আওয়ামী লীগ সরকার আমলে বিডিআর হত্যাকান্ডকে বিদ্রোহ হিসেবে দেখিয়ে পরিকল্পিতভাবে বাহিনীটির ৯ হাজারের বেশি সদস্যকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছিল। গতকাল কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এক সমাবেশে চাকরিচ্যুত সদস্যরা এই দাবি করেন। বিডিআর কল্যাণ পরিষদ নামে একটি প্ল্যাটফর্মের ব্যানারে ‘জাস্টিস ফর বিডিআর’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে তারা ছয়টি দাবিতে সমাবেশ করেন। বিডিআর কল্যাণ পরিষদের সদস্যরা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে যৌথভাবে এ কর্মসূচি পালন করছে। বিডিআরের চাকরিচ্যুত সদস্যরা সকাল থেকে শহীদ মিনারে অবস্থান করেন। তাদের পরিবারের সদস্যরাও সমাবেশে অংশ নেন। দাবি মেনে নিতে সরকারকে ২৪ ঘণ্টা সময় বেঁধে দিয়েছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সদস্য ও সাবেক সমন্বয়ক মাহিন সরকার। তাদের উল্লেখযোগ্য দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে- পিলখানার ভেতরে ও বাইরে ১৮টি বিশেষ আদালত ও অধিনায়কের সামারি কোর্ট গঠন করে যে বিডিআর সদস্যদের চাকরিচ্যুত করা হয়েছে, তাদের সবাইকে চাকরিতে পুনর্বহাল এবং তাদের ক্ষতিপূরণ ও রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে।
এরই মধ্যে হত্যা মামলায় খালাসপ্রাপ্ত এবং সাজা শেষ হওয়া জেলবন্দি বিডিআর সদস্যদের অনতিবিলম্বে মুক্তি দিতে হবে এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রহসনের বিস্ফোরক মামলা বাতিল করতে হবে; পিলখানা হত্যাকান্ড নিয়ে গঠিত কমিশন স্বাধীন ও নিরপেক্ষভাবে কাজ করার জন্য প্রজ্ঞাপনে উল্লিখিত ‘ব্যতীত’ শব্দ ও কার্যপরিধি ২-এর (ঙ) নম্বর ধারা বাদ দিতে হবে।
সাবেক বিডিআর সদস্যের সন্তান আল-আমিন বলেন, বিনা অপরাধে আমার বাবাকে মৃত্যুদন্ডের রায় দেওয়া হয়েছে। বিডিআর হত্যাকান্ডের পরও কিছুদিন আমার বাবা ডিউটি করেছিলেন। পরে ছুটিতে থাকাকালীন আমার বাবাকে কল করে ডেকে নিয়ে মিথ্যা সাজার সম্মুখীন করা হয়। সরকারকে বলব বিডিআরকে আইন শেখাবেন না। অবিলম্বে বিডিআরদের চাকরিতে পুনর্বহাল করুন।