অর্থনীতির জন্য বিষফোড়ার মতো অনেক প্রকল্প অনুমোদন করেছে বিদায়ি সরকার। পায়রা সমুদ্রবন্দর তার মধ্যে অন্যতম বলে মনে করেন পরিকল্পনা উপদেষ্টা। গতকাল জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভা শেষে সাংবাদিকদের এ কথাগুলো বলেন তিনি। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের এনইসি সম্মেলনকক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি জানান, সরকারি কেনাকাটায় এত দিন একটি মাফিয়া গোষ্ঠী সুযোগ নিয়েছে। ভবিষ্যতে স্বচ্ছতা বাড়াতে শতভাগ টেন্ডার অনলাইনে হবে। (এজন্য ক্রয় আইনের সংশোধনী অনুমোদন হয়েছে)। পায়রা বন্দর অর্থনীতির জন্য বিষফোড়া মন্তব্য করে তিনি বলেন, এ বন্দর সচল রাখতে প্রতি বছর দুটি ড্রেজার লাগবে, যা খরচ বাড়াবে। ওই অঞ্চলের কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য নিয়মিত কয়লা আনতে হবে। ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ আরও বলেন, ‘পায়রা সমুদ্রবন্দর বলা হলেও মূলত একটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য কয়লা আনতে এ বন্দর করা হচ্ছে। পায়রাবন্দর তো সমুদ্রবন্দর হওয়া দূরের কথা। আবার নদীবন্দরও হবে না। অনেকটা ঘাটের মতো হতে পারে। ছোট ছোট নৌযান চলাচলের উপযোগী বন্দর। এ পায়রা বন্দর প্রকল্পে অনেক অর্থ খরচ হয়ে গেছে।
মাঝপথে এসে প্রকল্প বন্ধ করে দেওয়া হবে কি না, তা বিবেচনার বিষয়। তিনি আরও বলেন, ‘প্রকল্প খরচ শুরুর আগে বা প্রকল্প নেওয়ার আগে থাকলে এই প্রকল্প নিতাম না।’
পরিকল্পনা উপদেষ্টা জানান, তাঁর নেতৃত্বে একটি দল পায়রা বন্দর এলাকা সরেজমিন ঘুরে এসে পুরো প্রকল্পটি মূল্যায়ন করবে। তারপর এ প্রকল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। পরিকল্পনা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ জানান, ইতোমধ্যে পায়রা বন্দর প্রকল্পের ৭২ শতাংশ বাহ্যিক অগ্রগতি হয়েছে। প্রকল্পের অর্ধেক টাকা খরচ হয়ে গেছে। একনেক সভায় পায়রা বন্দর নির্মাণ প্রকল্পের সংশোধনী প্রকল্পসহ ১৫টি প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে একনেক।