লবণের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতের দাবিতে কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ‘অবস্থান ও বিক্ষোভ কর্মসূচি’ পালন করছেন কক্সবাজার লবণ চাষি ও ব্যবসায়ী সংগ্রাম পরিষদ।
বুধবার সকাল ১১টা থেকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের চকরিয়া উপজেলার খুটাখালী এলাকায় সড়কে লবণ ঢেলে এ বিক্ষোভ করেন তারা। এ সময় সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
বিক্ষোভ কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সভাপতি জামিল ইব্রাহিম চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান চৌধুরী খোকন মিয়া, এডভোকেট শহীদুল্লাহ্ ইউপি চেয়ারম্যান মৌলানা আবদুর রহমান, নুরুল আজম শোয়াইবুল ইসলাম সবুজ প্রমুখ।
লবণ চাষি ও ব্যবসায়ী সংগ্রাম পরিষদের দাবি, কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম বাংলাদেশের একমাত্র দেশীয় লবণ উৎপাদন কেন্দ্র। তৎমধ্যে প্রায় ৯৫ শতাংশ লবণ উৎপাদন হয় কক্সবাজার জেলার টেকনাফ, কক্সবাজার সদর, ঈদাগাঁও, মহেশখালী, কুতুবদিয়া, পেকুয়া, চকরিয়া উপজেলায় এবং অবশিষ্ট ৫ শতাংশ লবণ উৎপাদন হয় চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলায়। গত মৌসুমে প্রাকৃতিক পরিবেশ অনুকূলে থাকায় দেশীয় উৎপাদিত লবণ দেশের চাহিদা মেটাতে সক্ষম হয়েছে।
এমনকি অর্থবছরে উৎপাদিত লবণ চাহিদা মিটিয়ে বর্তমানে আরও ২ লাখ ২২ হাজার মেট্রিক টন লবণ মজুদ রয়েছে। চলতি মৌসুমে প্রাকৃতিক পরিবেশ অনুকূলে থাকায় লবণ উৎপাদন প্রক্রিয়া ভালোভাবেই চলছে। প্রায় ৬৫ হাজার একর জমিতে লবণ উৎপাদন হয়, যা ক্রমান্বয়ে আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে। দেশীয় লবণ শিল্পের সাথে ৬৫ হাজার চাষিসহ ১০ লাখ মানুষ লবণ শিল্পের সাথে সক্রিয়ভাবে জড়িত।
চাষিরা জানিয়েছেন, চলতি বছর মাঠ পর্যায়ে লবণের উদপাদন ভালো থাকা সত্বেও লবণের ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না। মাঠ পর্যায়ে বর্তমানে লবণ মণ প্রতি বিক্রি হচ্ছে ২২০ টাকা থেকে ২৩০ টাকা। অথচ এক মণ লবণের উৎপাদন খরচ ৩০০ টাকা থেকে সাড়ে ৩৫০ টাকা পর্যন্ত।
বিডি-প্রতিদিন/বাজিত