একটি গণমাধ্যম হাউসে মোট সাংবাদিকের ৩০ শতাংশ অথবা সর্বোচ্চ ১৫ জনকে অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড দেওয়া হবে। কোনো স্থায়ী বা অস্থায়ী কার্ড হবে না। সব কার্ডের মেয়াদ হবে তিন বছর। সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা হলেই কার্ড বাতিলের বিধান তুলে দেওয়া হবে। ফৌজদারি মামলায় অভিযোগ গ্রহণ হলে কার্ড স্থগিত হবে, শাস্তি হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে কার্ড বাতিল হবে। গণমাধ্যমের সাংবাদিকদের অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড নিয়ে প্রধান উপদেষ্টার পক্ষ থেকে এসব সুপারিশ দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন উপপ্রেস সচিব মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ মজুমদার।
গতকাল রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এক ব্রিফিংয়ে তিনি জানান, খুব দ্রুতই, আগামী এক থেকে দেড় সপ্তাহের মধ্যে নতুন নীতিমালা চূড়ান্ত হবে। এর আগ পর্যন্ত বিদ্যমান কার্ড চালু থাকবে।
উপপ্রেস সচিব বলেন, ফ্রিল্যান্স সাংবাদিকদের শর্তসাপেক্ষে কার্ড দেওয়ার সুপারিশ করার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ভুয়া সাংবাদিকরা যাতে অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড না পান এ জন্য ফ্রিল্যান্স সাংবাদিকতায় কমপক্ষে ২০ বছর যারা লেখালেখি করেন, অথবা কোনো সাংবাদিক ইউনিয়নে যুক্ত আছেন, তাদের শুধু ফ্রিল্যান্স ক্যাটাগরিতে কার্ড দেওয়া হবে।
যে ১৬৭টি জনের কার্ড বাতিল হয়েছে নতুন নীতিমালা হওয়ার পর তাদের কার্ড পর্যালোচনা করা হবে। যতক্ষণ নতুন কার্ড দেওয়া হচ্ছে না ততক্ষণ বিদ্যমান বার্ড বহাল থাকবে।
বিদ্যমান নীতিমালায় সাংবাদিকদের বিদেশ ভ্রমণে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বা প্রধান তথ্য কর্মকর্তাকে অবহিত করে ভ্রমণের যে নীতিমালা আছে, এটিকে অপমানসূচক উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই বিধানটি প্রত্যহারের সুপারিশ করবেন তারা।
এসব সুপারিশ চূড়ান্ত নয় জানিয়ে উপপ্রেস সচিব বলেন, এর বাইরেও সাংবাদিকদের মধ্য থেকেও সুপারিশ গৃহীত হবে। তিনি বলেন, বিদ্যমান নীতিমালায় সাংবাদিকদের সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রম লেখার শর্ত রয়েছে, এটি প্রত্যাহার করা হবে। সাংবাদিকদের ওপর কোনো নিয়ন্ত্রণ থাকবে না, এটাই আমরা বিশ্বাস করি। সার্কুলেশনের ভিত্তিতে কার্ড দেওয়ার বিধানও বাতিল হবে বলে জানান তিনি।
আবুল কালাম আজাদ বলেন, এই নীতিমালার জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টার নির্দেশনা অনুযায়ী মুক্ত সাংবাদিকতার জন্য যা যা করা দরকার কমিটি তা সুপারিশ করবে। কমিটির সুপারিশের পর তথ্য মন্ত্রণালয় ও সাংবাদিক প্রতিনিধিসহ সর্বোচ্চ বডি সেই নীতিমালা চূড়ান্ত করবে।
তিনি বলেন, আগে কার্ড ইস্যু করতেন প্রধান তথ্য কর্মকর্তা। এবার সাংবাদিকসহ বিভিন্ন সংগঠন নিয়ে যে কমিটি হবে তারাই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। তবে কোনো সাংবাদিক কার্ড না পেলে তিনি আপিল করতে পারবেন। আপিল বোর্ডে জাতীয় পর্যায়ে পত্রিকার সম্পাদক, বিচারপতিসহ বিভিন্ন সেক্টরের লোকজন থাকবেন। জেলা পর্যায়ে সাংবাদিকদের ক্ষেত্রে জেলা থেকেই তাদের কার্ড দেওয়ার ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হবে।
জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার তিলকপুর উচ্চবিদ্যালয়ে মেয়েদের ফুটবল খেলার মাঠে হামলার বিষয়ে উপপ্রেস সচিব বলেন, মেয়েদের ফুটবলে বাধার বিষয়ে সরকার কাজ করছে। স্থানীয় প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। নারীদের ফুটবল কোনোভাবেই যেন ব্যাহত না হয় সরকার সে বিষয়ে সজাগ থাকবে।