রাজনৈতিক কর্মসূচি ও সামাজিক অনুষ্ঠান না থাকায় ক্রেতা নেই বগুড়ার ফুল মার্কেটে। ফলে অলস সময় পার করছেন ফুল ব্যবসায়ীরা। শহরের খোকন পার্কে অবস্থিত এই মার্কেটের ১৭টি দোকানে একসময় ফুলের জমজমাট ব্যবসা ছিল। সে সময় বিবাহ, সামাজিক অনুষ্ঠান ও রাজনৈতিক বিভিন্ন কর্মসূচিতে ফুলের চাহিদা ছিল প্রচুর। গড়ে প্রতিটি দোকানে ১২ হাজার টাকার ফুল বিক্রি হলেও এখন ব্যবসায় ভাটা পড়েছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে ব্যবসায় খাটিয়ে এখন কিস্তি পরিশোধ করা কঠিন হয়েছে পড়েছে।
জানা গেছে, নব্বই দশকে বগুড়া শহরের খোকন পার্কের সামনে স্থানীয় কিছু ব্যবসায়ী বিভিন্ন ফুল বিক্রি শুরু করেন। বিভিন্ন উৎসবকে কেন্দ্র করে এই ফুলের চাহিদা দিন দিন বাড়তে থাকে। পরে চাহিদার দিকে খেয়াল রেখে বগুড়া পৌরসভা থেকে ওই এলাকায় ১৭টি দোকান করে দেয়। ফুল মার্কেটের দোকান ব্যবসায়ীরা ভাড়া নিয়ে বিভিন্ন রকমের ফুল কেনাবেচা করে আসছেন। দীর্ঘদিন এই মার্কেট থেকে জেলার ১২টি উপজেলার মানুষ, বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠন ও সামাজিক অনুষ্ঠানে সাজসজ্জার জন্য ফুল কিনতে আসেন। এসব দোকানে প্রতিদিন গড়ে প্রায় দুই লাখ টাকার ফুল বিক্রি হতো। কিন্তু চলতি বছরের জানুয়ারি মাসজুড়ে ফুল বিক্রিতে ভাটা পড়েছে। বিভিন্ন অনুষ্ঠান না থাকায় বেচাকেনা অর্ধেকে নেমে এসেছে। এতে করে ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে ব্যবসায় খাটিয়ে এখন কিস্তি পরিশোধ করা কঠিন হয়েছে পড়েছে তাদের। এ ছাড়া দোকান খরচ, কর্মচারী বেতন ও সংসার চালানো দায় হয়ে পড়েছে। চরম লোকসানের আশঙ্কায় জেলার ফুল ব্যবসায়ীরা। তবে দোকানে দোকানে ফুলের পসরা থাকলেও আশানুরূপ ক্রেতা নেই।
বগুড়া ফুল ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক লক্ষ্মন দাস জানান, এই মার্কেটে ১৭টি দোকান রয়েছে। প্রতিটি দোকানে বেচাকেনা অর্ধেকে নেমে এসেছে। ফলে পরিবার-পরিজন নিয়ে কষ্টে দিন পার করতে হচ্ছে ফুল মার্কেটের ব্যবসায়ীদের। এর আগে এই মার্কেটে জমজমাট ব্যবসা ছিল। বিবাহ, সামাজিক অনুষ্ঠান ও রাজনৈতিক বিভিন্ন কর্মসূচি না থাকায় ফুলের দোকানগুলো ক্রেতাশূন্য। ফলে লাখ টাকার ক্ষতির আশঙ্কা করছেন বিক্রেতারা।
ব্যবসায়ীরা জানান, বগুড়ায় প্রায় সব ধরনেরই ফুল চাষ হচ্ছে। যেমন গোলাপ, রজনীগন্ধা, গ্লাডিয়া, জার্বেরা, গাঁদা, জিপসি, কামিনিপাতা, চন্দ্রমল্লিকা, গ্যালোডিলাক্স, কম্পোন, রড স্টিক। বগুড়ার চাহিদা মিটিয়ে দেশের অন্যান্য জেলাতেও তারা এসব ফুল বিক্রি করছেন। এ ছাড়াও বিক্রি বেড়ে গেলে ব্যবসায়ীরা যশোর, কালীগঞ্জ থেকেও ফুল নিয়ে আসেন বগুড়ায়। বগুড়ায় বাণিজ্যিকভাবে ফুল চাষে এগিয়ে আছে সদর উপজেলা। এ ছাড়াও জেলার শিবগঞ্জ, শাজাহানপুর ও সোনাতলা উপজেলায় বাণিজ্যিকভাবে ফুল চাষ করা হচ্ছে।
এদিকে এই মার্কেটের ফুল ব্যবসায়ীরা আগে যশোর থেকে কুরিয়ার সার্ভিস ও বাসে করে নিয়ে বগুড়ায় ফুল বিক্রি শুরু করেন। ২০০০ সালের দিকে এসে ফুলের চাহিদা দ্বিগুণ হয়ে যায়। তখন বগুড়া সদর, শিবগঞ্জ, গাবতলী, সোনাতলা উপজেলায় গোলাপ, গাঁদা, গ্ল্যাডিয়া, রজনী দেশি ও হাইব্রিড, কামিনি, জার্বেরা ফুল চাষ শুরু হয়। স্থানীয় ফুল দিয়ে চাহিদা পূরণ হতে থাকে।