মনোয়ার হোসেনের বাড়ি নীলফামারী জেলা সদরে। বাবার নাম আকবর আলী। ৩৩ বছর ধরে তিনি রংপুরসহ বিভিন্ন জেলায় গিয়ে শিল-পাটা ধার দিয়ে সংসার চালাচ্ছেন। তাঁর বাবাও এই পেশায় জড়িত ছিলেন। বাবার পেশা ধরে রাখতে অবিরাম ছুটে চলেন এক শহর থেকে আরেক শহরে। যে শহরে যান সেখানে ১৫-২০ দিন থাকেন কোনো মেস ভাড়া নিয়ে। একটি শিল-পাটা ধার দিতে প্রকারভেদে ৫০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত নিয়ে থাকেন। দিনে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা আয় হয়। যেদিন কাজ বেশি পান সেদিন হাজারের ওপর আয় হয়। স্ত্রী, তিন মেয়ে, এক ছেলে নিয়ে তাঁর সংসার। দুই মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন। এক ছেলে, এক মেয়ে লেখাপড়া করছে। বৃহস্পতিবার নগরীর শাহিপাড়া এলাকায় কথা হয় তাঁর সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘অন্য পেশায় না গিয়ে বাবার পেশাটিকে ধরে রেখেছি ঐতিহ্য হিসেবে।’ যান্ত্রিকতার যুগে শিল-পাটার আগের মতো চাহিদা নেই। অনেকেই এখন মসলা গুঁড়ো করেন ব্লান্ডার মেশিনে। তার পরও গ্রামগঞ্জে এবং শহরে শিল-পাটার প্রচলন এখনো উঠে যায়নি।
তাই টিম টিম করে হলেও এই পেশার মানুষ এখনো টিকে রয়েছে বলে তিনি মত প্রকাশ করেন।
শিল-পাটা হচ্ছে দুই খণ্ড পাথর যা প্রধানত রান্নাঘরে মসলা পেষার জন্য ব্যবহৃত হয়। শিলের ওপর মসলা, যেমন শুকনো মরিচ, ধনে, হলুদ, জিরা ইত্যাদি রেখে পাটায় ডলা দিয়ে গুঁড়ো করে থাকেন গৃহিণীরা। শিল এবং পাটার পাথরটি নিপুণ হাতে খোদাই করেন যাঁরা ধার দেন তাঁরা।