রংপুর নগরীর বিভিন্ন সড়কে ঘুরে বেড়াচ্ছে গরু। এসব গরুর মালিক থাকলেও রাস্তায় যখন চলে তখন বেওয়ারিশ। এসব গরু প্রতিদিন রাস্তার পাশে পড়ে থাকা পলিথিন, ময়লা-আবর্জনা খাচ্ছে। এটি গরুর জন্য যেমন বিপদজ্জনক তেমনি ওইসব গরুর দুধ অথবা মাংস মানব দেহের জন্য ক্ষতিকারক। নগরীর লালবাগসহ বিভিন্ন সড়কে ঘুরে দেখা গেছে, ডাস্টবিনের পাশে জমে থাকা পলিথিন, প্লাস্টিক, কাগজ, ওয়ানটাইম প্লেট, গ্লাস ইত্যাদি খাচ্ছে গরু।
চিকিৎসকরা বলছেন, ক্ষুধার্ত তৃণভোজী গৃহপালিত পশুগুলো খাবারের অভাবে পলিথিনসহ ক্ষতিকর খাবার খাচ্ছে। এতে খাদ্যে বিষক্রিয়ায় পশু অসুস্থ ও মারা যাওয়ার পাশাপাশি ক্ষতি হচ্ছে পরিবেশ-প্রকৃতি ও মানব দেহের। এর জন্য দায়ী করা হচ্ছে অপরিকল্পিত নগরায়ণ, গবাদি পশুর খাবার সংকট ও পশু পালনকারীদের অযত্ন-অবহেলাকে।
নগরীর লালবাগ এলাকার পশুপালক লিয়াকত মিয়া জানান, তিনি দীর্ঘ ২০ বছর ধরে গরু-ছাগল পালন করছেন। তার কাছে প্রায় ১৫-১৬টি গরু আর ২০ থেকে ২৫টি ছাগল ছিল। তা বর্তমানে কমে ছয়টি গরু আর আটটি ছাগলে গিয়ে দাঁড়িয়েছে খাদ্য সংকটের কারণে। শহরে আগের মতো মাঠ নেই। যা আছে সেখানে আবার তেমন ঘাসও নেই। এ ছাড়া আবর্জনা থেকে এটা-সেটা খেয়ে অসুস্থ হয়ে কয়েকটি গরু মারা গেছে।
এ বিষয়ে রংপুর জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আবু ছাঈদ বলেন, শহরের গবাদি পশুগুলো ইচ্ছা করে আবর্জনা বা প্লাস্টিক খায়- এমনটি নয়। এসব গবাদি পশুর শরীরে ফসফরাসের অভাবে পিকা জাতীয় রোগ হয়ে থাকে। এসব খাওয়ার ফলে অনেক প্রাণী রিকভার হয় না। পশুর খাবার সংকট কমাতে সবুজায়নের বিকল্প নেই। এ ছাড়া জনসচেতনতা দরকার।