিতা করব। আর ছিনতাইয়ের বিষয়ে তিনি আরও বলেন, প্রতিদিন ছিনতাইকারী ধরা হচ্ছে। ছিনতাইরোধে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।