সিলেট-ঢাকা মহাসড়কজুড়ে চলছে ছয় লেনের সম্প্রসারণ কাজ। ভাঙাচোরা মহাসড়ক দিয়ে বাসে গন্তব্যে পৌঁছতে লাগে দ্বিগুণ সময়। ট্রেনের টিকিট যেন সোনার হরিণ। আর সিলেট-ঢাকা বিমান ভাড়া ঢাকা-কলকাতার চেয়েও বেশি। এই অবস্থায় মারাত্মক যোগাযোগ ভোগান্তিতে পড়েছেন সিলেট বিভাগের কোটি মানুষ। এই দুদর্শা থেকে রক্ষা পেতে সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের কাজ দ্রুত সম্পন্ন, ট্রেনের টিকিট কালোবাজারি বন্ধ এবং বিমানের ফ্লাইট বৃদ্ধি ও ভাড়া কমানোর দাবি জানাচ্ছেন সচেতন সিলেটবাসী।
জানা গেছে, সিলেট-ঢাকা মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীতকরণের কাজ শুরু হয়েছে ২০২১ সালের জানুয়ারিতে। ২০২৬ সালের মধ্যে এর কাজ শেষ হওয়ার কথা। কিন্তু গত চার বছরে কাজ হয়েছে মাত্র ১১ ভাগ। দীর্ঘদিনেও শেষ হয়নি সিলেট অংশের জমি অধিগ্রহণ সম্প্রসারণ কাজ। নিয়মিত সংস্কার কাজও বন্ধ রয়েছে। ফলে মহাসড়কজুড়ে সম্প্রসারণ কাজ ও সৃষ্ট খানাখন্দের কারণে স্থানে স্থানে দীর্ঘ যানজটেরও সৃষ্টি হচ্ছে। যে কারণে আগে যেখানে সিলেট থেকে ঢাকা যেতে সাড়ে ৫ থেকে ৬ ঘণ্টা সময় লাগত, এখন সেখানে সময় লাগছে প্রায় ১০ ঘণ্টা। বেহাল সড়কের কারণে অনেকেই এখন ভয় পান বাসযোগে ঢাকায় যেতে। এতে চাপ বাড়ছে ট্রেন ও আকাশপথে। কিন্তু সেখানেও ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন সিলেটবাসী।
সিলেট থেকে ঢাকায় তিন জোড়া ও চট্টগ্রামে দুই জোড়া ট্রেন চলাচল করে। যাত্রার ১০ দিন আগে সকাল ৮টায় অনলাইনে টিকিট উন্মুক্ত করা হয়। কিন্তু ১৫ মিনিটের মধ্যেই পুরো ট্রেনের সিট হাওয়া হয়ে যায়। সাধারণ যাত্রীরা টিকিট বুকিং দেওয়ার আগেই অনলাইন থেকে টিকিট চলে যায় কালোবাজারির হাতে।
সিলেট নগরীর মেন্দিবাগের জুনেদ আহমদ চৌধুরী জানান, ৫ ফেব্রুয়ারি রাতের উদয়ন এক্সপ্রেসে যাওয়ার জন্য তিনি ১০ দিন আগে টিকিট ইস্যুর চেষ্টা করেন। কিন্তু সোয়া ৮টার মধ্যে সা টিকিট বিক্রিত দেখায়। পরে যাত্রার আগের দিন তিনি স্টেশনে গিয়ে কালোবাজারির কাছ থেকে বাড়তি দামে টিকিট সংগ্রহ করেন। জুনেদের অভিযোগ, ১৫-২০ মিনিটের মধ্যে ট্রেনের সব টিকিট বিক্রি হয়ে যাওয়াটা অস্বাভাবিক। এটা কালোবাজারির কাজ। কারণ স্টেশনে গেলে কালোবাজারির কাছে বাড়তি দামে ঠিকই টিকিট পাওয়া যায়।
সড়ক পথে ভোগান্তি ও ট্রেনের টিকিটসংকটের কারণে যাত্রীরা ঝুঁকছেন আকাশপথে। কিন্তু সেখানেও নেই স্বস্তি। সিলেট-ঢাকা রুটে প্রতিদিন ইউএসএ-বাংলার চারটি, নভোএয়ারের তিনটি ও বাংলাদেশ বিমানের তিনটি ফ্লাইট যাতায়াত করে। সিলেট-ঢাকা রুটে এয়ারলাইনসগুলোর সর্বনিম্ন ভাড়া সাড়ে ৪ হাজার টাকা হলেও এই মূল্যে টিকিট পাওয়া ভাগ্যের ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিন-চার দিন আগে টিকিট কাটলেও সর্বনিম্ন ভাড়ায় টিকিট পাওয়া যাচ্ছে না। সাড়ে ৪ হাজার টাকার টিকিট ইউএস-বাংলা ও নভোএয়ার ১১ হাজার ৫০০ টাকা ও বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস সাড়ে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি করছে। অথচ ঢাকা-কলকাতা আন্তর্জাতিক রুটের টিকিটও পাওয়া যাচ্ছে ১০ হাজার টাকার মধ্যে। সড়ক পথে ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রা পরিহার করতে এবং ট্রেনের টিকিট না পেয়ে যাত্রীরা বাধ্য হয়ে চড়া দামে কাটতে হচ্ছে বিমানের টিকিট।
সিলেট মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট আবদুল জব্বার জলিল বলেন, সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের কাজ চলছে কচ্ছপ গতিতে। এটা দ্রুত সম্পন্ন করা এবং ট্রেনকে কালোবাজারিমুক্ত করা না গেলে সিলেটবাসীর দুর্ভোগ কমবে না। সড়ক ও রেল যোগাযোগ উন্নত হলে আকাশপথে চাপ কমবে, ভাড়াও সহনীয় পর্যায়ে নামতে বাধ্য হবে।