বিগত কয়েক দশক রংপুর বিভাগের আট জেলার মানুষ ঈদে ঢাকা থেকে স্বাভাবিক ছন্দে বাড়ি ফিরতে পেরেছে এমন রেকর্ড নেই। এবারও কোনো শুভসংবাদ দিতে পারছেন না কর্তৃপক্ষ। রংপুর-এলেঙ্গা মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীতকরণের কাজ নয় বছরেও শেষ হয়নি। এবারের ঈদযাত্রায় এলেঙ্গা-রংপুর ছয় লেন উন্নয়নের ভোগান্তি বাড়াবে তিন পয়েন্টে। পয়েন্ট তিনটি হচ্ছে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ ও পলাশবাড়ী এবং রংপুরের শঠিবাড়ী। ওইসব এলাকার কাজ এখনো শেষ হয়নি। ফলে সব সময় যানজট লেগে রয়েছে। এ যানজট ঈদ উপলক্ষে আরও তীব্র হবে। তবে সড়ক বিভাগ বলছে কাজ শেষের পথে। ওই সব পয়েন্টে যানজটের কারণ হিসেবে সড়ক বিভাগ মনে করছে ট্রাফিক ম্যানেজমেন্টের ত্রুটি। অন্যদিকে হাইওয়ে পুলিশ বলছে, যানজট নিয়ন্ত্রণে ঈদ উপলক্ষে হাইওয়েতে জনবল বৃদ্ধি করা হচ্ছে।
স্থানীয় পর্যায়ে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মহাসড়কে স্বাভাবিক সময়ে দিনে যে পরিমাণ যানবাহন চলাচল করে, ঈদের সময় তা কয়েক গুণ বেড়ে যায়। কিন্তু যানবাহনের অতিরিক্ত চাপ আর রাস্তা প্রশস্তকরণ কাজের ধীরগতি যানজটের সৃষ্টি করে। এ ছাড়া মহাসড়কে সিএনজি ও ব্যাটারিচালিত রিকশার চলাচলের কারণে গুরুত্বপূর্ণ স্থানসমূহে যানবাহনের গতি ধীর হয়ে যায়।
ঢাকাগামী একাধিক যাত্রী বলেন, রংপুর থেকে শঠিবাড়ী, পলাশবাড়ী গোবিন্দগঞ্জসহ প্রায় ১০০ কিলোমিটার রাস্তা যেতে ৪ থেকে ৬ ঘণ্টা লাগছে। পথই শেষ হয় না। কবে সড়কের কাজ শেষ হবে। কবে এ পথে যাতায়াতকারীদের ভোগান্তি লাঘব হবে-এমন প্রশ্ন এখন এ অঞ্চলের মানুষের।
রংপুর অঞ্চলে সড়কটির নির্মাণ প্রকল্পের পরিচালক নির্বাহী প্রকৌশলী (সওজ) ফিরোজ আক্তার বলেন, ‘শঠিবাড়ী, পলাশবাড়ী, গোবিন্দগঞ্জে কাজ প্রায় শেষের দিকে। রাস্তার ফিনিশিং চলছে।’ ঈদে যানজট প্রসঙ্গে বলেন, ‘রাস্তার কারণে যানজট সাধারণত হয় না। ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট ঠিক না থাকায় যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে।’ তিনি বলেন, ‘ট্রাফিক ম্যানেজমেন্টের জন্য আমরা স্থানীয় প্রশাসনের কাছে চিঠি দিয়েছি।’
বড়দরগা হাইওয়ে থানার ওসি মনিরুজ্জামান বলেন, ‘যানজট নিরসনে হাইওয়ে পুলিশের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে জনবল ও টহল বাড়ানো হয়েছে। ঈদ সামনে রেখে যানজট নিরসনে প্রতিটি পয়েন্টে পুলিশ বাড়ানো হবে।’