রংপুরের ঐতিহ্যবাহী শ্যামাসুন্দরী খাল পুনরুদ্ধারে কর্মপরিকল্পনা প্রস্তুত করতে নির্দেশ দিয়েছে উচ্চ আদালত। গতকাল বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি-বেলার দায়ের করা জনস্বার্থমূলক মামলার প্রাথমিক শুনানি শেষে বিচারপতি ফারাহ মাহবুব এবং বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত হাই কোর্ট বিভাগের ডিভিশন বেঞ্চ এ আদেশ প্রদান করেন। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন, বেলার আইনজীবী অ্যাডভোকেট এস হাসানুল বান্না। গত বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ প্রতিদিনে শ্যামাসুন্দরী খাল নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল। জানা গেছে, রুল জারির পাশাপাশি আদালত শ্যামাসুন্দরী খালের মূল প্রবাহ অনুযায়ী সীমানা নির্ধারণ, দখলদার উচ্ছেদ, দূষণের উৎস চিহ্নিতকরণ, দূষণনিয়ন্ত্রণ ও খালের যথাযথ রক্ষাবেক্ষণ নিশ্চিত করে খাল পুনরুদ্ধার করে পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে একটি কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নসহ তা প্রতিবেদন আকারে আদালতে ৩ মাসের মধ্যে রংপুর জেলা প্রশাসক, সিটি করপোরেশনের প্রশাসক, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী ও রংপুর পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালককে দাখিলের নির্দেশ প্রদান করেছে। এ মামলায় বিবাদী করা হয়েছে, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব, ভূমি মন্ত্রণালয়ের সচিব, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব, জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক, রংপুর জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী, পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক এবং রংপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে।
উল্লেখ্য, রংপুর নগরীর বুক চিরে বয়ে যাওয়া প্রায় ১৩৪ বছর পুরনো ঐতিহ্যবাহী শ্যামাসুন্দরী খাল। ১৮৯০ সালে তৎকালীন পৌরসভার চেয়ারম্যান ও ডিমলার রাজা জানকি বল্লভ সেন তাঁর মা শ্যামাসুন্দরীর স্মরণে নগরবাসীকে ম্যালেরিয়া ও জলাবদ্ধতা থেকে রক্ষায় এ খাল পুনঃখনন করেছিলেন। খালটি রংপুর সিটি করপোরেশন এলাকার মধ্যে ১৫ দশমিক ৮০ কিলোমিটারজুড়ে বিস্তৃত। এলাকাভেদে এর প্রস্থ ২৩ থেকে ৯০ ফুট।