মাদারীপুরে কামাল মাতুব্বর (৫৫) নামে এক মানব পাচারকারী মাফিয়াকে গণপিটুনির ভিডিও ভাইরাল হয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে। বৃহস্পতিবার রাতে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, ডাসার উপজেলার পূর্ব কমলাপুর গ্রামের মৃত কাদের মাতুব্বরের ছেলে কামাল মাতুব্বরকে বেশ কিছু লোকজন ঘিরে ধরে মারধর করছেন। জানা গেছে, বৃহস্পতিবার দুুপুরে কামাল একটি মামলার হাজিরা দিতে আদালতে আসছিলেন। পরে একাধিক ভুক্তভোগী তাকে গণপিটুনি দিয়ে মাদারীপুর সদর থানায় সোপর্দ করেন। তার বিরুদ্ধে মানব পাচার ও প্রতিরোধ দমন আইনে একাধিক মামলা রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা গেছে, মাদারীপুরের শতাধিক যুবককে উন্নত জীবন আর ভাগ্য বদলের স্বপ্ন দেখান কামাল। পরে তাদের লিবিয়া দিয়ে অবৈধ পথে ইউরোপের দেশ ইতালি পৌঁছে দেওয়ার কথা বলেন। এরপর লিবিয়ায় আটকে রেখে দফায় দফায় নির্যাতন করেন। এরপর হাতিয়ে নেন লাখ লাখ টাকা। এমনই ভুক্তভোগী রাজীব মাতুব্বর, নিজাম, তাইফুল, তাহের, মুজাম হাওলাদর, শাহাবুদ্দিন, তারেক মাতুব্বরসহ শতাধিক যুবককের পরিবারের কাছ থেকে প্রথমে ১৩-১৪ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন কামাল মাতুব্বর। এরপর লিবিয়া পৌঁছলে মাফিয়াদের হাতে বিক্রি করেন মানব পাচারকারী কামাল মাতুব্বর। লিবিয়ার মাফিয়ারা বন্দিশালায় আটকে রেখে যুবকদের ওপর চালান অমানুষিক নির্যাতন। মুক্তিপণের টাকা আদায় করতে পরিবারকে নির্যাতনের ভিডিও দেখিয়ে ২০-৪০ লাখ হাতিয়ে নেয় মাফিয়া ও মানব পাচারচক্র। প্রতিটি পরিবার ভিটেমাটি সহায়সম্বল বিক্রি করে দালালের হাতে টাকা তুলে দিয়ে হন নিঃস্ব।
ভুক্তভোগী রাজিব মাতুব্বর বলেন, কামাল মাতুব্বর লিবিয়া পাঠিয়ে আমাকে একটা অন্ধকার ঘরে এক মাস আটকে রেখে নির্যাতন করেন। আমার পরিবার থেকে ২০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন। মুক্তিপণের টাকা দিয়ে কোনোমতে বেঁচে ফিরে এসেছি। আমি মানব পাচারকারী দালাল কামাল মাতুব্বরের শাস্তি চাই।
মাদারীপুর সদর থানার ওসি আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, আসামি কামাল মাতুব্বরের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। মামলায় হাজিরা দিতে আদালতে এসেছিলেন। পরে লোকজন তাকে ধরে এনে পুলিশে দিয়েছেন। তার বিরুদ্ধে মামলা থাকলেও সব মামলায় জামিনে রয়েছে। তাই আদালতের রি-কল দেখে তাকে পরিবারের জিম্মায় বৃহস্পতিবার রাতেই ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তাৎক্ষণিক পরিস্থিতির কারণে আমাদের জিম্মায় ছিল।