গবেষণা প্রতিষ্ঠান রিভার অ্যান্ড ডেল্টা রিসার্চ সেন্টারের (আরডিআরসি) চেয়ারম্যান মোহাম্মদ এজাজ বলেছেন, শহরটাকে টিকিয়ে রাখতে খালগুলোকে বাঁচাতেই হবে। অন্যথায় ঢাকা তলিয়ে যাবে। রাজনৈতিক সরকারগুলোর ভোটের রাজনীতির ব্যাপার থাকে। রাজনীতিকীকরণের কারণে প্রতিষ্ঠানগুলো অক্ষম হয়ে গিয়েছিল। তাই কোনো ধরনের টেকসই উচ্ছেদ অভিযানও আমরা দেখিনি। এই সরকারের মধ্যে তো কোনো রাজনৈতিক পক্ষপাত নেই। তাদের উচিত ছিল শুরুতেই দখলের বিরুদ্ধে জোরেশোরে মাঠে নামা। সেটা এখনো দেখছি না। এই সরকার যদি দখল বন্ধ করতে না পারে, অন্য কেউ পারবে না। তাদের এটা করতে হবে। এটা ইতিহাসের দায়। জুলাই বিপ্লবের দায়। খাল দূষণ ও দখল নিয়ে বাংলাদেশ প্রতিদিনকে তিনি কথাগুলো বলেন।
মোহাম্মদ এজাজ বলেন, সিটি করপোরেশনের মেয়ররা অতি উৎসাহী হয়ে চার বছর আগে খালগুলো ওয়াসার কাছ থেকে বুঝে নেয়। নেওয়ার পরে একটা খালও পুরোপুলি উদ্ধার করতে পারেনি। উল্টো খাল দখল বেড়েছে। জুলাই অভ্যুত্থানের সময় সবার চোখের সামনে বাউনিয়া খালটি দখল হয়ে যায়। সিটি করপোরেশন বলার পরও দখলদাররা সরে যায়নি। অথচ জলাবদ্ধতা থেকে ঢাকাকে মুক্তি দিতে ও পাবলিক স্পেস বাড়াতে খালগুলো উদ্ধার প্রয়োজন। কিন্তু করবে কে? সারা দেশের স্থানীয় সরকার দপ্তরগুলো আমলারা অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে পরিচালনা করছে। অতিরিক্ত দায়িত্ব দিয়ে তো বড় প্রতিষ্ঠান চালানো সম্ভব নয়। সিটি করপোরেশনে যাকে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, উনি সকালে অফিসে যান, বিকালে বাসায় ফেরেন। নগরজীবন তো ৯টা-৫টা না। সিটি করপোরেশনকে ৩৬৫ দিন ২৪ ঘণ্টা সার্ভিস দিতে হয়। স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে দ্রুত কার্যকরভাবে সচল করতে না পারলে দখল ঠেকানো যাবে না।
তিনি বলেন, ঢাকার খালগুলো নিয়ে কাজ করতে গিয়ে দেখলাম এগুলো নিয়ে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে। প্রতি প্রকল্পে ৩০০ থেকে ৮৫০ কোটি টাকা পর্যন্ত ব্যয় ধরা হয়েছে। এই টাকা দিয়ে তো খালই কেনা যায়। গত সরকারের আমলে পাঁচ টাকার জিনিস ৫ হাজার টাকায় কেনার চর্চা ছিল। এখন কেন? একটা খাল পরিষ্কার করে রক্ষণাবেক্ষণ করতে তো এতো টাকা লাগে না। এই বাজেট ও ডিজাইনগুলো রিভিউ করা দরকার। প্রতিটি প্রকল্পে ব্যক্তিমালিকানাধীন জায়গা নিয়ে ডিজাইন করা হয়েছে। এগুলো অধিগ্রহণ করতে হবে। অন্যদিকে যে জায়গা খালের সেখানে উচ্ছেদ অভিযানের নাম-নিশানা নেই। এই অবাস্তব কার্যক্রম বন্ধ করতে হবে। যুগ যুগ ধরে দেখে আসছি, শত কোটি টাকা খরচ করে দায়সারাভাবে খাল পরিষ্কার করা হয়। আবার আশপাশের লোকজন ভরাট করে। এটা মনিটরিং করার ব্যবস্থা নেই। এই অকার্যকর নীতি ও অপচয় বন্ধ করা দরকার। স্থানীয় বাজার সমিতি, বাড়ির মালিক সমিতি বা যার এলাকার ওপর দিয়ে খালটা গেছে, তাদেরকে খাল রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব দিলে একটা ব্যতিক্রম ও কার্যকর মডেল হবে।