দুর্নীতি প্রতিরোধ করতে সুপ্রিম কোর্টের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কাজের দক্ষতা ও মান বৃদ্ধিতেও ভূমিকা রাখবে এ প্রশিক্ষণ।
২৩ মার্চ থেকে বেঞ্চ অফিসার ও সহকারী বেঞ্চ অফিসারদের জন্য তিন দিনব্যাপী প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে অন্যদেরও প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হবে। জনগণকে সহজভাবে সেবা দিতে প্রধান বিচারপতি ঘোষিত ১২ দফা নির্দেশনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এ প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে বাংলাদেশ প্রতিদিনকে জানিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের কর্মকর্তারা।
জানা গেছে, বর্তমানে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাই কোর্ট বিভাগে ৩৮ এবং আপিল বিভাগে ১৯টি শাখা রয়েছে। একজন রেজিস্ট্রার জেনারেল, চারজন রেজিস্ট্রার, চারজন অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার, একজন স্পেশাল অফিসার, ১২ জন ডেপুটি রেজিস্ট্রার, ২০ জন সহকারী রেজিস্ট্রার, ১২৫ জন বেঞ্চ অফিসার ও ১১৫ জন সহকারী বেঞ্চ অফিসারসহ বিভিন্ন কোর্ট ও শাখায় মোট ২ হাজার ৫০০ কর্মকর্তা-কর্মচারী সুপ্রিম কোর্টে কর্মরত রয়েছেন।
প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ শপথ নেওয়ার পর তাঁর সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে নিজেদের বক্তব্যে সুপ্রিম কোর্টের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দুর্নীতি-অনিয়মের বিষয়ে অভিযোগ তুলে ধরেন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও অ্যাটর্নি জেনারেল। ওইদিন প্রধান বিচারপতিও তাঁর বক্তব্যে বলেন, কোনো অন্যায়কে ছাড় দেওয়া হবে না। এরপর গত বছর ১৮ সেপ্টেম্বর সুপ্রিম কোর্টের সহকারী রেজিস্ট্রার থেকে ওপরের পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সেবার মান বৃদ্ধি ও স্বচ্ছতা-জবাবদিহি নিশ্চিতে ১২ দফা নির্দেশনা ঘোষণা দেন প্রধান বিচারপতি। পরে ওই ১২ দফা বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে সুপ্রিম কোর্টের সব শ্রেণির কর্মকর্তা-কর্মচারীর উদ্দেশে নোটিস আকারে জারি করা হয়।
প্রশিক্ষণের বিষয়ে জানতে চাইলে সুপ্রিম কোর্টের মুখপাত্র ও স্পেশাল অফিসার মো. মোয়াজ্জেম হোছাইন বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘প্রধান বিচারপতি ঘোষিত ১২ দফা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সুপ্রিম কোর্টের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাজের দক্ষতা, মান বৃদ্ধি ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে বিশেষ প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রধান বিচারপতির ঘোষিত সেই ১২ দফা নির্দেশনা হচ্ছে- দায়িত্ব পালনে কোড অব কন্ডাক্ট যথাযথভাবে পালন করতে হবে। যে কোনো প্রকার আর্থিক লেনদেন সম্পূর্ণভাবে বর্জন করতে হবে। সেবাগ্রহীতাকে দ্রুত সময়ের মধ্যে সেবা নিশ্চিত করতে হবে। সেবা প্রদানের সময় কোনোরকম বিলম্ব করা যাবে না। সেবাগ্রহীতাদের কোনো প্রকার হয়রানি করা যাবে না। সুপ্রিম কোর্টের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সেবাগ্রহীতাদের সঙ্গে সহানুভূতিশীল আচরণ করতে হবে।
প্রধান বিচারপতির ১২ দফায় আরও বলা হয়, প্রতিটি শাখায় প্রতিদিনের কাজ প্রতিদিন সম্পন্ন করতে হবে এবং কোনো কাজ পেন্ডিং রাখা যাবে না। প্রতি শাখার সহকারী রেজিস্ট্রার এবং ডেপুটি রেজিস্ট্রারদের তাঁদের দায়িত্বপ্রাপ্ত শাখাগুলোয় প্রতিদিন সরেজমিনে মনিটর করতে হবে। প্রতি শাখার সহকারী রেজিস্ট্রার এবং ডেপুটি রেজিস্ট্রাররা তাঁদের দায়িত্বপ্রাপ্ত শাখার কার্যক্রম সম্পর্কে স্ব স্ব অতিরিক্ত রেজিস্ট্রারদের নিয়মিত অবহিত করতে হবে। প্রতি চার সপ্তাহ পরপর অতিরিক্ত রেজিস্ট্রারগণ মনিটরিং কার্যক্রমের প্রতিক্রিয়া ও ফলাফল আপিল বিভাগ ও হাই কোর্ট বিভাগের রেজিস্ট্রারের কাছে রিপোর্ট করবেন। যদি কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী আচরণবিধি এবং নির্দেশনার ব্যত্যয় ঘটিয়ে কোনো সেবাগ্রহীতাকে হয়রানি বা আর্থিক লেনদেন করেন তাহলে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে উল্লেখ করা হয় প্রধান বিচারপতির ১২ দফায়।
এই১২ দফা বাস্তবায়নে লক্ষ্যে প্রতিটি শাখার সামনে প্রকাশ্য স্থানে সেবাগ্রহীতাদের অধিকারসংক্রান্ত সিটিজেন চার্টার প্রদর্শনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি অভিযোগ ও পরামর্শ বক্স স্থাপন করতে বলা হয় সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনায়।