যেদিকে চোখ যায় সৌন্দর্যের হাতছানি। গোলাপ থেকে গাঁদা। স্যালভিয়া থেকে গ্ল্যাডিওলাস। দেশি-বিদেশি ফুলের জলসা। ফুলে ফুলে সৌন্দর্য মেলে ধরার প্রতিযোগিতা। দেশ-বিদেশের দর্শনার্থীদের আকর্ষণ করতে ৩৫ প্রজাতির ফুলের এই প্রতিযোগিতা। চোখ আটকানো সৌন্দর্যের এই হাট বসেছে কুমিল্লার বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (বার্ড) ক্যাম্পাসে।
এই মধ্যমাঘেই মনে হবে যেন এসে গেছে ফুলের ঋতু বসন্ত। অফিস আঙিনায় ঢুকতে চোখে পড়ে ফুলের সমারোহ। মহাপরিচালকের কার্যালয়ের সামনে পেছনে তিনটি বাগান। লালমাই ও ময়নামতি মিলনায়তন, প্রশিক্ষণ ভবন, শ্রেণিকক্ষ, পাঠাগারের পাশেসহ রয়েছে আটটি বাগান। বাগানে রয়েছে লাল, সাদা, হলুদ, গোলাপিসহ ১০ রঙের গোলাপ। রয়েছে গাঁদা, রাজ গাঁদা, শিউলি, সূর্যমুখী, ডালিয়ার প্রদর্শনী। এ ছাড়া রয়েছে কৃষ্ণকলি, চন্দ্রমল্লিকা, স্টার ফুল, কসমস, স্যালভিয়া, ডায়ানথাস, জিনিয়া, গ্ল্যাডিওলাসসহ নানা প্রজাতির ফুল। ফুলে ফুলে ঘুরছে মৌমাছি ও প্রজাপ্রতি।
লালমাই ও ময়নামতি মিলনায়তনের পাশে কাজ করছেন মালি ফোরকান আলী। ২৬ বছরের পুরনো বাগানকর্মী ফোরকান আলী বলেন, ফুল গাছকে সন্তানের মতো যত্ন করি। ফুল ফুটলে মনটা ভরে যায়। দেখতে এসে মানুষ বাগানের প্রশংসা করলে বেশি ভালো লাগে। আটটি ফুল বাগানে চারজন কাজ করেন।
পাশের কালিরবাজার থেকে এসেছেন আইয়ুব আলী ও মো. শরীফ। তারা বলেন, বার্ড ক্যাম্পাসে এলে মন ভালো হয়ে যায়। শীতের সময় ফুলে ফুলে ভরে ওঠে ক্যাম্পাস। দেখে চোখে শান্তি লাগে। বার্ডের সহকারী পরিচালক (জনসংযোগ) আবদুল্লা আল মামুন বলেন, সরকারি, বেসরকারি কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধিসহ দেশ-বিদেশের মানুষ বার্ডে আসেন প্রশিক্ষণ নিতে। ক্যাম্পাসের সৌন্দর্য বৃদ্ধির মাধ্যমে আমরা সবার সামনে দৃষ্টিনন্দন বাংলাদেশকে তুলে ধরি। আটটি বাগানে ৫ হাজারের বেশি ফুল গাছ রয়েছে। সারা বছরই ক্যাম্পাসে ফুল থাকে। শীতের সময়ে বেশি ফুল থাকে।
উল্লেখ্য, ১৯৫৯ সালে ১৫৬ একর জায়গায় সমাজবিজ্ঞানী ড. আখতার হামিদ খান গবেষণা প্রতিষ্ঠান বার্ড প্রতিষ্ঠা করেন। এটি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান।