কোনো সম্ভাবনা যাচাই কিংবা পরিকল্পনা ছাড়াই হুটহাট সিদ্ধান্তে সিলেট নগরীর তিনটি স্থানে স্থাপন করা হয়েছিল ‘ফুটওভার ব্রিজ’। ২০১৬ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত ওভারব্রিজ চারটি নির্মাণ করা হলেও এগুলো ব্যবহার করে না কেউ। ওভারব্রিজগুলো কাজে না এলেও সিটি করপোরেশন একের পর এক ‘বিলাসী ওভারব্রিজ’ স্থাপন অব্যাহত রাখে। এখন নগরীর চারটি স্থানে প্রায় সাড়ে ৯ কোটি টাকার ‘ফুটওভার ব্রিজগুলো’ সিটি করপোরেশনের বোঝা হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। সূত্র জানায়, নগরীতে প্রথম ‘ফুটওভার ব্রিজ’ স্থাপন করা হয় ২০১৬ সালে। তৎকালীন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের ইচ্ছায় নগরীর বন্দরবাজারে (কোর্ট পয়েন্টে) ১ কোটি ৬৩ লাখ টাকা ব্যয়ে ওভারব্রিজটি নির্মাণ করে সিটি করপোরেশন। নির্মাণের পর ফুটওভার ব্রিজটি ব্যবহার করেননি পথচারীরা। অব্যবহৃত হিসেবে ওই ব্রিজটি পড়ে থাকাবস্থায় ২০২১ সালে নগরীর টিলাগড়ে এমসি কলেজের সামনে স্থাপিত হয় আরও একটি ‘ফুটওভার ব্রিজ’। ওই ব্রিজে ব্যয় হয় ২ কোটি টাকা। এটিও পড়ে আছে অব্যবহৃত অবস্থায়। পরের বছর ২০২২ সালে কদমতলী হুমায়ূন রশীদ চত্বরের পাশে ২ কোটি ৭৫ লাখ টাকা এবং একই বছর শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের কাছে ৩ কোটি ১৭ লাখ টাকায় আরও দুটি ফুটওভার ব্রিজ স্থাপন করা হয়। সরেজমিন বন্দরবাজারের ফুটওভার ব্রিজে গিয়ে দেখা যায়, এটি ছিন্নমূল শিশু ও মাদকসেবীদের আড্ডাস্থলে পরিণত হয়েছে। মাদকসেবীরা ওভারব্রিজের ওপর বসে ড্যান্ডি নামক মাদক সেবন করছে। এ ছাড়া ছিন্নমূল শিশুদেরও ফুটওভার ব্রিজের ওপরে শুয়ে থাকতে দেখা যায়।
ওভারব্রিজের নিচ দিয়ে রাস্তা পারাপাররত পথচারীদের সঙ্গে আলাপকালে তারা বলেন, ‘এখানে ফুটওভার ব্রিজের কোনো প্রয়োজন ছিল না। কোর্টপয়েন্ট এলাকা ব্যস্ত হলেও মানুষ হেঁটে পার হতে পারেন। ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণ করে সিটি করপোরেশন বিলাসিতার পরিচয় দিয়েছে। এগুলো টাকার অপচয় ছাড়া কিছু নয়।’
এ ব্যাপারে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী নূর আজিজুর রহমান বলেন, ‘ফুটওভার ব্রিজ দিয়ে লোকজন যেভাবে রাস্তা পারাপার করবেন আশা করা হয়েছিল, সেভাবে সাড়া মেলেনি। বন্দরবাজারের ফুটওভার ব্রিজটি অপসারণের জন্য কয়েকবার দরপত্র আহ্বান করেও কাঙ্ক্ষিত মূল্য না পাওয়ায় সেটি বিক্রি করাও সম্ভব হয়নি।’