বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য হিসেবে ড. গোলাম রাব্বানীকে তিন মাস আগে নিয়োগ দেন আচার্য রাষ্ট্রপতি। কিন্তু উপ-উপাচার্য নিয়োগ পাওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত কোনো দায়িত্ব তাকে দেওয়া হয়নি। শুধু তাই নয়, যোগদান করার পর থেকে কোনো ফাইলে স্বাক্ষর দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়নি। এমনকি উপাচার্য ড. শুচিতা শরমিন এক মাস বিশ্ববিদ্যালয়ে না থাকলেও তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়নি।
এ অবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও উপ-উপাচার্যের মধ্যে দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে এসেছে। আরও অভিযোগ পাওয়া গেছে, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় আইন অনুযায়ী দায়িত্ব নিতে গিয়েও বাধার মুখে পড়েছেন উপ-উপাচার্য। বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রমের অগ্রগতি জানতে উপ-উপাচার্যের দেওয়া নোটিস বিধিবহির্ভূত অভিহিত করে পাল্টা নোটিস দিয়েছেন উপাচার্য।
জানা গেছে, নিয়োগ পাওয়ার পর কোনো দায়িত্ব না পাওয়ায় উপ-উপাচার্যের কার্যালয়ের সহকারী রেজিস্ট্রার বিশ্ববিদ্যালয়ের সব বিভাগের চেয়ারম্যানকে নিয়ে একটি সভার আহ্বান করেন। ৯ ফেব্রুয়ারি বেলা ১১টায় উপ-উপাচার্যের ওই সভা আহ্বান করা হয়। কিন্তু এর পরিপ্রেক্ষিতে সব বিভাগের চেয়ারম্যানকে উদ্দেশ করে আরেকটি পাল্টা নোটিস জারি করেন উপাচার্য। ওই নোটিসে বলা হয়েছে- ‘বিশ্ববিদ্যালয় আইন অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক নির্বাহী কর্মকর্তা হলেন উপাচার্য। তার নির্দেশ ও অনুমোদন ছাড়া অন্য কোনো পত্র কোনো দপ্তরপ্রধান, কর্মকর্তা বা অন্য কেউ শিক্ষক/কর্মকর্তা/কর্মচারীর উদ্দেশ্যে প্রেরণ করতে পারেন না। উক্ত পত্রটি কোনোভাবেই কোনো শিক্ষককে আমলে না নেওয়ার জন্য উপাচার্যের নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।’
তবে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় আইন-২০০৬-এর ১১ ক (৩) ধারায় দেখা যায়, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর একাডেমিক বিষয়াবলি, ভাইস চ্যান্সেলরের অবর্তমানে তিনি দৈনন্দিন দায়িত্ব বা ভাইস চ্যান্সেলর কর্তৃক প্রদত্ত দায়িত্ব এবং বিশ্ববিদ্যালয় আইন, সংবিধি ও বিধানাবলি বিশ্বস্ততার সহিত পালন করিবেন।
এ বিষয়ে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রাব্বানী বলেন, যোগদানের পর বিগত তিন মাসের মধ্যে মৌখিক ও লিখিতভাবে দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য উপাচার্য মহোদয়কে বারবার অনুরোধ করেছি। কিন্তু দুঃখজনক হলেও অদ্যাবধি কোনো ব্যবস্থা নেননি। এমন অবস্থায় একাডেমিক কার্যক্রম দেখতে দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবে বিভাগীয় চেয়ারম্যানদের সঙ্গে একটি মতবিনিময় সভার আহ্বান করেছি। কিন্তু উপাচার্য তা বাতিল করতে পাল্টা নোটিস দিয়েছেন।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. শুচিতা শরমিনকে একাধিকবার মোবাইলে ফোন দেওয়া হলে তিনি রিসিভ করেননি।