দেশের নদনদীগুলো হত্যার পেছনে উজানের পানি সংকটের পাশাপাশি পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) অপরিকল্পিত ব্রিজ-বাঁধ ও অপরিকল্পিত ড্রেজিং দায়ী।
নানাভাবে নদীগুলোকে আমরা গলা টিপে মেরে ফেলছি। অথচ, নদীই এ দেশের ধমনি। এ দেশের প্রাণ। কৃষি বাঁচাতে নদী লাগবে। নদী নিয়ে কথা হচ্ছে অনেক, কিন্তু কাজের কাজ কিছু হচ্ছে না। ৫০ ভাগ নদী খুব খারাপ অবস্থায় চলে গেছে। উজানের পানি কমে যাওয়ায় নদীগুলোয় পলি জমছে, তার সঙ্গে দখল করে ভরাটও হচ্ছে। অন্যদিকে, পাউবোর অপরিকল্পিত বাঁধ ও ব্রিজের কারণে পলি জমে প্রবাহ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। আবার নদী খননে সমন্বিত ড্রেজিং করছি না। ড্রেজিং করে নদীর পলি আবার নদীতে ফেলে দিচ্ছি। এই পলি আবার অন্য কোথাও গিয়ে বাধার সৃষ্টি করছে। অথচ, আমাদের প্রচুর বালুর প্রয়োজন আছে। প্রচুর কনস্ট্রাকশন হয়। ড্রেজিংয়ের বালুগুলো কোথাও ভরাট, কোথাও কনস্ট্রাকশনের কাজে লাগাতে পারি। সাত-আট বছর আগে মালদ্বীপ আমাদের বালু কিনতে চেয়েছিল। যেখানে বালু একটা সম্পদ, পরিকল্পনার অভাবে সেটাই বিপদে পরিণত হয়েছে। আমাদের শুধু ঠিক করতে হবে কোন এলাকার বালু উত্তোলন করলে নদীর ক্ষতি হবে না।
পানি উন্নয়ন বোর্ড যেসব স্থাপনা করেছে, বাঁধগুলো দিয়েছে, এগুলোর ব্যাপারে নানা প্রশ্ন আছে। সেই প্রশ্নগুলোকে চিহ্নিত করে ঠিক করতে হবে কোন ধরনের বাঁধের দরকার আছে। বঙ্গবন্ধু ব্রিজ করার সময় বলা হয়েছিল এটা হলে যমুনা নদী ধ্বংস হয়ে যাবে। নদীটার করুণ দশা এখন দৃশ্যমান। পদ্মা ব্রিজ করার সময় একই কথা বলা হয়েছিল। এখন পলি জমে পুরো পদ্মা ভরাট হয়ে যাচ্ছে। চায়না, হংকং, এমনকি প্রতিবেশী দেশ ভারত যে ব্রিজগুলো করে সেখানে তো পলি জমে না! অথাৎ, পলি যাতে না জমে এরও একটা পদ্ধতি আছে। চট্টগ্রামের কালুরঘাট ব্রিজ ব্রিটিশ আমলে হয়েছে। ব্রিজটির নিচে কখনো পলি জমেনি। কোন মডেল বা নকশায় এই ব্রিজটা করা হয়েছে তা নিয়ে গবেষণা করলেও কিছু হয়তো পাওয়া যেত। আমি সংশ্লিষ্ট অনেককে জিজ্ঞাসা করেছি, কেউ বলতে পারেনি। বাংলাদেশে এমন কিছু চিন্তাই করি না।
লেখক : নিরাপদ নৌপথ বাস্তবায়ন আন্দোলনের সদস্যসচিব এবং বাপার যুগ্ম সম্পাদক