এবার বেশ কিছু আমেরিকান পণ্যের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত নিল চীন। সেই তালিকায় যেমন আছে খাদ্যপণ্য, তেমন আছে বস্ত্রও। অনেকের মতে, এর মধ্যদিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে পাল্টা জবাব দিলেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং।
মঙ্গলবার চীনের অর্থ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বিবৃতি জারি করে মার্কিন পণ্যের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের কথা জানানো হয়েছে।
সেই বিবৃতিতে বলা হয়েছে, কোনও পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ, আবার কোনও পণ্যের ওপর ১৫ শতাংশ শুল্ক বৃদ্ধি করা হবে। আগামী ১০ মার্চ থেকে তা কার্যকর হবে।
অতীতেও বেশ কিছু মার্কিন পণ্যের ওপর আমদানি শুল্ক বৃদ্ধির কথা ঘোষণা করে চীন। আমেরিকা থেকে আসা কয়লা ও প্রাকৃতিক গ্যাসের ওপর ১৫ শতাংশ এবং অপরিশোধিত তেল, কৃষি সরঞ্জাম ও বড় গাড়ির ওপর অতিরিক্ত ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করার কথা ঘোষণা করা হয়।
এবার আরও কয়েকটি পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপের কথা জানাল বেইজিং। বিবৃতি অনুযায়ী, সয়াবিন, শূকরের মাংস এবং অন্যান্য পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ এবং আমেরিকা থেকে আমদানিকৃত মুরগির মাংস, গম, ভুট্টা এবং তুলার ওপর ১৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে।
দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই ট্রাম্পের একের পর এক সিদ্ধান্ত নিয়ে আলোচনা হচ্ছে বিশ্বজুড়ে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করেছিলেন, আমদানি শুল্কের বিষয়ে তিনি কখনওই নমনীয় হবেন না। ‘টিট ফর ট্যাট’ নীতি অনুসরণ করার কথা জানান ট্রাম্প।
তার দাবি ছিল, যে দেশ মার্কিন পণ্যের ওপর যত বেশি শুল্ক আরোপ করবে, আমেরিকাও সেই সব দেশের পণ্যের ওপর তত পরিমাণ আমদানি শুল্ক বসাবে। গত নভেম্বরে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জেতার পরই কানাডা ও মেক্সিকোর পণ্যে বাড়তি শুল্ক বসানোর কথা ঘোষণা করেছিলেন ট্রাম্প। সেই সঙ্গে বেইজিংকে হুঁশিয়ারি দিয়ে ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, চীনে তৈরি বহু অবৈধ ওষুধ মেক্সিকো সীমান্ত দিয়ে আমেরিকায় ঢুকলেও বেইজিং কোনও পদক্ষেপ নেয়নি। চীন যতদিন না এই বিষয়ে ব্যবস্থা নেবে, ততদিন পর্যন্ত চীনা পণ্যে শুল্ক আরোপ করা হবে। প্রয়োজনে চীনা পণ্যে আরোপিত শুল্কের হার ৩৫ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে বলেও জানিয়েছিলেন ট্রাম্প। পরে দেখা যায়, চীনা পণ্যে ১০ শতাংশ শুল্ক চাপানোর কথা ঘোষণা করেন তিনি।
আমেরিকার ঘোষণার পরই নড়েচড়ে বসে কানাডা, মেক্সিকো এবং চীন। তারাও ‘প্রতিশোধমূলক’ শুল্ক চাপানোর কথা জানায়। সূত্র: ওয়াশিংটন পোস্ট, সিএনবিসি
বিডি প্রতিদিন/একেএ