দীর্ঘদিন ধরে ই-বর্জ্য নিয়ে কাজ করছে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ভয়েস। প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী পরিচালক আহমেদ স্বপন মাহমুদ বলেছেন, ভোগবাদী মানসিকতা ও রিসাইকেল না হওয়ায় বাংলাদেশে বিপজ্জনক ই-বর্জ্য আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। উন্নত দেশগুলো সহযোগিতার নামে তাদের পুরনো ইলেকট্রনিক পণ্য এখানে ডাম্পিং করছে। তবে পরিকল্পিত উদ্যোগ নিলে এই আপদকে বিলিয়ন ডলারের সম্ভাবনায় রূপান্তর সম্ভব। প্লাস্টিকের ব্যবহার কমাতে সরকার যেমন উদ্যোগ নিয়েছে, তেমন উদ্যোগ ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য নেওয়া দরকার। বিশেষ করে জনসচেতনতা এবং রিসাইকেল ফ্যাক্টরি বাড়ানো দরকার। রিসাইকেল ফ্যাক্টরিগুলোকে নানা সুবিধা দিয়ে উৎসাহিত করতে হবে।
তিনি বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, আগে একটা টেলিভিশন দুই-তিন প্রজন্ম ব্যবহার করেছে। এখন প্রয়োজন না হলেও টেলিভিশন বদল করছে। ইলেকট্রনিক পণ্য উৎপাদনকারী কোম্পানিগুলো ব্যবসা চালু রাখতে নতুন নতুন মডেল হাজির করছে। ফলে মানুষ ঘন ঘন ডিভাইস বদলাচ্ছে। বৈশ্বিক উষ্ণতার জন্যও ই-বর্জ্য দায়ী। অথচ এখানে এটা নিয়ে কারও মাথাব্যথা নেই। পরিবেশ অধিদপ্তর একটা আইন করেছে, তা কোম্পানিগুলোও জানে না, জনগণও জানে না। অন্য কোনো এনজিও বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এটা নিয়ে কথা বলছে না। আইনটি হওয়ার পর আমরা একটা গবেষণা করেছিলাম। তাতে নারায়ণগঞ্জে একটা ফ্যাক্টরি ছাড়া অন্য কোথাও ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উদ্যোগ নিতে দেখিনি। বিষয়টা নিয়ে এখনই উদ্যোগ না নিলে বড় ক্ষতি হয়ে যাবে।
তিনি বলেন, ই-বর্জ্যরে ভয়াবহতা বিবেচনায় ১৯৮৯ সালের ব্যাসেল কনভেনশনে সুস্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে- এক দেশের অপরিশোধিত এবং ক্ষতিকর ইলেকট্রনিক বর্জ্য অন্য দেশে ফেলা যাবে না। তবে এটা রিসাইকেল করা ব্যয়বহুল হওয়ায় উন্নত দেশগুলো প্রযুক্তিগত ব্যবধান কমানোর নামে অনুদান হিসেবে উন্নয়নশীল বা অনুন্নত দেশগুলোয় পুরনো ইলেকট্রনিক পণ্যগুলো পাঠিয়ে দেয়। এগুলো অল্প দিনের মধ্যেই বর্জ্যে পরিণত হয়। বাংলাদেশেও এসব পণ্য সেকেন্ডহ্যান্ড বা রিফার্বিস পণ্য হিসেবে বিক্রি হচ্ছে। আবার কম দামের মানহীন ইলেকট্রনিক পণ্যও আসছে, যেগুলো খুব দ্রুত নষ্ট হচ্ছে।
অনেক দেশে ইলেকট্রনিক পণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোই এক্সচেঞ্জ অফারের মাধ্যমে পুরনো ডিভাইস সংগ্রহ করে রিসাইকেল করে। বাংলাদেশে এটা নেই বললে চলে। ই-বর্জ্য আলাদাভাবে রাখার জন্য প্রচারণা বা এটা সংগ্রহের ব্যবস্থাও নেই। ই-বর্জ্যে অনেক মূল্যবান ধাতু থাকে। এগুলো পরিবেশ ও জীবজগতের জন্য যেমন ক্ষতিকর, তেমনি রিসাইকেল করতে পারলে এটা শিল্প হিসেবে গড়ে উঠতে পারে। বিলিয়ন ডলার আয়ের সম্ভাবনা আছে।