কানাডার প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন জাস্টিন ট্রুডো। গতকাল দেশটির রাজধানী অটোয়ায় নিজ বাসভবনের বাইরে সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। সিএনএন। সংবাদ সম্মেলনে ট্রুডো বলেন, ‘আমি আমার দল ও গভর্নরকে জানিয়েছি, আমি লিবারেল পার্টির নেতৃত্ব এবং কানাডার প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমার উত্তরসূরি নির্বাচিত হলে আমি দায়িত্ব হস্তান্তর করব।’ তবে এ প্রক্রিয়া কয়েকদিনের মধ্যে শেষ হতে পারে, আবার কয়েক মাসও লাগতে পারে। লিবারেল পার্টির নেতা ট্রুডো নয় বছর ধরে কানাডার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
সংবাদ সম্মেলনে ট্রুডো বলেন, পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনার পর তিনি পদত্যাগের এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাঁর সফলতার পেছনে পরিবারের ভূমিকা রয়েছে। গত রাতে নৈশভোজের সময় সন্তানদের কাছে তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত জানান। সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রুডো বলেন, কয়েক মাস ধরে বাধার কারণে পার্লামেন্ট পুরোপুরি অচল হয়ে আছে।
ট্রুডোর পতনের কারণ কী
ট্রুডো এক দশক আগে আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক অঙ্গনে জনপ্রিয়তার শীর্ষে ছিলেন। অথচ গতকাল মেয়াদ শেষ না করে ক্ষমতাসীন দলের নেতা ও প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। কিন্তু কেন একজন জনপ্রিয় রাজনীতিবিদ এমন সংকটে পড়লেন? ট্রুডোর জনপ্রিয়তা কেন এত নিম্নমুখী হলো, তা নিয়ে একটি বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে তুরস্কের সংবাদমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ড।
তা তুলে ধরা হলো :
ঊর্ধ্বমুখী ব্যয় : ২০২৪ সালে কানাডায় মুদ্রাস্ফীতি জনজীবনে প্রভাব ফেলতে শুরু করে। নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র এবং আবাসন ব্যয়ের ঊর্ধ্বগতিতে মানুষ ক্রমে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠছে। ট্রুডোর সরকার এ সংকট মোকাবিলায় কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হওয়ায় ভোটারদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে।
পরিবেশনীতি : তাঁর বিরুদ্ধে জলবায়ু সংকট মোকাবিলার ক্ষেত্রে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগ ওঠে; যা তাঁর নেতৃত্বের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত করে।
ফেডারেল বাজেট : ফেডারেল বাজেট প্রস্তাব তাঁর নিজ দল এবং বিরোধী পক্ষ উভয়ের কাছ থেকে সমালোচিত হয়। বাজেট প্রস্তাবে প্রগতিশীল গোষ্ঠীর চাহিদা উপেক্ষিত হয়েছে বলে মনে করা হয়।
স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাপনা : প্রদেশগুলোর সঙ্গে স্বাস্থ্যসেবা তহবিল নিয়ে আলোচনা করতে ব্যর্থ হয় এবং এ বিষয়টি স্বাস্থ্যসেবা খাতে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদারদের সঙ্গে তাঁর সরকারের সম্পর্ক দুর্বল করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক : নবনির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন, মেক্সিকো ও কানাডা থেকে আমদানিকৃত সব পণ্যের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করবেন। এ শুল্ক মাদক ও অভিবাসী নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে চাপ তৈরি করবে। এটি কানাডার অর্থনীতিতে বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে এবং ট্রুডোর জনপ্রিয়তা আরও দুর্বল করতে পারে।
সরকারে ভাঙন : কয়েক সপ্তাহ আগে অর্থমন্ত্রী ক্রিস্টিয়া ফ্রিল্যান্ড পদত্যাগ করেন। ট্রুডোর অন্যতম বিশ্বস্ত সহযোগীও ছিলেন তিনি। তবে বাজেট এবং সম্ভাব্য মার্কিন শুল্ক নিয়ে মতবিরোধ তাঁর পদত্যাগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।