চট্টগ্রামের প্রথম এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে। শুরুতে এর নামকরণ করা হয় এ বি এম মহিউদ্দীন চৌধুরী এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে। বর্তমানে এর নামকরণ করা হয়েছে শহীদ ওয়াসিম আকরাম এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে। গত ৩ জানুয়ারি এর ওপর দিয়ে টোল দিয়ে যান চলাচল শুরু হয়। এই এক্সপ্রেসওয়ে দিয়ে দৈনিক ৮১ হাজার ৪৭১টি যানবাহন চলাচল করার কথা। কিন্তু টোল দিয়ে যান চলাচল শুরুর দিনই চলাচল করছে ৩ হাজার ৪৬২, যা সমীক্ষার ৪ দশমিক ২৫ শতাংশ। তাছাড়া, বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে গাড়ি চলছে ৫ থেকে ৭ হাজার। ফলে কাঙ্ক্ষিত সংখ্যক যানবাহন চলাচল করছে না এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে দিয়ে।
জানা যায়, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) ৪ হাজার ২৯৮ কোটি টাকা ব্যয়ে নগরের লালখান বাজার থেকে পতেঙ্গা পর্যন্ত সাড়ে ১৬ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েটি নির্মাণ করে। প্রথমদিন ৩ হাজার ৪৬২টি গাড়ি থেকে ২ লাখ ১৫ হাজার টাকা টোল আদায় হয়। বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে টোল আদায় হচ্ছে ৫ থেকে ৭ লাখ টাকা। তবে এক্সপ্রেসওয়ে দিয়ে দুই ঘণ্টার পথ ১৫-২০ মিনিটে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে।
চট্টগ্রাম ফোরামের সহসভাপতি ও পরিবহন বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলী সুভাষ বড়ুয়া বলেন, প্রকল্পটি শুরুর সময়ই আমরা বলেছিলাম এটি দিয়ে গণপরিবহন চলাচল করবে না। অথচ অধিকাংশ যাত্রীই গণপরিবহন ব্যবহার করে। সবাই তো আর প্রতিদিন পতেঙ্গা আর বিমানবন্দর যাতায়াত করবে না। তিনি আরও বলেন, এক্সপ্রেসওয়েটির সব কাজ এখনো শেষ হয়নি। অনেক র্যাম্প তৈরি এখনো বাকি। তাই দ্রুত র্যাম্প নির্মাণ শেষ করে যান চলাচল বৃদ্ধি তাগাদা দেন তিনি।
সিডিএর প্রধান প্রকৌশলী কাজী হাসান বিন শামস বলেন, এখন প্রতিদিন ৫ থেকে ৭ হাজার গাড়ি চলাচল করে। এসব গাড়ি থেকেই টোল আদায় হচ্ছে।
তবে তিনি দাবি করেন, নির্মাণাধীন ৯টি র্যাম্প চালু হলে যান চলাচল আরও বাড়বে। তখন এটির কাঙ্ক্ষিত সুফল মিলবে। তাছাড়া মানুষের এখনো টোল দিয়ে সড়ক ব্যবহারের প্রবণতাও কম। তাই অনেকে জ্বালানি খরচ করে দীর্ঘ সড়ক পথ ব্যবহার করে যাতায়াত করছে।
তিনি বলেন, সমীক্ষায় অন্তত ১৫ প্রকারের যান থাকলেও এখন চলছে ১০ প্রকারের। ফলে ৪০ শতাংশ গাড়ি এমনিতেই কমে গেছে। আশা করছি, আগামীতে যান চলাচল বাড়বে।
চুয়েটের ব্যুরো অব রিসার্চ টেস্ট অ্যান্ড কনসালটেশনের এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের সম্ভাব্যতার সমীক্ষা অনুযায়ী, এক্সপ্রেসওয়ে চালু হলে ২০২৫ সালে সেখানে প্রতিদিন প্রায় ৮১ হাজার ৪৭১টি গাড়ি চলাচল করার কথা। এর মধ্যে রিকশা ১৪ হাজার ৩৫৮টি, মোটরসাইকেল ৫ হাজার ৮১৪টি, ঠেলাগাড়ি ৫৯০টি, কার ও তিন চাকার যানবাহন ৩৯ হাজার ৪২৮টি, মাইক্রোবাস, ভ্যান, জিপ ৬ হাজার ৫১৩টি, মিনিবাস ও পিকআপ ৫ হাজার ৩৮টি, বাস ৩ হাজার ৩৮৯টি, ট্রাক ৫ হাজার ৬৬৪টি এবং লরি ও ট্রেলার ৬৭৭টি। তবে সরকার এই সমীক্ষাকে পাত্তা দেয়নি। ফলে বর্তমানে এক্সপ্রেসওয়েতে শুধু ১০ ধরনের যানবাহন চলাচল করছে। ফলে সমীক্ষায় যে ধারণা দেওয়া হয়েছিল তার চেয়ে প্রায় ২১ হাজার যানবাহন এক্সপ্রেসওয়ে ব্যবহার করতে পারবে না। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) হিসাব অনুযায়ী, চট্টগ্রামে নিবন্ধিত যানবাহনের সংখ্যা ৩ লাখ ৯৮ হাজার ১৭৬। এর মধ্যে মোটরসাইকেল রয়েছে প্রায় ২ লাখ ৩৫ হাজার, যা নিবন্ধিত যানবাহনের প্রায় ৬০ শতাংশ।
তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ব্যক্তিগত গাড়ি ছাড়া বাস, টেম্পোর মতো গণপরিবহন ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এক্সপ্রেসওয়েতে টানা চলাচল করা কঠিন। ফলে এত টাকা ব্যয় করে তৈরি করা এই অবকাঠামোয় অপচয়ই বেশি হয়েছে।