ঢাকা মহানগরের নগর প্রতিরক্ষা দল বা টিডিপি নতুন দেশ গঠনে বড় শক্তি। তারুণ্যের সঙ্গে যদি আরও উন্নত প্রশিক্ষণ যুক্ত হয় তাহলে সেটা আনসার ভিডিপির সমৃদ্ধির গন্ডি পেরিয়ে দেশের সামগ্রিক কল্যাণে ভূমিকা রাখবে। গতকাল বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদর দপ্তরে এক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন অন্তর্র্বর্তী সরকারের গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এবং শিল্প মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান। নতুন বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে তারুণ্যের উৎসব-২০২৫ উদযাপন উপলক্ষে ঢাকা মহানগরের নগর প্রতিরক্ষা দল (টিডিপি) মৌলিক প্রশিক্ষণ কোর্সের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। শিল্প উপদেষ্টা বলেন, তারুণ্যের উৎসব-২০২৫ এর লক্ষ্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করা, পারস্পরিক সহযোগিতার মানসিকতায় গড়ে তোলা এবং দেশের বৈচিত্র্য ও সংস্কৃতির সৌন্দর্যকে উদযাপন করা। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত বিস্তৃত আনসার-ভিডিপির ক্লাবগুলো অঞ্চলভিত্তিক উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডের ক্ষেত্র ও চিন্তাধারার পারস্পরিক বিনিময় কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠবে। আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী দেশের ‘গণপ্রতিরক্ষা বাহিনী’ হিসেবে গড়ে উঠে দেশের আর্থসামাজিক বৈষম্য দূরীকরণে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে। এ ছাড়াও আনসারের অগ্রযাত্রায় বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা দূর এবং বাহিনীর তারুণ্যনির্ভর বৃহৎ সম্ভাবনাকে কীভাবে দেশের সামষ্টিক সমৃদ্ধিতে সম্পৃক্ত করা যায় সে ব্যবস্থা করতে হবে।
অনুষ্ঠানে বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ বলেন, নতুন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ে দেশের তরুণ জনগোষ্ঠীকে বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপির পরিবর্ধিত এবং পরিমার্জিত যুগোপযোগী প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে কর্মসংস্থান ও উদ্যোক্তা তৈরির সুযোগ ও সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এ উদ্যোগকে অধিক ফলপ্রসূ করতে, সমন্বিত কার্যক্রমের ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ শিল্প কারিগরি সহায়তা কেন্দ্র (বিটাক) ও সমাজসেবা মন্ত্রণালয়সহ অন্যান্য সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয়ের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। তারুণ্যের অদম্য শক্তি, দেশপ্রেমের আবেগ ও উদ্যোগী চেতনায় সমৃদ্ধ আমাদের আনসার ভিডিপি বাহিনী নতুন বাংলাদেশকে পরিবর্তনের পথে এগিয়ে নিতে প্রস্তুত।
‘এসো দেশ বদলাই, পৃথিবী বদলাই’ প্রতিপাদ্যকে উপজীব্য করে সারা দেশে উদযাপিত হচ্ছে তারুণ্যের উৎসব-২০২৫। এরই ধারাবাহিকতায় ঢাকা মহানগরের নগর প্রতিরক্ষা দলের মৌলিক প্রশিক্ষণকে সামনে রেখে আনসার সদর দপ্তরে বর্ণাঢ্য উদ্বোধনীর আয়োজন করা হয়। এ পর্যায়ে ঢাকা মহানগরের মোট ২৫৬ জন মহিলা ও পুরুষকে মৌলিক প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে। মানব নিরাপত্তা, কমিউনিটি অ্যালার্ট মেকানিজম, সামাজিক সচেতনতা, স্বেচ্ছাসেবা এবং নগর অঞ্চলের অনাকাক্সিক্ষত দুর্যোগ মোকাবিলাসহ জাতীয় যে কোনো মোতায়েন বিষয়ে সমন্বিত ও বাস্তব ধারণা প্রদানের মাধ্যমে তরুণ শক্তিকে কীভাবে সামাজিক শক্তি হিসেবে আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীতে ভূমিকা রাখা যায় তা এই প্রশিক্ষণের মূল উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য।