জনগণ চূড়ান্তভাবে বিরক্ত হওয়ার আগেই নিজেদের দক্ষতা ও দায়িত্বশীলতার প্রমাণ দিতে অন্তর্বর্তী সরকারকে কার্যকর ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু। গতকাল বিজয়নগরে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের ছয় মাস, ডেভিল হান্ট,
সেন্ট্রাল কমান্ড ও নাগরিক প্রত্যাশার হিসাবনিকাশ নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ আহ্বান জানান তিনি। সংবাদ সম্মেলনে পার্টির ভাইস চেয়ারম্যান লে. কর্নেল (অব.) দিদারুল আলম, লে. কর্নেল (অব.) হেলাল উদ্দিন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার সাদাত টুটুল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, সরকারের গত ছয় মাস ছিল নানা প্রতিকূলতাময়। ১৮০ দিনে ১৫০টির মতো আন্দোলন ও অবরোধ গণতান্ত্রিকভাবে তারা মোকাবিলা করেছে। ভারতের ষড়যন্ত্রে সৃষ্ট বন্যা ও সাম্প্রদায়িক সংঘাত বাধানোর ঝুঁকি, ব্যাপক নিয়োগ-বদলি, প্রশাসনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বঞ্চিতদের পদোন্নতি ও পদায়ন, দুর্নীতিগ্রস্ত প্রকল্প বাতিল, হাজার হাজার মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার, অন্যায়ভাবে গ্রেপ্তারকৃতদের মুক্তি, দেউলিয়া হওয়া আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফেরানো সর্বোপরি ফ্যাসিবাদের রেখে যাওয়া অনিয়ম ও লুটপাটের ধ্বংসস্তূপ থেকে দেশ ঘুরে দাঁড় করানোর বিরাট চ্যালেঞ্জ ছিল তাদের কাঁধে। তিনি বলেন, ছয় মাসে এসব কাজের বিরাট ধকল গেছে এ সরকারের ওপর; সেজন্য তাদের অশেষ ধন্যবাদ ও দেশবাসীর পক্ষ থেকে আবারও আমাদের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করছি। কিন্তু কথা হলো সরকারের কাছে আমাদের প্রত্যাশা কি শুধু এসবের মধ্যেই সীমাবদ্ধ? নিশ্চয়ই নয়। এবি পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, ছাত্র-জনতার আকাঙ্ক্ষা ছিল একটি নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত। তারা রাষ্ট্রের মেরামত চেয়েছে। তারা শুধু শাসকের পরিবর্তন নয়, শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন চেয়েছে। ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার বিলোপ ছিল তাদের অন্যতম আকাঙ্ক্ষা। নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করে বলেন, গুম, খুন ও গণহত্যাকরীদের যে কোনো তৎপরতার ব্যাপারে নমনীয়তার কোনো সুযোগ নেই। বিচার ও ক্ষমা চাওয়ার আগে খুনিদের অন্য যে কোনো বক্তব্য ও কার্যক্রমের ব্যাপারে আমরা কড়া অবস্থানের পক্ষে, তবে সেটা অবশ্যই হতে হবে ন্যায়সংগত ও রাজনৈতিকভাবে বুদ্ধিদীপ্ত।