বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান বলেছেন, কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে সন্তুষ্ট করতে এ সরকার আসেনি। তিনি বলেন, এ সরকার বিশাল দায়িত্ব নিয়ে এসেছে। সে দায়িত্বটি কী? বাংলাদেশকে স্বৈরতন্ত্র থেকে গণতন্ত্রে রূপান্তর করা। আমি আনন্দিত তারা (সরকার) চ্যালেঞ্জটি গ্রহণ করেছে। গতকাল জাতীয় প্রেস ক্লাবে ঢাকাস্থ মিরসরাই জাতীয়তাবাদী ফোরাম আয়োজিত সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন। সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবদুল লতিফ মাসুম।
বক্তব্য দেন বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম, মুক্তচিন্তা বাংলাদেশের চেয়ারম্যান আবুল কাসেম হায়দার প্রমুখ।
ড. মঈন খান আরও বলেন, ছাত্র-জনতার বিপ্লবের পর যারা প্রতিনিধিত্ব করছেন, সরকারে তিনজন আছেন, এ ছাড়া বিভিন্ন কমিটিতে সমন্বয়ক রয়েছেন, নাগরিক কমিটি রয়েছে, বৈষম্যবিরোধী কমিটি রয়েছে। তাদের সরাসরি প্রশ্ন করতে চাই-এ যে চারটি গ্রুপে তাদের মধ্যে কজন সত্যিকারের ছাত্র রয়েছেন?
মঈন খান বলেন, আন্দোলনে যারা রাজপথে ছিল, যারা নিজেদের সাধারণ ছাত্র বলে পরিচয় দিয়েছে। তাদের মধ্যে কি কেউ রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিল না? অবশ্যই ছিল। যারা সত্যিকারের ছাত্র রাজপথে ছিল, তারা কি কেউ বিএনপির সদস্য ছিল না? এটা বুঝতে হবে। সত্যটা হলো, তারা সেদিনের পরিপ্রেক্ষিতে বিএনপি বলে নিজেদের পরিচয় দেয়নি, তারা পরিচয় দিয়েছিল সাধারণ ছাত্র বলে। এ সত্যগুলো বুঝতে না পারলে আমরা যে সংকটে আছি, সে সংকট থেকে বেরোতে পারব না।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার কোনো পক্ষপাতিত্ব করতে পারবে না। যে মুহূর্তে তারা পক্ষপাতিত্বে চলে যাবে, তখনই তাদের কার্যপদ্ধতি ব্যর্থ হয়ে যাবে। আমরা শুনেছি, ছাত্ররা নাকি এ সরকারকে অ্যাপয়েন্টমেন্ট দিয়েছে, আমরা জানি না সারা দেশের মানুষ কি তাদের দায়িত্ব দেয়নি? ১৮ কোটি মানুষ কি দায়িত্ব দেয়নি? তারা কি একটি নির্দিষ্ট শ্রেণির প্রতিনিধিত্ব করে?