জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আওয়ামী লীগ পালিয়ে যাওয়ার পর জনগণ ধারণা করেছিল আমরা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে পারব। কিন্তু তারা পালিয়ে গিয়েও দেশ অস্থির করার জন্য মাঝেমধ্যে উসকানি দিয়ে থাকে। দু-এক দিন আগে তারা এ রকম উসকানি দিয়েছিল; কিন্তু বাংলাদেশের মুক্তিপাগল মানুষ সহ্য করেনি। উসকানির কারণে পরিবেশ যত নষ্ট হবে তার সমস্ত দায় উসকানিদাতাকেই নিতে হবে। গতকাল দুপুরে নারায়ণগঞ্জ শহরে পৌর স্টেডিয়ামে জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। জেলা ও মহানগর জামায়াত এর আয়োজন করে।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বাংলাদেশ আমার দেশ। এ বাংলাদেশে কে কোন ধর্মের, এ প্রশ্ন অবান্তর। বাংলাদেশ একটা ফুলের বাগান। বাংলাদেশে যারা জন্মগ্রহণ করেছেন, তিনি যে ধর্মেরই হোন না কেন, এ দেশের গর্বিত নাগরিক। বাংলাদেশের সংবিধান সবাইকে সমান অধিকার দিয়েছে। কিন্তু কষ্টের বিষয় ৫৪টা বছর এ জাতিকে বিভিন্নভাবে টুকরো টুকরো করে রাখা হয়েছিল। প্রতিহিংসার সংস্কৃতি যখন আপনি গড়ে তুলবেন তখন তো এ জাতি ঐক্যবদ্ধ হতে পারবে না।
বিদেশে পাচার করা টাকা ফেরতের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, সাড়ে ১৫ বছর দেশ থেকে বিদেশে ২৬ লাখ কোটি টাকা পাচার করা হয়েছে। তারা দেশে থাকাবস্থায় সুন্দর সুন্দর কথা বলতেন। কারও কথা শুনে মনে হতো তিনি বোধ হয় এ যুগের তাপসী রাবেয়া। আবার কারও কথায় মনে হতো তিনি হাসান বসরি। কিন্তু দেশ থেকে পালিয়ে যাওয়ার পর যেখানেই হাত দেওয়া হচ্ছে সেখানেই অবৈধ সম্পদের খনি বেরিয়ে আসছে। সরকারের কাছে আমাদের দাবি, যত টাকা পাচার করেছে সব উদ্ধার করে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত আনতে হবে।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা যদি এ দেশের মানুষের খেদমত করার সুযোগ পাই তাহলে সর্বপ্রথম আমরা হাত দেব শিক্ষাব্যবস্থায়। কারণ আমাদের শিক্ষা হচ্ছে কেরানি তৈরির শিক্ষা। আমাদের শিক্ষা বিজ্ঞানী তৈরির শিক্ষা নয়। যার কারণে সর্বোচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বুয়েট থেকে অনেক শিক্ষিত মানুষ বের হচ্ছেন কিন্তু জাতিকে কিছুই দিতে পারেন না। আবার যারা শিক্ষিত হয়েছেন তাদের নৈতিক মূল্যবোধের অভাব থাকায় জাতির পকেটে আস্তে করে হাত ঢুকিয়ে দেন।
নারায়ণগঞ্জের গডফাদারের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, নারায়ণগঞ্জের গডফাদার খ্যাত একজন দুর্ধর্ষ লোক মহাসড়কে ৭২ ফুট লম্বা ব্যানার টানিয়ে রেখেছিলেন। উনি সেই ব্যানারে লিখেছিলেন অমুকের প্রবেশ নারায়ণগঞ্জে নিষিদ্ধ। তিনি জেলা প্রশাসক এবং জেলা পুলিশ সুপারের উপস্থিতিতে কোনো এক মিটিংয়ে বলে রেখেছিলেন আমার নামে খুনের একটি অগ্রিম মামলা দায়ের করে রাখেন। আমি অধ্যাপক গোলাম আযমকে হত্যা করতে চাই।
ডা. শফিক আরও বলেন, কিন্তু গডফাদারের সুযোগ হয়নি তাকে সরাসরি খুন করার। এ গোলাম আযমকেই তিনি নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছিলেন নারায়ণগঞ্জের মাটিতে। যে ভাই নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছিলেন আজ তিনি কোথায়? সেই গডফাদার কি নারায়ণগঞ্জে আছেন? অহংকার ভালো নয়। অহংকার করতে নাই, দাম্ভিকতা দেখাতে নাই। ক্ষমতার জোরে ছড়ি ঘোরাতে নাই, মানুষকে খুন করতে নাই। এ কাজগুলো যারা করেন দুনিয়াতেই তারা তাদের করুণ পরিণতি ভোগ করেন। নারায়ণগঞ্জকে সন্ত্রাসের রাজধানী বানিয়ে রাখা হয়েছিল।
আইন নিজের হাতে তুলে না নেওয়ার আহ্বান
নিজস্ব প্রতিবেদক জানান, দেশবাসীকে আইন নিজের হাতে তুলে না নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। গতকাল বিকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক স্ট্যাটাসে এ আহ্বান জানান তিনি।
জামায়াত আমির বলেন, তিন দিন ধরে বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় যেসব অনাকাক্সিক্ষত কর্মকান্ড পরিচালিত হচ্ছে তা বিবেক ও দায়িত্ববোধের জায়গা থেকে অনেকটাই সমর্থনযোগ্য নয়। এসব কর্মকান্ডে কোনোভাবেই কোনো দায়িত্বশীল নাগরিক সম্পৃক্ত হতে পারে না।
তিনি আরও বলেন, আমাদের আহ্বান- আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার মধ্যে কোনো কল্যাণ নেই। সবাই মিলে জোর দাবি তুলি- গত ১৫ বছরে যারা খুন, গুম, লুটপাট, দুর্নীতি বিশেষভাবে ২৪-এর গণহত্যা সংঘটিত করেছে, অতি দ্রুত আইনের আওতায় এনে তাদের বিচার এবং সাজা নিশ্চিত করা হোক। পাচারের অর্থ, লুণ্ঠনের অর্থ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফিরিয়ে আনা হোক। নিরীহ জনগণের জান, মাল ও ইজ্জতের নিরাপত্তা সরকারকে নিশ্চিত করতে হবে।