খাল ও নালায় আটকে আছে চট্টগ্রাম মহানগরীর উন্নয়ন। প্রায় ৭০ লাখ জনগোষ্ঠীর এই নগরীতে জলাবদ্ধতার দুর্ভোগ পুরনো। খাল সংস্কারের কাদামাটিতে আটকে আছে ভোগান্তির সব উপাদান। নালায় পড়ে গত কয়েক বছরে বেশ কয়েকজনের জীবন গেছে। তবু সংস্কার শেষ হয়নি। চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ জলাবদ্ধতা নিরসনে মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। তবে নগরের খালগুলো পরিষ্কার-সংস্কার করে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক)। বর্তমানে জলাবদ্ধতা নিরসনে তিনটি সংস্থা ১৪ হাজার ৩৫১ কোটি টাকার চারটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে।
গত ৩১ জানুয়ারি গৃহায়ণ ও গণপূর্ত উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান নগরের বহদ্দারহাট, বারইপাড়া ও ষোলশহর সুন্নিয়া মাদ্রাসা খাল খনন কার্যক্রম পরিদর্শন শেষে গণমাধ্যমের কাছে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, জনগণের জন্য যেসব কাজ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে করা জরুরি, সেসব কাজ করা হয়নি। ফলে মানুষকে এখনো ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
নগরবাসীর অভিযোগ, শুষ্ক মৌসুমে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে খাল সংস্কার কাজ শেষ করা হয়নি। এখন বর্ষা মৌসুমের বাকি মাত্র চার মাস। অথচ বাকি সময়ের মধ্যে কাজগুলো করা সম্ভব হবে কিনা তা নিয়ে সংশয় আছে। ফলে আগামী বর্ষা মৌসুমেও নিশ্চিতভাবে জলাবদ্ধতার মুখোমুখি হতে হবে। তাহলে এত প্রকল্প ও অর্থ ব্যয়ের সুফল কোথায়।
চট্টগ্রাম নগরীর অন্যতম খাল চাক্তাই খাল। এই খালের মিয়া খান নগর এলাকার অংশে এখন সংস্কার ও উন্নয়ন কাজ চলছে। ফলে পানি চলাচল এখন এক প্রকার বন্ধ। একইভাবে দেওয়ানহাট এলাকায়ও চলছে সংস্কার কাজ। এখানেও খালের ওপরই মাটির স্তূপ। চলাচল করছে না পানি। এভাবে নগরের অনেক খালের সংস্কার ও উন্নয়ন কাজ চলছে। ফলে খালের ওপরই এখন মাটির স্তূপ। অনেক খালে পানি চলাচল প্রায় বন্ধ। ফলে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে, আগামী বর্ষার আগে মাটি অপসারণ ও খাল সংস্কার কাজ শেষ করে পানি প্রবাহের উপযুক্ত করা যাবে কিনা।
চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, এখন সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে নগরের জলাবদ্ধতার বিষয়টি তদারকি করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে তিনজন উপদেষ্টা জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের কাজ পরিদর্শন করেছেন। এখন সবাই সমন্বিতভাবে কাজ করার বিষয়ে তাগাদা দেওয়া হচ্ছে। সবার সম্মিলিত প্রয়াস থাকলে আশা করছি, একটি রেজাল্ট পাব। হয়তো আগামী মৌসুমে ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ ফলাফল পাব। শতভাগ রেজাল্ট পেতে আরও এক বছর সময় লাগবে।
জানা যায়, চট্টগ্রাম নগরের জলাবদ্ধতার বিষয়টি এবার সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে মনিটরিং করা হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে গত ৫ জানুয়ারি বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ‘চট্টগ্রাম নগরীর জলাবদ্ধতা সমস্যা নিরসনে করণীয়’ শীর্ষক একটি সভা তিন উপদেষ্টার উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত হয়। এরপর গত ১৮ জানুয়ারি তিনজন উপদেষ্টা নগরের খাল-নালা পরিদর্শন এবং ১৯ জানুয়ারি সার্কিট হাউসে বিষয়টি নিয়ে সরকারের নীতি নির্ধারণী পর্যায়ের বৈঠক হয়। বর্তমান সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নির্দেশে নগরের জলাবদ্ধতা সমস্যার পুরোপুরি সমাধানের পথ খুঁজতে নতুন করে অ্যাকশন প্ল্যান তৈরি করা হচ্ছে। এ নিয়ে কাজ করছে পরিকল্পিত ফোরাম চট্টগ্রাম। নগরের জলাবদ্ধতা নিরসনে আগামী বর্ষার আগে ১১ করণীয় নির্ধারণ করা হয়।
এ কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে আগামী মে মাস পর্যন্ত সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে।