বগুড়ায় নিত্যপণ্যের বাজারে মিলছে স্বস্তি। অপরদিকে কমেছে সবজি ও চালের দাম। মাঘ মাসের মাঝামাঝিতে বাজারে সবজির সরবরাহ বেড়েছে। ফলে দাম কয়েক সপ্তাহ ধরে কম যাচ্ছে। দাম কমায় স্বস্তি ফিরেছে ক্রেতাদের।
এদিকে সপ্তাহের ব্যবধানে বাজারে ব্রয়লার ও সোনালি মুরগির দাম কিছুটা কমেছে। চালের দামও কেজিতে কমেছে ২ থেকে ৩ টাকা। তবে বাজারে সরবরাহ কম বোতলজাত সয়াবিন তেলের। গতকাল বগুড়ার বিভিন্ন বাজার ঘুরে সবজি, মুরগি, চাল ও তেলের দামের এমন চিত্র দেখা গেছে।
জানা যায়, সবজির বাজার এখন ভোক্তাদের স্বস্তির জায়গা। শীত মৌসুমে বাজারে সবজির সরবরাহ ভালো। দামও কম। গত তিন-চার সপ্তাহ বাজারে কম দামে সবজি বিক্রি হচ্ছে। শীতের সবজির মধ্যে প্রতি কেজি আলু বিক্রি হচ্ছে ২০ থেকে ২৫ টাকা। মটরশুটি ৬০ টাকা কেজি। বেগুন ২৫ থেকে ৩০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া ফুলকপি ১০ টাকা, কাঁচা মরিচ ৩০ টাকা, শিম ২০ থেকে ৩০ টাকা, করলা ৪০ টাকা, পিঁয়াজ ৪৫ টাকা, মুলা ১৫ টাকা, গাঁজর ২৫ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৩০ টাকা, শসা ২৫ টাকা, বরবটি ৪০ টাকা ও পেঁপে ২০ টাকা কেজিদরে বিক্রি হচ্ছে। বাজারে পাতাকপি প্রতি পিস বিক্রি হচ্ছে ১৫ থেকে ২০ টাকা। এদিকে বাজারে মোটা চালের দাম কেজিপ্রতি কমেছে ২ থেকে ৩ টাকা। ঊনপঞ্চাশ চাল বিক্রি হচ্ছে ৫৪ থেকে ৫৬ টাকায়, যা আগে ছিল ৫৮ টাকা কেজি। রনজিৎ চাল বিক্রি হচ্ছে ৫৪ থেকে ৫৫ টাকা কেজি আর আটাশ চাল ৫৮ থেকে ৬০ টাকা ও কাটারিভোগ ৭২ থেকে ৭৪ টাকা কেজি। মিনিকেট ও নাজিরসাইল চালের দাম আগের মতোই রয়েছে। বাজারে ব্রয়লার মুরগির দাম কমে প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ১৯০ টাকা কেজি। যা গত সপ্তাহে ছিল ২০০ টাকা। সোনালি মুরগি দামও কেজিপ্রতি কমেছে ১০ টাকা। এদিকে মাছ, মাংস ও ডিমের দাম আগের মতোই রয়েছে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, বগুড়ায় বিভিন্ন সবজির ফলন ভালো হওয়ায় বাজারে সরবরাহ বেড়েছে। এদিকে মানুষের উপার্জন না বাড়ায় আগের মতো হাটবাজারে আসছেন না ক্রেতা। আর ক্রেতা না আসায় তুলনামূলকভাবে আগের চেয়ে বিক্রি কমেছে। এ কারণে কম দামে বিক্রি করতে হচ্ছে বিভিন্ন পণ্য।
বগুড়া রাজাবাজারের ব্যবসায়ী শাজাহান আলী জানান, সবজির সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় দাম কমেছে। বাজারে এখন প্রচুর শীতকালীন সবজি পাওয়া যাচ্ছে। তিনি বলেন, দাম কমায় বিক্রিও ভালো হচ্ছে। তবে শীত কমলে সবজির দাম আবারও বাড়তে পারে।
কলোনি বাজারে আসা আমিনুল হক আরজু জানান, বাজারে শীতকালীন সবজির সরবরাহ আগের চেয়ে বেড়েছে। যে কারণে দাম কম। সবজির দাম কম হওয়ায় বেশি বেশি করে কিনেছি।