পল্লীকবি জসীমউদ্দীনের ৪৯তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। দিবসটি উপলক্ষে রাজধানীর কমলাপুরে কবির বাড়িতে পুষ্পমাল্য অর্পণ ও আলোচনা সভার আয়োজন করেছে বক্তৃতা প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। উল্লেখ্য, ১৯৭৬ সালের ১৪ মার্চ ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন তিনি। পল্লীকবি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর সদর উপজেলার কৈজুরী ইউনিয়নের তাম্বুলখানা গ্রামে মামাবাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। পল্লীকবির পুরো নাম মোহাম্মাদ জসীম উদ্দীন মোল্যা। বাংলা সাহিত্যে তিনি পল্লীকবি হিসেবে পরিচিত। রবীন্দ্র যুগের কবি হয়েও রবীন্দ্র প্রভাব থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত থেকে পল্লী জীবনকে অবলম্বন করে জসীম উদ্দীন নির্মাণ করেছেন স্বকীয় এক কাব্যভুবন। তাঁর সাধনায় খুলে গেছে বাংলা কবিতার নতুন এক দুয়ার। তাঁর লেখা ‘কবর’ কবিতাটি বাংলা সাহিত্যে এক অবিস্মরণীয় অবদান। নকশী কাঁথার মাঠ ও সোজন বাদিয়ার ঘাট কবির শ্রেষ্ঠ দুটি রচনা। এ দুটি রচনা পৃথিবীর বহু ভাষায় অনুবাদ হয়েছে। জসীমউদ্দীন শুধু একজন কবিই ছিলেন, তিনি ছিলেন একাধারে একজন গীতিকার, গান সংগ্রাহকও।
জসীমউদ্দীন ১০ হাজারেরও বেশি লোকসংগীত সংগ্রহ করেন। তাঁর সংকলিত লোকসংগীতের বিশাল একটি অংশ জারি ও মুর্শিদি গানে স্থান পেয়েছে। ১৯৬৯ সালে রবীন্দ্র ভারতী বিশ্ববিদ্যালয় কবিকে সম্মানসূচক ডি. লিট উপাধিতে ভূষিত করে। এ ছাড়া তিনি পেয়েছেন একুশে পদক ১৯৭৬ ও স্বাধীনতা পুরস্কার ১৯৭৮ (মরণোত্তর)। কবির ‘কবর’ কবিতা অনুযায়ী ডালিম গাছের তলায় কবিকে সমাহিত করা হয়।