বসন্ত ও ভালোবাসা দিবসের আগে মূলত গতকাল ছিল গদখালী ফুল বাজারের শেষ হাট। প্রত্যাশা অনুযায়ী এদিন হাটে সব ধরনের ফুলের সরবরাহ ছিল ব্যাপক। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ক্রেতাও এসেছিলেন প্রচুর। বিক্রির পরিমাণও ছিল সন্তোষজনক। তবে দামে খুশি নন ফুলচাষিরা কারণ এবার গতবারের চেয়ে অর্ধেক দাম পেয়েছেন তারা। ভ্যালেনটাইনস ডে বা ভালোবাসা দিবসে সবচেয়ে বেশি চাহিদা থাকে গোলাপের। গতকাল সকালে সরেজমিন গদখালী ফুল বাজার ঘুরে দেখা যায়, বিভিন্ন রকমের গোলাপ প্রতিটি ৮ থেকে ১০ টাকায় বিক্রি করতেই হিমশিম খাচ্ছেন চাষিরা। গত বছর এদিনে গদখালী বাজারে এসব গোলাপ বিক্রি হয়েছিল ২২ থেকে ৩০ টাকায়। গতকালের হাটে জারবেরা বিক্রি হয়েছে প্রতি পিস ১৪ থেকে ১৭ টাকায়। এ ছাড়া গ্লাডিওলাস প্রতিটি ৮ থেকে ১০ টাকা, চন্দ্রমল্লিকা ২ থেকে ৩ টাকা করে।
ভালোবাসা দিবসের প্রাক্কালে ফুলের দাম প্রসঙ্গে গদখালী ফুলচাষি আবদুস সালাম বলেন, এবার ফুলের বাজার মন্দা। যারা নিজেদের জমিতে ফুলের চাষ করেন তারা খরচ তুলতে পারলেও যারা অন্যের জমি লিজ নিয়ে চাষ করেন তারা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। আরেক ফুলচাষি জালাল উদ্দীন বলেন, গদখালী ফুলচাষিরা সারা বছর কমবেশি ফুল বিক্রি করেন। তবে তারা মূলত তাকিয়ে থাকেন ফেব্রুয়ারি, মার্চের বিশেষ দিবসগুলোর দিকে। কারণ এ দিবসগুলোতে ফুলের চাহিদা থাকে সবচেয়ে বেশি। এ দিবসগুলোতে ফুল বিক্রি করেই তারা সারা বছরের ক্ষতি পুষিয়ে বড় অঙ্কের লাভ করে থাকেন। কিন্তু এবার নানা কারণে ফুলের দাম তারা অর্ধেক পাচ্ছেন।
এদিকে, চাষিদের মনে আনন্দ না থাকলেও বিভিন্ন জেলা থেকে আসা ফুল ব্যবসায়ীরা কম দামে ফুল কিনতে পেরে খুবই খুশি। ঝিনাইদহের ফুল ব্যবসায়ী নূর ইসলাম বলেন, ১০ টাকা পিস গোলাপ কিনেছি। দাম গতবারের তুলনায় অনেক কম। গদখালী ফুলচাষি ও ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবু জাফর বলেন, গরমের কারণে সবার ফুল একসঙ্গে ফুটে যাওয়ায় বাজারে ফুলের আমদানি ব্যাপক হয়েছে। তাছাড়া ভালোবাসা দিবস ও শবেবরাত এবার একই দিনে পড়েছে। সে কারণে বাজার কিছুটা নমনীয়।
ঝিকরগাছা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ঝিকরগাছা উপজেলার গদখালী ও পানিসারা ইউনিয়ন কেন্দ্র করে আশপাশের এলাকার প্রায় ছয় হাজার চাষি ৬৩০ হেক্টর জমিতে ফুলের চাষ করেছেন। তিনি বলেন, ‘শুধু উপহারের জন্য নয়, ফুলের বিকল্প ব্যবহারের জন্য প্রকল্প হাতে নিতে হবে। তাহলে চাষিরা সারা বছরই তাদের উৎপাদিত ফুলের দাম ভালো পাবেন। ইউরোপে যেসব দেশে বেশি ফুলের চাষ হয়, সেখানে ফুল থেকে সুগন্ধিসহ নানা ধরনের পণ্য তৈরি হয়। এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নিতে সরকারের কাছে প্রস্তাবনা দেওয়া হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।