অভিন্ন নদীর পানির ন্যায্য হিস্সা আদায়ের দাবিতে তিস্তা অভিমুখে দুই দিনের কর্মসূচি শুরু করেছে বিএনপি ও তাদের মিত্ররা। গতকাল লালমনিরহাটে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ‘জাগো বাহে-তিস্তা বাঁচাও’ স্লোগান সামনে রেখে উত্তরের পাঁচ জেলা লালমনিরহাট, রংপুর, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা ও নীলফামারীর ১১টি স্থানে বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতাদের উপস্থিতিতে এই কর্মসূচি পালিত হবে। উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন, তিস্তার পানির ন্যায্য হিস্সা আদায় এবং মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবিতে তিস্তা অভিমুখে পদযাত্রা করা হবে। একই সঙ্গে নদীর দুই তীরে ২৩০ কিলোমিটার জুড়ে অবস্থান কর্মসূচি পালন করবে তিস্তা নদী রক্ষা আন্দোলন কমিটি। আমাদের নিজস্ব প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-
লালমনিরহাট : গতকাল বিকালে লালমনিরহাট সদর উপজেলার তিস্তা রেলসেতু এলাকায় ‘জাগো বাহে-তিস্তা বাঁচাই’ স্লোগানে তিস্তা নদী রক্ষা আন্দোলনের ৪৮ ঘণ্টার অবস্থান কর্মসূচির উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘ভারতকে পরিষ্কার করে বলতে চাই- আগেও বলেছি, এখনো বলছি। বাংলাদেশের মানুষের সঙ্গে যদি বন্ধুত্ব করতে চান, আগে তিস্তার পানি দিন। সীমান্ত হত্যা বন্ধ করুন। আমাদের সঙ্গে বড় দাদা আর মাস্তানমুখী আচরণ বন্ধ করুন। আমরা আমাদের পায়ের ওপরে দাঁড়াতে চাই। আমরা আমাদের হিস্সা বুঝে নিতে চাই। আমরা অবশ্যই ভারতকে একটা বন্ধু রাষ্ট্র হিসেবে দেখতে চাই, সে বন্ধুত্ব হবে সম্মানের সঙ্গে আমার যে পাওনা আছে সে পাওয়া বুঝে দেওয়ার সঙ্গে।’ তিস্তা নদী রক্ষা আন্দোলনের প্রধান বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক সাবেক উপমন্ত্রী আসাদুল হাবীব দুলুর সভাপতিত্বে উদ্বোধনী দিনে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সামসুজ্জামান দুদু। অন্যান্যের মধ্যে একই মঞ্চে আন্দোলনে সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) চেয়ারম্যান সাবেক মন্ত্রী মোস্তফা জামাল হায়দার, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কণ্ঠশিল্পী বেবি নাজনীন, বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুল খালেক ও নদীপাড়ের ভুক্তভোগী নুর বকস। সমাবেশের বিভিন্ন পয়েন্টে পৃথক পৃথকভাবে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি স্থায়ী কমিটি সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু এবং গণসংহতি আন্দোলন প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি। শিশু বৃদ্ধ নারী পুরুষসহ দলে দলে বহু মানুষ অবস্থান কর্মসূচিতে যোগ দেন। রংপুর বিভাগের অন্য জেলাগুলোর মতো লালমনিরহাট জেলার তিনটি স্থানে অবস্থান নেয় মানুষ। এর মধ্যে রয়েছে সদর উপজেলার তিস্তা সেতু এলাকা, মহিপুর তিস্তা সেতু এলাকা ও দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজ এলাকা। ৪৮ ঘণ্টার প্রথম দিন সকাল থেকে বিভিন্ন পয়েন্টে মানুষ আসতে শুরু করেন। অনেকে দলে দলে মিছিল নিয়েও আসেন।
গাইবান্ধা : বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু বলেছেন, আগামী জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি ক্ষমতায় আসবে ইনশাআল্লাহ। তখন তারুণ্যের অহংকার তারেক রহমানের নেতৃত্বে তিস্তাপাড়ের মানুষের দুঃখ-কষ্ট লাঘবে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। গতকাল জনতার সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিস্তা নদী রক্ষা আন্দোলনের আয়োজনে এ সভায় সভাপতিত্ব করেন গাইবান্ধা জেলা সমন্বয়কারী ও জেলা বিএনপির সভাপতি অধ্যাপক ডা. মইনুল হাসান সাদিক। উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক বাবুল আহমেদ ও সদস্য সচিব মাহমুদুল ইসলাম প্রামাণিকের যৌথ সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য রাখেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির রংপুর বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুন্নবী টিটুল, মোজহারুল ইসলাম, অধ্যাপক ডা. খন্দকার জিয়াউল ইসলাম জিয়া, সুন্দরগঞ্জ পৌর বিএনপির আহ্বায়ক ইখতিয়ার উদ্দিন ভূঁইয়া নিপনসহ অন্যান্য নেতারা বক্তব্য রাখেন।
কুড়িগ্রাম : বিএনপি চেয়ার পারসনের উপদেষ্টা মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেছেন, তিস্তার খড়খড়া মাটিগুলো যাতে মিডিয়ার মাধ্যমে সারা বিশ্বে প্রতারণার চিহ্ন হয়ে না থাকে সেজন্য অল্প কিছু পানি ছেড়ে ডুবিয়ে দেওয়া হয়েছে। তিস্তা নিয়ে প্রতিবেশী দেশ ভারত বাংলাদেশের সঙ্গে বুদ্ধিবৃত্তিক প্রতারণা করে আসছে। এই তিস্তা বাংলাদেশের মানুষের জীবন-মরণের প্রশ্ন। ভারত তাদের অংশে রাবার ড্যাম বসিয়ে পানি সরিয়ে নিচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গ সরকার এটা করছে আর দিল্লির কেন্দ্রীয় সরকার যা খুশি তাই চাপিয়ে দিচ্ছে। তিনি গতকাল বিকালে কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার বুড়িরহাট এলাকায় তিস্তা নদীর স্পার বাঁধে তিস্তা নদী রক্ষা আন্দোলনের অবস্থান কর্মসূচিতে এসব কথা বলেন। এ সময় কুড়িগ্রাম জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা, জেলা বিএনপির সদস্যসচিব আলহাজ সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ, যুগ্ম সম্পাদক অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বেবু, অধ্যাপক হাসিবুর রহমান হাসিব, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি আমিমুল এহসানসহ জেলা বিএনপির নেতা-কর্মীসহ তিস্তা নদীপাড়ের শত শত মানুষ উপস্থিত ছিলেন।