ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো মানুষের বাড়ি- গাড়ির চাহিদা পূরণে ঋণ দিচ্ছে। প্রাইম ব্যাংক পিএলসি. ভোক্তার চাহিদা পূরণে গৃহঋণ দিচ্ছে। এসব বিষয়ে বাংলাদেশ প্রতিদিনের সঙ্গে কথা বলেছেন প্রাইম ব্যাংক পিএলসি-এর ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর (ডিএমডি) মো. নাজিম এ চৌধুরী। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন - শাহেদ আলী ইরশাদ।
বাংলাদেশ প্রতিদিন : মানুষের মৌলিক চাহিদা ‘বাসস্থান’ নিশ্চিতে ব্যাংকগুলোর ভূমিকা কী?
মো. নাজিম এ চৌধুরী : মানুষের মৌলিক চাহিদার অন্যতম হলো বাসস্থান। মানুষ তার নিজের বাসস্থান নিশ্চিত করতে বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করে। তবে বর্তমান সময়ে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান মানুষের এ চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। প্রাইম ব্যাংক পিএলসি. মানুষের এ চাহিদা পূরণে গ্রাহকদের গৃহঋণ বা হোম লোন দিচ্ছে। মানুষের প্রয়োজন অনুযায়ী নিজস্ব বাসস্থান নির্মাণ, ক্রয় বা সংস্কারের জন্য মূলত এসব ঋণ দেওয়া হয়। আমাদের উদ্ভাবনী ঋণ সেবা এবং সহজ শর্তাবলি গ্রাহকদের স্বপ্নের বাড়ি নির্মাণকে আরও সহজতর করে তোলে। সহজ প্রক্রিয়া, প্রতিযোগিতামূলক সুদের হার এবং দীর্ঘমেয়াদি ঋণ পরিশোধের সুবিধা দিয়ে আমরা গ্রাহকদের আর্থিক চাপ কমাতে সহায়তা করি। আমাদের বিশেষজ্ঞ ব্যাংক কর্মকর্তাগণ গ্রাহকদের প্রয়োজন অনুযায়ী সর্বোচ্চ সমাধান প্রদান করেন, যার ফলে প্রাইম ব্যাংকের গ্রাহকরা সহজেই তাদের স্বপ্নের বাসস্থান সুনিশ্চিত করতে পারেন। বিভিন্ন হোম লোন প্রোগ্রামের মাধ্যমে প্রাইম ব্যাংকের গ্রাহকরা সর্বোচ্চ ২ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ সুবিধা লাভ করতে পারেন, যা ৩ থেকে ২৫ বছরের মধ্যে পরিশোধের সুব্যবস্থা রয়েছে।
বাংলাদেশ প্রতিদিন : চাহিদার তুলনায় ব্যাংক ঋণের পরিমাণ কি বাড়ানো উচিত?
মো. নাজিম এ চৌধুরী : আবাসন খাতে ক্রমবর্ধমান চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে ব্যাংকগুলো গ্রাহকদের চাহিদা ও সক্ষমতা বিবেচনা করে ঋণের পরিমাণ নির্ধারণ করে। তবে বাজারের চাহিদা ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি অনুযায়ী ঋণের সীমা পুনর্বিবেচনা করা যেতে পারে, যেন আরও বেশি মানুষ আবাসন সুবিধা গ্রহণ করতে পারেন। প্রাইম ব্যাংক এ বিষয়ে সচেতন এবং আমরা আমাদের ঋণ সুবিধা সম্প্রসারণের মাধ্যমে আরও বেশিসংখ্যক গ্রাহককে সেবা প্রদান করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে ঋণ প্রদানের ক্ষেত্রে ঝুঁকি ব্যবস্থাপনাও গুরুত্বপূর্ণ এবং আমরা সব সময় সুস্থ আর্থিক নীতি মেনে চলার পক্ষে।
বাংলাদেশ প্রতিদিন : আপনাদের প্রতিষ্ঠানের হোম লোনের সুদহার কত?
মো. নাজিম এ চৌধুরী : প্রাইম ব্যাংকের হোম লোনের সুদের হার বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং প্রতিযোগিতামূলক। প্রাইম ব্যাংকের হোম লোনের রিটার্ন হার নির্ভর করে ঋণের প্রকারভেদ, গ্রাহকের ক্রেডিট স্কোর এবং অন্যান্য শর্তাবলির ওপর। সাধারণত রিটার্ন হার ১০.৫০ থেকে ১২.৫০-এর মধ্যে থাকে, তবে এটি গ্রাহকের প্রোফাইল, ঋণের পরিমাণ এবং পরিশোধের মেয়াদের ওপর নির্ভর করে পরিবর্তিত হতে পারে। গ্রাহকদের সক্ষমতার কথা বিবেচনা করে ব্যাংকগুলো সুদের হার নির্ধারণ বা সমন্বয় করতে পারে।
বাংলাদেশ প্রতিদিন : ব্যাংক লোন নিতে অনেক ঝামেলা পোহাতে হয় বলে গ্রাহকদের অভিযোগ আছে। এটা কতটুকু সঠিক?
মো. নাজিম এ চৌধুরী : প্রাইম ব্যাংক গ্রাহকদের জন্য ঋণ প্রক্রিয়াকে যতটা সম্ভব সহজ এবং দ্রুত করতে সচেষ্ট। আমাদের ডিজিটাল প্ল্যাটফরম এবং প্রশিক্ষিত কর্মীরা ন্যূনতম কাগজপত্র এবং দ্রুত ঋণ অনুমোদনের সুবিধা দিয়ে গ্রাহকদের সহায়তা করে, যার ফলশ্রুতিতে গ্রাহক ঝামেলামুক্তভাবে দ্রুত সময়ের মধ্যে ঋণ সুবিধা গ্রহণ করতে পারেন। তবে গৃহঋণ প্রদানের ক্ষেত্রে কিছু নিয়মিত যাচাইবাছাই প্রক্রিয়া রয়েছে। যা গ্রাহক ও ব্যাংক উভয়ের সুরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয়।
বাংলাদেশ প্রতিদিন : বর্তমানে ব্যাংকগুলো ব্যক্তিগত আবাসন ঋণ নাকি যৌথ আবাসন ঋণ দিতে বেশি আগ্রহী?
মো. নাজিম এ চৌধুরী : ব্যাংকগুলো ব্যক্তি এবং যৌথ উভয় ধরনের আবাসন প্রকল্পে সমানভাবে আগ্রহী। প্রাইম ব্যাংক ব্যক্তি গ্রাহকদের জন্য গৃহঋণ এবং ডেভেলপারদের জন্য প্রকল্প ঋণ প্রদান করে। এতে সাধারণ মানুষ তাদের নিজস্ব বাসস্থান প্রাপ্তির পাশাপাশি আবাসন খাতের উন্নয়নও ত্বরান্বিত হয়।
বাংলাদেশ প্রতিদিন : আপনাদের ব্যাংক মোট ঋণের কত ভাগ আবাসন খাতে লোন দেয়?
মো. নাজিম এ চৌধুরী : প্রাইম ব্যাংকের মোট ঋণের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ আবাসন খাতে বরাদ্দ করা হয়। যদিও সঠিক পরিসংখ্যান সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হতে পারে, তবে আমরা গ্রাহকদের আবাসন চাহিদা পূরণে সর্বোচ্চ গুরুত্ব প্রদান করি।
বাংলাদেশ প্রতিদিন : আবাসনের সঙ্গে গাড়ির চাহিদাও অনেক বেড়েছে মানুষের। গাড়ি কেনার ক্ষেত্রে আপনাদের ব্যাংক গ্রাহকদের কীভাবে সহায়তা করে?
মো. নাজিম এ চৌধুরী : মানুষের জীবনযাত্রা উন্নত হওয়ায় প্রয়োজনীয় পণ্যের চাহিদা ক্রমাগত বাড়ছে। বর্তমানে পরিবার সদস্যদের যাতায়াতের সুবিধার কথা চিন্তা করে অনেকে নিজেদের গাড়ি ক্রয় করে থাকেন। নিজের গাড়ি ক্রয়ের ক্ষেত্রেও প্রাইম ব্যাংক গ্রাহকদের জন্য আকর্ষণীয় কার লোন প্রোগ্রামের মাধ্যমে সর্বোচ্চ ৬০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ প্রস্তাব করে। প্রতিযোগিতামূলক সুদের হার, সহজ কিস্তি এবং দ্রুত প্রক্রিয়াকরণের মাধ্যমে আমরা গ্রাহকদের তাদের পছন্দের গাড়ি ক্রয়ে সহায়তা করি। আমাদের প্রশিক্ষিত কর্মীরা গ্রাহকদের প্রয়োজন অনুযায়ী সেরা সমাধান প্রদান করে।
বাংলাদেশ প্রতিদিন : নতুন গাড়ি ছাড়া ব্যাংকগুলো ঋণ দিতে চায় না। বাজার বিবেচনায় নিয়ে ব্যাংকগুলোর সেকেন্ড হ্যান্ড গাড়ি ক্রয়ে ঋণ দেওয়া কি সম্ভব?
মো. নাজিম এ চৌধুরী : গ্রাহক চাহিদা পর্যালোচনার মাধ্যমে আমরা দেখেছি যে অনেক গ্রাহক সেকেন্ড হ্যান্ড গাড়ি ক্রয়ের ব্যাপারে আগ্রহী। সাধারণত ব্যাংকগুলো নতুন গাড়ি ক্রয়ের জন্য ঋণ প্রদান করে, তবে গ্রাহকদের চাহিদা ও বাজার পরিস্থিতি বিবেচনা করে সেকেন্ড হ্যান্ড গাড়ি ক্রয়ের জন্য ঋণ প্রদানের বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে। আমরা চেষ্টা করি গ্রাহকদের জন্য সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করতে।
বাংলাদেশ প্রতিদিন : আবাসন ঋণ এবং গাড়ি ক্রয়ের ক্ষেত্রে ঋণের ওপর সুদের হার অনেক বেশি?
মো. নাজিম এ চৌধুরী : প্রাইম ব্যাংক সর্বদা চেষ্টা করে গ্রাহকদের জন্য প্রতিযোগিতামূলক সুদের হার প্রদান করতে। সাধারণত সুদের হার নির্ধারণ করা হয় বাজারের অবস্থা, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতি এবং অর্থনীতির অন্যান্য সূচকের ওপর ভিত্তি করে। আমরা বিশ্বাস করি যে, সুদের হার গ্রাহকদের আর্থিক সক্ষমতার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ হওয়া উচিত।
বাংলাদেশ প্রতিদিন : আবাসন এবং গাড়ির ঋণের ক্ষেত্রে আপনাদের নতুন কোনো পরিকল্পনা আছে কি না?
মো. নাজিম এ চৌধুরী : হ্যাঁ, প্রাইম ব্যাংক সর্বদা গ্রাহকদের চাহিদা ও বাজারের পরিবর্তনশীলতা বিবেচনা করে নতুন পণ্য ও সেবা সুবিধা প্রবর্তনে সচেষ্ট। আমরা ডিজিটাল প্ল্যাটফরমের মাধ্যমে ঋণ প্রক্রিয়া সহজতর করছি এবং গ্রাহকদের জন্য আরও সুবিধাজনক শর্তাবলি নিয়ে কাজ করছি। সে বিবেচনায় ভবিষ্যতে প্রাইম ব্যাংক কিছু নতুন ঋণ পরিকল্পনা চালু করার বিষয়ে কাজ করবে, যা গ্রাহকদের চাহিদা পূরণে সহায়ক হবে।
বাংলাদেশ প্রতিদিন : মানুষের এই মৌলিক চাহিদা পূরণে ব্যাংকগুলোর ভূমিকা আরও সহজ করা সম্ভব কি না?
মো. নাজিম এ চৌধুরী : আমাদের লক্ষ্য গ্রাহকদের জন্য সেবা প্রাপ্তি সহজ ও সুবিধাজনক করা। প্রাইম ব্যাংক ডিজিটাল ব্যাংকিং পরিষেবা এবং দ্রুত প্রক্রিয়াকরণের মাধ্যমে সেবা প্রদানের প্রক্রিয়াকে সহজ করছে। গ্রাহকদের সুবিধার জন্য আমরা আরও উদ্ভাবনী সেবা চালু করার পরিকল্পনা করছি, যার ফলে তারা তাদের মৌলিক চাহিদা পূরণ ও জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে আমাদের ওপর আরও বেশি নির্ভর করতে পারেন। প্রাইম ব্যাংক গ্রাহকদের মৌলিক চাহিদা পূরণে সর্বদা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।