শত ষড়যন্ত্র রুখে দিয়ে সমতার মন্ত্রে লড়াই অব্যাহত রাখার প্রত্যয় নিয়ে বর্ণাঢ্য আয়োজনে শুরু হলো বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর ২৩তম জাতীয় সম্মেলন। গতকাল কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে সম্মেলন উদ্বোধন করেন উদীচীর প্রতিষ্ঠাতা সত্যেন সেনের ঘনিষ্ঠ সহচর প্রবীণ কৃষক নেতা লীনা চক্রবর্তী। তিন দিনের এ সম্মেলনের স্লোগান ‘আমরা তো লড়ছি সমতার মন্ত্রে, থামবো না কখনোই শত ষড়যন্ত্রে।’ সম্মেলনের উদ্বোধনী আয়োজনের শুরুতে জাতীয় সংগীতের সঙ্গে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন সম্মেলনের উদ্বোধক লীনা চক্রবর্তী। সংগঠনের পতাকা উত্তোলন করেন উদীচী কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি অধ্যাপক বদিউর রহমান। এরপর নেতৃবৃন্দ ও অতিথিরা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের বেদিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। উদ্বোধনী পর্ব সঞ্চালনা করেন উদীচী কেন্দ্রীয় সংসদের সাধারণ সম্পাদক অমিত রঞ্জন দে।
উদীচী কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি অধ্যাপক বদিউর রহমানের সভাপতিত্বে আলোচনা পর্বে বক্তব্য রাখেন সম্মেলনের উদ্বোধক লীনা চক্রবর্তী ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রাফিউর রাব্বি। স্বাগত বক্তব্য রাখেন উদীচী কেন্দ্রীয় সংসদের সাধারণ সম্পাদক অমিত রঞ্জন দে।
আলোচনার পর উদীচী কেন্দ্রীয় সংসদের শিল্পীদের উদ্বোধনী পরিবেশনা গীতি-নাট্যালেখ্য ‘প্রতারিত চিরকাল’ দিয়ে শুরু হয় প্রথম দিনের সাংস্কৃতিক পরিবেশনা পর্ব। মূল ভাবনা ছিল, মানুষ বারবারই মুক্তির জন্য লড়াই করেছে, প্রাণ দিয়েছে, সবকিছু খুইয়েছে, কিন্তু তারপরও মুক্তি মেলেনি। একাত্তরে মহান মুক্তিযুদ্ধ, নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী সংগ্রাম বা চব্বিশের গণ অভ্যুত্থান, সব ক্ষেত্রেই লাভের গুড় খেয়ে গেছে অন্যরা। সাধারণ মানুষের ভাগ্য আর পাল্টায়নি।
উদ্বোধনী পরিবেশনার পর উদীচীর ২৩তম জাতীয় সম্মেলনের ‘সম্মেলন সংগীত’ পরিবেশন করেন শাওন কুমার রায়। প্রথম দিনের পরিবেশনায় আরও ছিল বিভিন্ন বিভাগ থেকে উদীচীর সেরা জেলাগুলোর সাংস্কৃতিক পরিবেশনা।
সম্মেলনের দ্বিতীয় দিন আজ সকাল ৯টায় বাংলাদেশ শিশু একাডেমি মিলনায়তনে শুরু হবে সম্মেলনের সাংগঠনিক বা কাউন্সিল অধিবেশন। দিনব্যাপী নানা সাংগঠনিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনার পর সন্ধ্যায় থাকবে সাংস্কৃতিক পরিবেশনা পর্ব। আগামীকাল শেষ হবে তিন দিনের এ সম্মেলন।