চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির পুরনো দ্বন্দ্ব হাজির হয়েছে নতুন রূপে। উত্তরের সিনিয়র নেতাদের মানসিক দূরত্বের মধ্যেই নতুনভাবে বিএনপির ইউনিট কমিটি গঠনে ত্যাগীদের বঞ্চিত করার অভিযোগ তুলে দলের হাইকমান্ডকে লিখিত অভিযোগ দিয়েছে একটি পক্ষ। এরপর থেকে আরও ভয়ংকর রূপ ধারণ করে উত্তরের শীর্ষ নেতাদের দ্বন্দ্ব। এ বিষয়ে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান গিয়াস কাদের চৌধুরী বলেন, ‘উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ঘরে বসেই একের পর এক পকেট কমিটি করছে। এ কমিটি নিয়ে তৃণমূলে চরম অসন্তোষ রয়েছে। তাদের এমন কর্মকান্ডের বিষয়ে কেন্দ্রীয় নেতারা লিখিতভাবে অভিযোগ দিয়েছেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এবং হাই কমান্ডকে।’ পকেট কমিটি গঠনের অভিযোগ অস্বীকার করে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলাম আকবর খোন্দকার বলেন, ‘যথাযথ নিয়ম অনুসরণ করেই কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। ত্যাগী এবং দলের জন্য নিবেদিতদের দিয়েই কাউন্সিলের মাধ্যমে কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে।’
জানা যায়, এক দশকেরও বেশি সময় ধরে আহ্বায়ক কমিটির ওপর ভর করে চলছে বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ ইউনিট চট্টগ্রাম উত্তর। দীর্ঘ এ সময়ে দুটি আহ্বায়ক কমিটি দায়িত্ব পালন করলেও সিনিয়র নেতাদের দ্বন্দ্বের জের ধরে কোনো কমিটিই পূর্ণাঙ্গ রূপ দিতে পারেনি। গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার বিপ্লবের পর রাজনীতির মাঠে পুরোদমে সক্রিয় হয় উত্তর জেলা বিএনপি। উদ্যোগ নেওয়া হয় কাউন্সিলের মাধ্যমে ইউনিয়ন, পৌরসভা এবং থানা কমিটি গঠন করে জেলা কমিটি পূর্ণাঙ্গ করার। এ জন্য বিশেষ দায়িত্ব দেওয়া হয় দলের ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খানকে। দ্রুত সময়ের মধ্যে কমিটি ঘোষণার উদ্যোগ নেওয়া হলে ফের মাথাচাড়া দেয় পুরনো দ্বন্দ্ব। এর মধ্যে পুরনো বিবাদ ভুলে এক কাতারে আসেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দীন কাদের চৌধুরী ও চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আসলাম চৌধুরী। অন্য অংশে আছেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলাম আকবর খোন্দকার, মীর হেলাল উদ্দীনসহ তাদের অনুসারী বলয়। এরই মধ্যে বিভিন্ন ইউনিটের কমিটি গঠন নিয়ে অভিযোগ তোলে গিয়াস কাদেরের নেতৃত্বাধীন অংশ। ১২ জানুয়ারি এটি নিয়ে দলের হাইকমান্ডকে চিঠিও দেওয়া হয়। চিঠিতে চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আসলাম চৌধুরী নাম ব্যবহার করা হলেও তিনি এ বিষয়ে অবগত নন বলে জানিয়েছেন।