জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের রিপোর্ট নিয়ে নানা প্রস্তাবনা থাকলেও আন্তঃক্যাডারে ক্ষোভ দূর হয়নি। দিনদিন সংকট বাড়ছে। প্রশাসন বাদে ২৫ ক্যাডারদের সমন্বয়ে গঠিত পরিষদ নানা কর্মসূচি পালন করছে। এরই মধ্যে দাবি আদায়ে সরব হয়েছে স্বাস্থ্য ক্যাডারও। ক্যাডারে চলমান বৈষম্য দূর করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ না থাকলে নিজেদের দাবি আদায়ে প্রয়োজনে ঈদের পর কঠোর আন্দোলনে যাবেন ২৫ ক্যাডারের কর্মকর্তারা। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।
আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর উপসচিব পদে পদোন্নতিতে কোটা পদ্ধতি বাতিল, সব ক্যাডারের সাম্যাবস্থা নিশ্চিত করাসহ কয়েকটি দাবি নিয়ে গঠিত হয় বিসিএস ক্যাডার কর্মকর্তাদের সংগঠন আন্তঃক্যাডার বৈষম্য নিরসন পরিষদ। এরই মধ্যে জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন তাদের রিপোর্ট জমা দিলে বিভিন্ন প্রস্তাব নিয়ে আপত্তি তুলে পরিষদ। রিপোর্ট জমা দেওয়ার আগে থেকেই নানা ধরনের কর্মসূচি পালন করে আসছিলেন ২৫ ক্যাডারের কর্মকর্তারা।
জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞ এ কে এম আবদুল আউয়াল মজুমদার বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, যে কারও দাবিদাওয়া থাকতে পারে। কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান হতে পারে। তবে সরকারকে জিম্মি করা চাকরিবিধি পরিপন্থি এবং নৈতিকতাবিরোধী। আগে প্রশাসনের লোকদেরও কিছু বাড়াবাড়ি ছিল। এখন ২৫ ক্যাডার যা করছে সেটাও বাড়াবাড়ি।
জনপ্রশাসন সংস্কার রিপোর্টে ক্যাডার কমানোসহ বিভিন্ন সুপারিশ দেয় কমিশন। এরপর থেকেই এ প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে বিভিন্ন ক্যাডার বিবৃতি দেয়। সুপারিশে নিজেদের দাবির প্রতিফলন না থাকায় আপত্তি জানানোর পাশাপাশি ফেসবুকে লেখালেখির কারণে ২৫ ক্যাডারের ১৩ কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করা হয়। এর প্রতিবাদে ফের সরব হয় ২৫ ক্যাডারের পরিষদ। এরই মধ্যে চলতি মাসের শুরুতে সারা দেশে পূর্ণদিবস কর্মবিরিত পালন করেছেন তারা। এক দিনের পূর্ণদিবস কর্মবিরতিতেই দপ্তরে দপ্তরে নানারকম কাজে বিঘ্ন ঘটে। আন্তঃক্যাডার বৈষম্য নিরসন পরিষদের সমন্বয়ক মুহম্মদ মফিজুর রহমান বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘আমরা সারা দেশে পূর্ণদিবস কর্মবিরতি করেছি। গত বুধবার ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের রিপোর্টে কিছু আপত্তি আছে, যা ২৫ ক্যাডারের পক্ষে উপস্থাপন করেছি। এ ছাড়াও আমাদের কর্মকর্তারা শাস্তির মুখোমুখি হচ্ছেন। আমাদের বিষয়গুলো সমাধান ও বৈষম্য না কমলে আমরা ঈদের পর কঠোর আন্দোলনে যাব। শিক্ষা ক্যাডারের এক কর্মকর্তা বলেন, তারা বেশ কিছু বৈষম্যের শিকার এবং এর মধ্যে আন্তঃক্যাডার বৈষম্য অন্যতম। ক্যাডার সদস্যদের অনেকেই মামলা বা হয়রানির শিকার। এগুলো নিয়ে একটি সুন্দর সমাধান চাই আমরা।
আন্দোলনে চিকিৎসকরা : পদোন্নতি ও সব ধরনের বৈষম্য নিরসনের দাবিতে গতকাল থেকে তিন দিনের কর্মবিরতিতে যাচ্ছিলেন বিসিএস (স্বাস্থ্য) ক্যাডার বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ফোরাম। তবে শেষ সময়ে দাবি পূরণের আশ্বাস পেয়ে কর্মবিরতি কর্মসূচি স্থগিত করেছেন। আগামী ৫ সপ্তাহের মধ্যে দৃশ্যমান অগ্রগতি না এলে আবার কর্মবিরতিতে যাবেন বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।