রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্য হলেই জাতীয় ঐকমত্য হওয়া সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা। তাঁরা বলেন, ঐকমত্যের ক্ষেত্রে ১৭ কোটি মানুষের কাছে একই মত পাওয়া সম্ভব নয়, যাওয়াও সম্ভব নয়। যেহেতু রাজনৈতিক দলগুলো জনগণের প্রতিনিধিত্ব করে তাই রাজনৈতিক দলগুলো ঐকমত্যে পৌঁছালেই জাতীয় ঐকমত্য হওয়া সম্ভব। কারণ, সরকার জাতীয় ঐকমত্যের জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর কাছেই আসবে। জাতীয় ঐকমত্যের বৈধতার ক্ষেত্রে গণভোটের বিকল্প নেই। এর মাধ্যমে একমতে পৌঁছাতে হবে। গতকাল রাজধানীর বিজয়নগরে একটি হোটেলে নাগরিক ঐক্য আয়োজিত ‘সংকট থেকে মুক্তি পেতে রাজনৈতিক ঐকমত্যের বিকল্প নেই’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন বক্তারা।
আলোচনায় অংশ নিয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘নিরপেক্ষ সরকার না থাকলে নির্বাচন কমিশন যতই নিরপেক্ষ বলুক না কেন, সেটি কিন্তু ঠুঁটো জগ্ননাথ। এ অন্তর্র্বর্তী সরকারের অধীনে আগামী নির্বাচন সুষ্ঠু হবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।’
তিনি বলেন, ‘ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে যারা সংগ্রাম করেছে, তাদের সবাইকে সঙ্গে নিয়ে জাতীয় ঐক্য করতে হবে। সংবিধান নিয়ে বেশি বিরোধ নেই। ফ্যাসিবাদবিরোধী জাতীয় ঐক্যকে সংস্কৃতি হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।’
বিএনপির স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, ‘আমরা দেখেছি আন্দোলনের পর একটা মার্শাল ল আসে। সেটি পাকিস্তান আমল থেকে দেখে আসছি। আন্দোলনের পর একটা নির্বাচন দিলে দেশে শান্তিশৃঙ্খলা ফিরে আসে। এবারের আন্দোলন কিন্তু ভিন্ন; আমরা সবাই নির্যাতনের শিকার হয়েছি। ’২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মাধ্যমে আলো দেখেছি।’
সভাপতির বক্তব্যে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ‘৫ আগস্টের পর অপার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, সেই সঙ্গে চ্যালেঞ্জও তৈরি হয়েছে। এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে ঐকমত্যের বিকল্প নেই।’
জাতীয় নাগরিক কমিটির যুগ্ম সদস্যসচিব রাফি সালমান রিফাত বলেন, ‘দেশে চলমান সংকট কি ৫ আগস্টের পরের সংকট? নির্বাচনের কারণে ১৫ বছরে দেশে রাজনৈতিক সংকট তৈরি হয়েছিল। আওয়ামী লীগ তাদের নিজেদের জন্য মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে প্রশ্ন তুলে বিতর্ক করার চেষ্টা করেছে। গণ অভ্যুত্থানে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে সবাই অংশ নিয়েছিল।’ বাসদের সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশিদ ফিরোজ বলেন, ‘১২ জনের মতো বিচারবহির্ভূত হত্যা হয়েছে এ সরকারের আমলে, এমনকি শিক্ষকদের ওপর হামলা চালিয়েছে পুলিশ সদস্যরা। এর কোনো প্রতিকার দেয়নি সরকার।’ বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি সাইফুল হক বলেন, ‘দেশে সংকট আছে, এ বিষয়ে দ্বিমত নেই। নানা স্বার্থে আমাদের নানা মত আছে, তবে স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব ও মানুষের অধিকারের প্রশ্নে কোনো দ্বিমত নেই।’
গণসংহতি আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি বলেন, ‘৭২-এর সংবিধানের হাত ধরে আওয়ামী লীগ বারবার ফ্যাসিস্ট হয়ে উঠেছিল। জুলাইয়ের গণ অভ্যুত্থানে মানুষের নতুন স্বপ্ন তৈরি হয়েছে।’ আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি সুব্রত চৌধুরী, জাসদ সাধারণ সম্পাদক শহীদ উদ্দিন স্বপন, ভাসানী অনুসারী পরিষদের আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম বাবলু, সমকালের উপদেষ্টা সম্পাদক আবু সাঈদ খান, জাতীয় নাগরিক কমিটির সদস্য আরিফুল ইসলাম আদিব প্রমুখ।