কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় নগরী থেকে আট কিলোমিটার পশ্চিমে; লালমাই পাহাড়ের কোলে। ১৮ বছর বয়সি বিশ্ববিদ্যালয়টির লক্ষ্য বিশ্বমানে পৌঁছানোর। কোটবাড়ীতে শালবন বিহার ও ময়নামতি জাদুঘরসংলগ্ন বিশ্ববিদ্যালয়টি লালমাটির ক্যাম্পাসে ২০০৭ সালে ৩০০ শিক্ষার্থী ও ১৫ জন শিক্ষক দিয়ে যাত্রা শুরু হয়। বর্তমানে ১৯টি বিভাগে শিক্ষার্থী রয়েছেন ৭ হাজার ১৪১ জন। শিক্ষক ২৬৫ জন। কর্মকর্তা-কর্মচারী ৩০৮ জন। সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে ১ হাজার ৬৫৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ক্যাম্পাস নির্মাণের কাজ চলছে। সেখানে ৩৬টি বহুতল ভবনের পাশাপাশি খেলার মাঠ, জিমনেশিয়াম ও মেডিকেল ভবন নির্মাণের কাজ চলছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে ছয়টি অনুষদের ১৯ বিভাগে ব্যাচেলর অব অনার্স, ইঞ্জিনিয়ারিং, মাস্টার্স ডিগ্রি চালু রয়েছে। নিয়মিত শিক্ষার্থীর পাশাপাশি উইকেন্ড প্রোগ্রাম চালু রয়েছে ইংরেজি, ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদ ও ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদে। শিক্ষার্থীদের সাংগঠনিক দক্ষতা বাড়িয়ে নিতে রয়েছে থিয়েটার কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়, প্রতিবর্তন, গ্রাফিতিভিত্তিক সংগঠন বৃত্ত, অনুপ্রাস কণ্ঠচর্চা কেন্দ্র, ডিবেটিং সোসাইটি, সায়েন্স ক্লাব, প্রকৃতিবিষয়ক সংগঠন অভয়ারণ্য, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ফটোগ্রাফি সোসাইটি, স্বেচ্ছাসেবী রক্তদাতা সংগঠন বন্ধু, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ছায়া জাতি সংস্থা, বিএনসিসি, রোভার স্কাউট, বিশ্ববিদ্যালয় প্রেস ক্লাব ও বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি।
ভারপ্রাপ্ত পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক নুরুল করিম চৌধুরী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রমে গতি আনতে ভিসি, প্রো-ভিসি, ট্রেজারারসহ অন্যরা ক্রাশ প্রোগ্রাম হাতে নিয়েছেন। আমরা দ্রুত সেমিস্টার শেষ করে পরীক্ষা নেওয়ার জন্য কাজ করছি। তিনি বলেন, আমরা দ্বিতীয় সমাবর্তনের প্রস্তুতি নিচ্ছি। ২০২৫ সালের প্রথম দিকে আয়োজন করা যাবে। প্রথম সমাবর্তনে আমরা আটটি ব্যাচকে সনদ দিয়েছি। এবার ৫টি ব্যাচকে দিতে পারব।
কুবির সাবেক সিন্ডিকেট সদস্য প্রফেসর ডা. মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, কোয়ালিটি শিক্ষার দিকে নজর দিতে হবে। শিক্ষার্থী সংখ্যা বাড়াতে হবে। প্রয়োজনে দুই শিফট করা যেতে পারে। সিট কম থাকায় অনেক শিক্ষার্থী বঞ্চিত হচ্ছেন। এখানে কিছু শিক্ষক ও কর্মকর্তা অপরাজনীতিতে জড়িয়ে শিক্ষা ব্যবস্থার অপূরণীয় ক্ষতি করছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. হায়দার আলী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি গবেষণার সংস্কৃতি তৈরি করতে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের গবেষণামুখী করার উদ্যোগ নিয়েছি। কুবিকে বিশ্বমানে উন্নীত ও বিশ্ব পরিমণ্ডলে চেনানোর জন্য কাজ করছি। আমাদের শিক্ষার্থীরা দেশের বাইরে গেলে যেন মূল্যায়ন পায়। আমাদের প্রযুক্তিবিষয়ক আরও উন্নতি প্রয়োজন। তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে গতি আনতে আমরা কাজ করছি। এ ছাড়া শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতি প্রতিরোধে আমরা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। দায়িত্ব সঠিকভাবে পরিচালনা করতে না পারলে ছেড়ে দেওয়ার প্রস্তুতি আছে বলেও জানান তিনি।