শ্রমিক অসন্তোষ নিয়ে উদ্বিগ্ন চট্টগ্রামের তৈরি পোশাক কারখানার মালিকরা। গত দুুই সপ্তাহে অন্তত ৮টি কারখানায় বিক্ষোভ হয়েছে। আন্দোলনের মুখে বন্ধ হয়ে গেছে দুটি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন এ খাতের উদ্যোক্তারা। এর পরও প্রায়ই কোনো না কোনো কারখানায় দেখা দিচ্ছে অস্থিরতা।
খাদ্য ও চিকিৎসা ভাতা বাড়ানোর দাবিতে বিক্ষোভের পর চট্টগ্রাম রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলে (ইপিজেড) অবস্থিত প্যাসিফিক ক্যাজুয়ালস লিমিটেডের দুটি ইউনিট গত রবিবার অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করে মালিকপক্ষ। বন্ধের কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, শ্রমিক কর্তৃক অবৈধভাবে কাজ বন্ধ রাখা এবং অন্যায় দাবিদাওয়া উত্থাপনের কারণে কারখানা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। পরবর্তী সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত কারখানার সব কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।
বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সাবেক সহসভাপতি রাকিবুল আলম চৌধুরী জানান, গত ১৫ দিনে চট্টগ্রামে অন্তত ৮টি পোশাক কারখানায় শ্রমিক অসন্তোষ দেখা গেছে। অনেক ক্ষেত্রেই অযৌক্তিক দাবিদাওয়ার নামে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা হচ্ছে। প্যাসিফিক গ্রুপের মতো উচ্চ কমপ্লায়েন্সের কারখানাও বন্ধ করে দিতে মালিকপক্ষ বাধ্য হচ্ছে। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক। তবে তিনি জানান, প্যাসিফিক ক্যাজুয়ালসের সমস্যা নিরসনে এরই মধ্যে বৈঠক হয়েছে। আশা করা যাচ্ছে, মালিকপক্ষ দ্রুত কারখানা দুটি চালু করতে পারবে।
দেশের তৈরি পোশাক খাতের একটি বড় অংশ আসে চট্টগ্রাম থেকে। বর্তমানে ৫ শতাধিক তৈরি পোশাক কারখানা উৎপাদনে রয়েছে। এগুলোতে কর্মরত আছেন কয়েক লাখ শ্রমিক। ৫ আগস্ট দেশে ক্ষমতার পট পরিবর্তনের পর ঢাকার আশুলিয়া ও গাজীপুরে তৈরি পোশাকশিল্প অধ্যুষিত এলাকায় অস্থিরতা দেখা দিলেও চট্টগ্রামে তার প্রভাব পড়েনি। বর্তমানে আশুলিয়া ও গাজীপুরের পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক হয়ে এসেছে। নতুন করে চট্টগ্রামে তৈরি পোশাকশিল্পে অস্থিরতা তৈরির ষড়যন্ত্র হচ্ছে বলে মনে করছেন কেউ কেউ। পোশাক খাতসংশ্লিষ্টরা জানান, আগে কোনো কারখানায় সমস্যা দেখা দিলে ছুটে যেতেন বিজিএমইএ নেতৃবৃন্দ। দ্রুতই তারা মালিক-শ্রমিকদের সঙ্গে বৈঠক করে সমস্যা মিটিয়ে ফেলতেন। এখন বিজিএমইএর পর্ষদ নেই। সংগঠনটি পরিচালিত হচ্ছে প্রশাসকের মাধ্যমে। যেখানে খাতসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের প্রতিনিধিত্ব অনুপস্থিত। এ কারণে পোশাকশিল্প ভুগছে নেতৃত্ব সংকটে। মালিকরা নিজেরাই কারখানার সমস্যা সামাল দেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছেন। কিন্তু প্রায়ই পরিস্থিতি চলে যাচ্ছে আওতার বাইরে।
এ প্রসঙ্গে রাকিবুল আলম চৌধুরী বলেন, বিজিএমইএ চালাচ্ছেন আমলারা। সেখানে এখন ব্যবসায়ীদের প্রতিনিধিত্ব নেই। তাই আমাদের অভিযোগ শোনারও কেউ নেই। শ্রমিকরা যা দাবি করছে, তাই মেনে নিতে হচ্ছে। এ কারণে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা কঠিন হবে। আমরা আর পারছি না। ব্যবসাবাণিজ্য ছেড়ে দেওয়ার নিরাপদ পথ খুঁজছি।