থাইল্যান্ডের ব্যাংককে আগামী এপ্রিলে দেখা হবে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির। ৪ এপ্রিল ব্যাংককে বসবে বে অব বেঙ্গল ইনিশিয়েটিভ ফর মাল্টিসেক্টরাল, টেকনিক্যাল অ্যান্ড ইকোনমিক কো-অপারেশনের (বিমসটেক) শীর্ষ সম্মেলন। বাংলাদেশ, ভারতসহ সদস্য দেশগুলোর শীর্ষ নেতারা সম্মেলনে অংশ নেবেন।
গতকাল ঢাকায় বিমসটেক কার্যালয়ে মহাসচিব ইন্দ্র মণি পান্ডে ডিপ্লোম্যাটিক করেসপন্ডেন্ট অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ (ডিক্যাব) সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এ তথ্য জানান।
মহাসচিব বলেন, আগামী ৪ এপ্রিল থাইল্যান্ডে বিমসটেক সামিট হবে। সেখানে সদস্য দেশগুলোর শীর্ষ নেতারা যোগদানে সম্মত হয়েছেন। তবে সাইড লাইনে শীর্ষ নেতাদের একে অপরের সঙ্গে বৈঠক সদস্য দেশগুলো পারস্পারিক আলোচনা করে ঠিক করবে।
কূটনৈতিক সূত্র জানায়, থাইল্যান্ডে বিমসটেক সম্মেলনে যোগ দেবেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। সম্মেলনে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির। সেখানে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী দেখা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে সম্মেলনের ফাঁকে ইউনূস-মোদি বৈঠকে বসবেন কি না, সেটি এখনো নিশ্চিত নয়।
বিমসটেক মহাসচিব বলেন, দুই প্রতিবেশী দেশের সরকারপ্রধানের মধ্যে দেখা হলেও, আনুষ্ঠানিক বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত নয়। দুই দেশের আগ্রহের ওপর এই বৈঠক নির্ভর করছে। তিনি বলেন, সার্ক ও বিমসটেক দুটিই আঞ্চলিক সংস্থা। এই দুই সংস্থার সঙ্গে কোনো পারস্পারিক দ্বন্দ্ব নেই। একই দেশ একাধিক ফোরামে থেকে কাজ করতে পারে। একাধিক দেশ সার্ক ও বিমসটেকের সদস্য, আবার কেউ কেউ আসিয়ানের সদস্য।
এ ক্ষেত্রে কোনো সমস্যা নেই। দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলোর জোট বিমসটেক। চীন বা পাকিস্তান বিরোধিতা এর লক্ষ্য নয়।
ইন্দ্র মণি পান্ডে বলেন, বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসেবে বিমসটেককে শক্তিশালী করতে কাজ করছে। সে অনুযায়ী বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার থেকে বিমসটেকে আমরা যথাযথ সহযোগিতা পাচ্ছি। বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিবর্তনকেও আমরা সম্মান করি।
উল্লেখ্য, আসন্ন সম্মেলনে বিমসটেকের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন ডক্টর ইউনূস। এর আগে থাইল্যান্ড ২০২২ সালের ৩০ মার্চ শ্রীলঙ্কার কাছ থেকে বিমসটেকের চেয়ারম্যানশিপ গ্রহণ করেছিল। বিমসটেকের সদস্য দেশ সাতটি- বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত, মিয়ানমার, নেপাল, শ্রীলঙ্কা ও থাইল্যান্ড।