বিজ্ঞাপন ও কমিউনিকেশন খাতে বিনিয়োগ ও বাজার বাড়ছে। কর্মসংস্থান ও জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে এ খাত। বিশেষ করে আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির উন্নয়নের কারণে এ খাতের গুরুত্ব আরও বেড়েছে। আউটসোর্সিং ও ফ্রিল্যান্সিংয়েও ভূমিকা রাখছে কমিউনিকেশন ও বিজ্ঞাপন। ইতোমধ্যে দেশের বাজারে ছোট-বড় শতাধিক বিজ্ঞাপনী সংস্থা ও কমিউনিকেশনস এজেন্সি গড়ে উঠেছে। এসব প্রতিষ্ঠান কাজ করছে দেশের বিজ্ঞাপন ও কমিউনিকেশনস নিয়ে। এতে কর্মসংস্থান হয়েছে হাজার হাজার মানুষের। বুটিক এজেন্সি থেকে শুরু করে বৈশ্বিকভাবে নেতৃস্থানীয় বিভিন্ন গ্রুপের অ্যাফিলিয়েটেড এজেন্সিগুলোর মাধ্যমে এগিয়ে যাচ্ছে প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকার এ খাত। বহুমাত্রিক সেবা প্রদানের মাধ্যমে এ খাতের প্রতিষ্ঠানগুলো দেশ ও আন্তর্জাতিক পরিসরে শীর্ষস্থানীয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন ব্র্যান্ড গড়ে তুলতে ও ভোক্তাদের সচেতনতা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে। সময়ের প্রয়োজনে বাজারের ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে কনটেন্ট তৈরি ও ডিজিটাল মিডিয়াকে প্রাধান্য নিয়ে গড়ে উঠেছে বিশেষায়িত অনেক এজেন্সি। যা দেশের কর্মসংস্থান ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।
বিগত কয়েক বছরে ডিজিটাল মিডিয়া নিয়ে আগ্রহ বৃদ্ধি পেলেও বিজ্ঞাপনের ব্যয়ে এখনো আধিপত্য বিরাজ করছে টেলিভিশন। বিজ্ঞাপনী ব্যয়ের ৫০ শতাংশ খরচ হয় টেলিভিশন বিজ্ঞাপনে। দেশীয় ও বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর বিজ্ঞাপন কার্যক্রম পরিচালনায় এজেন্সিগুলোর উল্লেখযোগ্য ভূমিকা থাকলেও, বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ৩৬ শতাংশ বিজ্ঞাপনী ব্যয় এজেন্সির সহায়তা ছাড়াই বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ইন-হাউস টিমের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। বাংলাদেশে এশিয়াটিক থ্রিসিক্সটির অংশ হিসেবে এ খাতে নিজেদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে মিডিয়া ইনভেস্টমেন্ট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি গ্রুপএম। এ মিডিয়া এজেন্সি টিভি বিজ্ঞাপন বাজারে মোট বিজ্ঞাপনী ব্যয়ে
৪২ শতাংশ অবদান রেছে আসছে। গ্রুপএম ছাড়াও মিডিয়াকম লিমিটেড, অ্যাডকম লিমিটেড, স্টারকম বাংলাদেশ ও টপ অব মাইন্ডের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো এ খাতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। এ বিষয়ে গ্রুপএম-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোর্শেদ আলম বলেন, ‘বিজ্ঞাপন ও কমিউনিকেশনসের মতো এমন একটি প্রবৃদ্ধিশীল খাতের সক্রিয় অংশীদার হতে পেরে আমরা আনন্দিত। সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে উৎকর্ষ নিশ্চিত করার পাশাপাশি ক্লায়েন্টদের জন্য সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণেই এশিয়াটিক বিগত ৫০ বছরেরও বেশি সময় ধরে নিজেদের সুনাম অটুট রাখতে পেরেছে।’
বৈশ্বিক মানদণ্ড ও শীর্ষস্থানীয় এজেন্সিগুলোর মডেল অনুসরণ করে একাধিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে একটি প্রতিষ্ঠান বা গ্রুপের অধীনে স্বার্থের সংঘাত ছাড়াই একই খাতের ভিন্ন ভিন্ন ব্র্যান্ডকে সেবা প্রদান করা যায়। এর ফলে নির্দিষ্ট ক্লায়েন্ট বা খাতের চাহিদা অনুযায়ী অত্যাধুনিক বিভিন্ন টুলস ব্যবহার করে এজেন্সিগুলো কার্যকর উপায়ে প্রয়োজনীয় সেবা প্রদান করতে পারে।
এ ব্যাপারে এফসিবি বিটোপির ব্যবস্থাপনা পরিচালক সারাহ আলি বলেন, ‘প্রযুক্তিগত অগ্রগতি ও ডিজিটাল সেবার প্রসারের ফলে বাজারের ধরন বদলে যাচ্ছে। এর ফলে মানুষের জীবনযাত্রা ও ব্র্যান্ডের সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততায়ও পরিবর্তন আসছে। এ পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মেলানোর ক্ষেত্রে ব্যবসায় বৈচিত্র্যময়তা নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ; বিশ্বের অন্যান্য বাজারের শীর্ষস্থানীয় এজেন্সিগুলোও তাই করেছে।