চিকিৎসক আর বিশেষজ্ঞ কনসালটেন্ট সংকটের মাঝে একজন চিকিৎসক দিয়ে চলছে বোচাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। ৫০ শয্যাবিশিষ্ট দিনাজপুরের বোচাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক সংকটের কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে সেবা নিতে আসা উপজেলাবাসী। মাত্র একজন চিকিৎসক দিয়ে চলছে চিকিৎসাসেবার কার্যক্রম।
সংকটের কারণে দীর্ঘ এক যুগেরও অধিক সময় ধরে অপারেশন থিয়েটার বন্ধ রয়েছে। উপজেলা থেকে জেলা শহর ৩০ কিলোমিটার দূরে হওয়ায় এখানকার মানুষের একমাত্র চিকিৎসাসেবার কেন্দ্রবিন্দু এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে।
এদিকে, বোচাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. বিজয় কুমার রায় আবাসিক রোগীদের দেখা থেকে শুরু করে বহির্বিভাগের রোগীদের চিকিৎসাসেবা দেওয়াসহ সকল ধরনের সেবা দিতে কাজ করে যাচ্ছে। এতে প্রশাসনিক কাজে সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। বহির্বিভাগে প্রতিদিন প্রায় ২০০ থেকে ৩৫০ জন রোগী সেবা নিতে আসেন। প্রতিদিন জরুরি বিভাগে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ জন রোগী সেবা নিচ্ছ্নে। এত সংখ্যক চিকিৎসাসেবা নিতে আসা রোগীদের সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসক।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ৫০ শয্যা এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যে পরিমাণ চিকিৎসক থাকার কথা, সেই সংখ্যক চিকিৎসক নেই। মেডিকেল অফিসার থাকার কথা ১৬ জন, সেখানে রয়েছে মাত্র দুজন। এর একজন বুনিয়াদি প্রশিক্ষণে, অন্যজন এক মাসের ছুটিতে রয়েছেন। এদিকে ১০ জন বিশেষজ্ঞ কনসালটেন্ট থাকার কথা থাকলেও রয়েছে মাত্র একজন। তবুও বর্তমানে তিনি প্রেষণে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আছেন। এ ছাড়া একজন ডেন্টাল সার্জন রয়েছেন। দীর্ঘ এক যুগেরও অধিক সময় ধরে অপারেশন থিয়েটার বন্ধ রয়েছে। অপারেশন থিয়েটারটি চালু করতে হলে প্রয়োজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক। চাহিদার চেয়ে চিকিৎসক কম থাকায় কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এখানে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা।
বোচাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. বিজয় কুমার রায় বলেন, চিকিৎসক সংকটের কথা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। তারাও চেষ্টা করছেন। ২/১ দিনের মধ্যে দুজন চিকিৎসক আসছেন জানতে পেরেছি। বর্তমানে আমি একাই চিকিৎসা সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছি।
চিকিৎসক সংকটে উপজেলার মানুষ অনেকটা সেবা থেকে বঞ্চিত হলেও এখানে প্রতি মাসে গড়ে ৪০ থেকে ৫০ জন গর্ভবতী মায়ের স্বাভাবিক প্রসব করানো সম্ভব হয়েছে।
তিনি বলেন, যেটা আমার কাজ না, সেটাও করতে হচ্ছে। আবাসিক রোগীদের রাউন্ড দিতে হচ্ছে। এ ছাড়া বহির্বিভাগের রোগীও দেখতে হচ্ছে। এতে আমার প্রশাসনিক কাজ ব্যাহত হচ্ছে। এখন সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন মেডিকেল অফিসার।
বিডি প্রতিদিন/এমআই