মেঘালয়ের রাজধানী শিলংয়ের জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়াম প্রস্তুত। প্রস্তুত বাংলাদেশ এবং ভারতের ফুটবল দল। অপেক্ষায় দুই দেশের সমর্থকরা। সবকিছু চূড়ান্ত। এবার অপেক্ষা মাঠের লড়াইয়ের।
মঙ্গলবার বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় এএফসি এশিয়ান কাপ বাছাই পর্বের ম্যাচে মুখোমুখি হচ্ছে বাংলাদেশ-ভারত। জিতলেই চূড়ান্ত পর্বের পথে এক ধাপ এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ। এমন সুযোগ কাজে লাগাতে কঠোর অনুশীলনে নিজেদের প্রস্তুত করে নিয়েছে দল দু’টি।
ম্যাচটিতে হামজা চৌধুরীকে নিয়ে ভীষণ আশাবাদী জামাল ভূঁইয়ারা। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে খেলা এই তারকা নতুন পথ দেখাতে পারেন বাংলাদেশের ফুটবলকে। দেখাতে পারেন বিজয়ের পথ। হামজাকে ঠেকাতে ভারত দলে ফিরিয়েছে সুনীল ছেত্রীকে। তার অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে সফল হতে চায় দলটি। গত কয়েক সপ্তাহে তর্কবিতর্কে বাংলাদেশ-ভারত ম্যাচটা হয়ে উঠেছে এক ভিন্ন লড়াই। এটা আর এখন কেবল ফুটবলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই!
বাংলাদেশের সমর্থকরা স্বপ্ন দেখছেন, হামজা চৌধুরীর হাত ধরেই ফিরবে ফুটবলের সোনালি দিন। ভারত ম্যাচ দিয়েই নতুন দিগন্তের উন্মোচন হবে। কেবল সমর্থকরাই নয়, ফুটবলারদের মনেও নতুন আশা উঁকি দিয়েছে। জামাল ভূঁইয়া যেমন সংবাদ সম্মেলনে বলেই দিলেন, দলের সবার মধ্যেই আছে জয়ের আশা। সে আশাই পূরণ করার দিন আজ।
স্প্যানিশ কোচ হাভিয়ের কাবরেরার অধীনে বাংলাদেশ ২৯টি ম্যাচ খেলেছে। এর মধ্যে মাত্র ৮ ম্যাচে জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছে লাল-সবুজের জার্সিধারীরা। ড্র করেছে ৬টিতে। বাকি ১৫টিতেই হেরেছে। সফলতার হার ২৭ দশমিক ৫৯ শতাংশ। বাংলাদেশ জাতীয় দলের কোচদের মধ্যে ঠিক ২৯ ম্যাচে দায়িত্ব পালন করেন ইংলিশ কোচ জেমি ডে। তিনি ২৯ ম্যাচের মধ্যে ৯ ম্যাচে দলকে জয় উপহার দিয়েছেন। ড্র এনে দিয়েছেন ৫টিতে। পরাজয়ের সংখ্যা কাবরেরার সমান ১৫টি। জেমি ডের সফলতার হার ছিল ৩১ দশমিক শূন্য তিন শতাংশ। আজকের ম্যাচেই রেকর্ড গড়তে চলেছেন কোচ কাবরেরা। সর্বোচ্চ ৩০ ম্যাচে কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে যাচ্ছেন তিনি।
ভারতের স্প্যানিশ কোচ মানোলো মার্কেজ গত বছর দায়িত্ব নিয়েছেন। এরপর থেকে প্রথম চার ম্যাচে দলকে কোনো জয় উপহার দিতে পারেননি। চার ম্যাচের একটিতে হার ও তিনটিতে ড্র। দিন কয়েক আগে মালদ্বীপের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে দলকে প্রথম জয় উপহার দিয়েছেন মানোলো। দু’জন কোচই স্পেনের। একজন বার্সেলোনার (মানোলো)। অন্যজন মাদ্রিদের (কাবরেরা)। দুই ধরনের ফুটবল দর্শন দুই কোচের। তবে প্রয়োজনে নির্দিষ্ট ছকেও পরিবর্তন আনতে পারেন দু’জনেই। আজ ভারতের বিপক্ষে ম্যাচে কাবরেরা কোন ফরমেশনে দল সাজাবেন নিশ্চিত করে বলার উপায় নেই। তবে তার পরিকল্পনার কেন্দ্রে থাকছেন হামজা দেওয়ান চৌধুরী।
ইংল্যান্ডের ক্লাব ফুটবলে ডিফেন্ডার এবং ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার হিসেবেই খেলেন হামজা। তবে কাবরেরা হামজাকে পুরোদস্তুর মিডফিল্ডার হিসেবেই খেলাবেন। ডিফেন্সে তপু বর্মণ, তারিক কাজী ও ইসা ফয়সালের সঙ্গে থাকতে পারেন সাদ কিংবা শাকিল। মিডফিল্ডে হামজার সঙ্গে খেলতে পারেন সোহেল-জামাল। ফরোয়ার্ড লাইনে থাকতে পারেন রাকিব, মোরসালিন ও ইব্রাহিম। গোলবারের সামনে মিতুল মারমাই প্রথম পছন্দ। ভারতীয় দল সুনীল ছেত্রীকে কেন্দ্র করেই গড়ে তুলবেন কোচ মানোলো। মালদ্বীপের বিপক্ষে গত ১৯ মার্চের ম্যাচে দলকে নেড়েচেড়ে নিয়েছেন তিনি। সেই ম্যাচে রাহুল ও লিস্টনের পাশাপাশি গোল করেছেন সুনীল ছেত্রীও। বাংলাদেশের বিপক্ষেও আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলবে ভারত।
গতকাল সংবাদ সম্মেলনে মানোলো এমনটাই বলেছেন। প্রতিপক্ষ ভেদে তিনি দলের ফুটবল দর্শন পরিবর্তন করবেন না। অবশ্য দলে পরিবর্তন আনতে পারেন মানোলো। কারণ মালদ্বীপের বিপক্ষে ম্যাচে ইনজুরিতে পড়েছেন দলের গুরুত্বপূর্ণ মিডফিল্ডার ব্রেন্ডন ফার্নান্দেজ। তার স্থানে কে আসবে বলা কঠিন। উদান্তা সিং অথবা তরুণ ম্যাকারটন হতে পারেন ব্রেন্ডনের বিকল্প।
বাংলাদেশ ও ভারত ফুটবল নিয়ে অতীতে ৩১ বার লড়াইয়ে নেমেছে। এর মধ্যে ১৬ বারই জয় পেয়েছে ভারত। ১৩ বার ড্র হয়েছে। মাত্র দু’বার জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। ভারতের বিপক্ষে শেষ জয় এসেছে দুই দশকেরও বেশি সময় আগে। অবশ্য গত এক যুগে বাংলাদেশের বিপক্ষে মাত্র একবারই জয় পেয়েছে ভারত (২০২১ সালে)। এই সময়ের মধ্যে পাঁচবারের মুখোমুখিতে চারবারই ড্র করেছে দুই দল। ২০১৯ সালে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের ম্যাচে ভারতের বিপক্ষে জয়ের খুব কাছে গিয়েও ড্র করেছে বাংলাদেশ। এবার কি অতীতের গতিপথ বদলে দিতে পারবেন হাভিয়ের কাবরেরা?
বিডি-প্রতিদিন/বাজিত