ওয়েব অ্যাপ্লিকেশনের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো- আপনাকে অ্যাপ্লিকেশনগুলো নতুন করে ডাউনলোড করতে হচ্ছে না, এমনকি তা ইনস্টলও করতে হচ্ছে না। যার ফলে ইন্টারনেট এবং সময়; উভয়ই বেঁচে যাচ্ছে। এ ছাড়া আপনার স্মার্টফোনের স্টোরেজও বেঁচে যাচ্ছে...
‘ওয়েব অ্যাপ্লিকেশন’
আপনার স্মার্টফোনে প্রচুর ডেটা খরচ হয় কিংবা অনুপ্রবেশকারীর জন্য সুরক্ষাহীনতায় ভোগেন- এমন অ্যাপ ইনস্টল করার প্রয়োজন নেই। তবে অনেক ক্ষেত্রে ওয়েব অ্যাপ্লিকেশন ঠিক ততটাই ভালো, কেননা- এটি আপনাকে অবিরাম ডুমস্ক্রোলিং কমাতে সাহায্য করে।
আমাদের স্মার্টফোনে থাকা অ্যাপগুলোকে নেটিভ অ্যাপ বলা হয়। এগুলো নির্দিষ্ট ডিভাইস বা অপারেটিং সিস্টেমের জন্য তৈরি। যা সরাসরি ডিভাইসের সফটওয়্যার বা হার্ডওয়্যারের সঙ্গে ইন্টারঅ্যাক্ট করতে পারে। ফলে অ্যাপ কোম্পানিগুলোকে অবস্থান, মাইক্রোফোনের অডিও শোনা, ছবি এবং ভিডিও দেখা, কনট্যাক্ট লিস্ট অ্যাক্সেস, এমনকি আপনার স্পর্শের অঙ্গভঙ্গি এবং ইন-অ্যাপ ইন্টারঅ্যাকশন রেকর্ড, মেসেজ, ইমেল এবং স্ক্যান করা চেহারা বা আঙুলের ছাপ সংগ্রহ করার অনুমতি দেয়। এ ছাড়াও কিছু নেটিভ অ্যাপে এমবেডেড ওয়েব ব্রাউজার থাকে, যা সেগুলোকে হাইব্রিড অ্যাপ্লিকেশন করে তোলে। আপনি যদি ইনস্টাগ্রামের নেটিভ অ্যাপ ব্যবহারের সময় ভুলবশত বিজ্ঞাপনে ট্যাপ করেন, তাহলে আপনি ইন-অ্যাপ ওয়েব ব্রাউজার অ্যাক্সেস দিলেন। এমনটি থেকে সাবধান থাকুন। কারণ- অ্যাপগুলো ডেটা সংগ্রহ করছে।
‘ওয়েব অ্যাপ্লিকেশন’ কী?
ওয়েব অ্যাপ্লিকেশনগুলো কেবল একটি অনলাইন প্ল্যাটফরম বা পরিষেবার সংস্করণ, যা ওয়েব ব্রাউজারে অ্যাক্সেস (যা সাধারণত দূরবর্তী সার্ভারে সংরক্ষিত থাকে এবং ব্যবহারকারীরা ওয়েব ব্রাউজার ব্যবহারের মাধ্যমে) করতে পারে। এ জন্য অবশ্য আপনার কম্পিউটার কিংবা অন্যান্য ডিভাইসে ওয়েব অ্যাপ ইনস্টলেশনের প্রয়োজন নেই। আপনি যে প্ল্যাটফরম বা পরিষেবাটি অ্যাক্সেস করতে চান তার জন্য আপনার ডিভাইসে ব্রাউজারটি খুলে এবং ওয়েবসাইটটিতে গিয়ে ওয়েব অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার করতে পারবেন। যেমন : গান শোনার জন্য অ্যাপ্লিকেশন, ভিডিও দেখার জন্য অ্যাপ্লিকেশন, ওয়েব ব্রাউজ করার জন্য অ্যাপ্লিকেশন। মূলত- ব্রাউজারের মধ্যে অ্যাপের কার্যকলাপ রাখলে কোম্পানিগুলোর জন্য আপনার সম্মতি ছাড়া ব্যক্তিগত ডেটা সংগ্রহ করা কঠিন হয়ে পড়ে। শীর্ষস্থানীয় এআই চ্যাটবটগুলোর গোপনীয়তা নীতি এবং প্রতিবেদন পরীক্ষা করার পর, আমি লক্ষ্য করেছি যে অ্যাপ ডেটা সংগ্রহের মধ্যে প্রায়শই আপনার স্মার্টফোন বা ট্যাবলেটের কনট্যাক্ট লিস্ট থেকে শুরু করে মাইক্রোফোন অডিও- সব অন্তর্ভুক্ত থাকে। আজকের বিশ্বে অপরাধীচক্র এ সুযোগটি কাজে লাগায়। এই যুগে অপরাধীরা ভয়াবহ অনলাইন স্ক্যামের জন্য যখন এআই-জেনারেটেড ডিপফেক ব্যবহার করছে, তখন আপনার ব্যক্তিগত ডেটা অবশ্যই, যেমন : ছবি এবং ভিডিও, আপনার ডিভাইসে (সম্ভব হলে, অফলাইনে) রাখতে হবে। একবার সেই ডেটা অনলাইনে চলে গেলে, তা যে কারও জন্য সহজলভ্য হয়ে যায়।
অন্যদিকে-প্রোগ্রেসিভ ওয়েব অ্যাপস (পিডব্লিউএ)-এর উন্নয়নের কারণে ওয়েব অ্যাপের জনপ্রিয়তা বছরের পর বছর ধরে বেড়েছে, যা সাইটগুলোকে দ্রুত লোড হতে এবং বিভিন্ন ডিভাইসে ব্যবহারকারী-বান্ধব থাকতে দেয়। এর মানে হলো যে পুশ নোটিফিকেশন পেতে বা অ্যাক্সেসিবিলিটি ফাংশন ব্যবহার করতে আপনাকে সবসময় নেটিভ অ্যাপ ডাউনলোড করতে হবে না, যা অ্যাপগুলোকে ব্যবহার সহজলভ্য করে।
ওয়েব অ্যাপ কি সুবিধাজনক?
একটু ইনস্টাগ্রামের দিকে তাকানো যাক- মোবাইল ওয়েব অ্যাপ আপনার ফিড, স্টোরিজ, ফলোয়ারদের রিলস এবং পোস্ট তৈরি করার জন্য দুর্দান্ত, তবে আপনি আপনার স্টোরিজে পোস্ট করতে পারবেন না। আপনি যদি শুধু কাজের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করেন, তাহলে সোশ্যাল প্ল্যাটফরমের ওয়েব অ্যাপ সংস্করণের সীমিত ব্যবহার ঠিক আছে। আপনি যদি নিজেকে সোশ্যাল মিডিয়ার একজন প্রভাবশালী ব্যক্তি মনে করেন, তাহলে অ্যাপের মোবাইল ওয়েব সংস্করণ আপনার প্রয়োজনের জন্য যথেষ্ট নাও হতে পারে।
মোবাইল ওয়েব অ্যাপ সাধারণত ডেস্কটপগুলোর চেয়ে খারাপ হয়
কিছু ওয়েব অ্যাপ আপনাকে মোবাইল ডিভাইসে ওয়েব অ্যাপের মোবাইল বা ডেস্কটপ সংস্করণ ব্যবহার করার অনুমতি দেয়। সবসময় ডেস্কটপ সংস্করণ ব্যবহার করুন! উদাহরণস্বরূপ, ফেসবুক মোবাইল ওয়েব অ্যাপের মাধ্যমে চ্যাট ফাংশন অ্যাক্সেস করা কঠিন করে তোলে, কিন্তু আমি দেখেছি যে আমার ফোনে ডেস্কটপ সংস্করণ লোড করলে আমি মেসেঞ্জার ব্যবহার করে চ্যাট করতে পারি।
কীভাবে বুঝবেন! কোন অ্যাপ রাখা উচিত
যদি আপনার অপ্রয়োজনীয় অ্যাপের তালিকা সংকুচিত করতে সমস্যা হয়, মনে রাখবেন যে আপনি চাইলে পরে এগুলো আবার ইনস্টল করতে পারবেন। এ পর্যন্ত, আমি শুধু একটি স্ট্যান্ড alone অ্যাপ পুনরায় ইনস্টল করি। এমনকি আপনি যদি আপনার প্রধান ডিভাইস থেকে সব অ্যাপ মুছে না দেন, তবুও আপনার সেকেন্ডারি ডিভাইসে ওয়েব অ্যাপ ব্যবহার করার কথা বিবেচনা করুন। উদাহরণস্বরূপ, আপনার ট্যাবলেটে একমাত্র নেটিভ অ্যাপ হলো- সেইগুলো যার জন্য আপনি অর্থ খরচ করেছেন। যা আপনার শখের জন্য অপরিহার্য, যেমন কিউবেস বা প্রোক্রিয়েট।
প্রয়োজনীয় অ্যাপ মুছে ফেললে কী হবে?
আপনার ফোনে বর্তমানে থাকা বেশির ভাগ অ্যাপ সম্ভবত খুব প্রয়োজনীয় নয়, তবে সবকিছু মুছে ফেলার আগে আপনার তালিকার হিসাব নেওয়া উচিত। গত এক মাসে আপনি যে অ্যাপগুলো ব্যবহার করেননি সেগুলো আনইনস্টল করে শুরু করুন। আপনার দুটি ডিভাইস থেকে পাসওয়ার্ড ম্যানেজার অ্যাপ মুছে ফেলার কিছুক্ষণ পরই, আপনি- ঠিক সময়ে বুঝতে পারলেন যে, আপনার অ্যাকাউন্টের জন্য মাল্টি-ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশনের একটি নতুন ফর্ম সেটআপ না করা পর্যন্ত আপনাকে অ্যাপটি আপনার প্রধান ফোনে রাখতে হবে। অন্যথায়, আমার পরিচয় যাচাই করার কোনো উপায় থাকবে না এবং আপনি অ্যাকাউন্টে প্রবেশাধিকার হারাবেন। যদি অ্যাপটি ইউটিলিটি বা credential ম্যানেজমেন্ট অ্যাপ হয়, তাহলে সেই ডেটার ব্যাক আপ নিন এবং ক্লাউড স্টোরেজ পরিষেবা ব্যবহার করে নিরাপদে স্টোর করুন অথবা ফাইলগুলো অফলাইনে এক্সটার্নাল হার্ড ড্রাইভে স্টোর করুন।
বিডি প্রতিদিন/এমআই