রাজশাহীর সাবেক সিটি মেয়র এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটনের পরিত্যক্ত বাড়িতে এক কলেজছাত্রকে আটকে রেখে দেড় লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায়ের চেষ্টার অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার রাতে পুলিশ নগরীর উপশহরের ওই পরিত্যক্ত বাড়ি থেকে কলেজছাত্রকে উদ্ধারের পর তাদের গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তার তিনজনই ছাত্র। এ ঘটনায় রাতেই বোয়ালিয়া থানায় মামলা হয়েছে। ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে গতকাল তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয় বলে জানান বোয়ালিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী মাসুদ।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- রাজশাহী কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী শাহাদত হোসেন (২৫), বাংলাদেশ পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী জাহিদুল ইসলাম (২২) ও শহীদ বুদ্ধিজীবী সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী তাহসান হোসেন আকাশ (২১)। এদের মধ্যে শাহাদাতের বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলায়। অন্য দুজনের বাড়ি নাটোর সদরে। আর ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর নাম ফাহিম হোসেন জীম (১৭)। তিনি রাজশাহী নিউ গভ. ডিগ্রি কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্র।
ফাহিম হোসেন জীম বলেন, ‘কিছুদিন ধরে আমাকে বারবার কল করা হচ্ছিল। বলা হচ্ছিল, আমি নাকি ছাত্রলীগ করি। আমি নগর ভবনের সামনে ছিলাম। সেখান থেকে আমাকে তুলে আনা হয়। নিয়ে আসার পর মারধর করে। বলে, আমার নাকি ছাত্রলীগের সঙ্গে যোগাযোগ আছে। তারা আমার কাছে দেড় লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। পরে আমি আমার দুজন বন্ধুকে ফোন করলে তারা আসে। এ সময় পুলিশ এসে আমাকে উদ্ধার করে।’
বোয়ালিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী মাসুদ বলেন, ‘সমন্বয়ক পরিচয়ে এক কলেজছাত্রকে সাবেক মেয়রের পরিত্যক্ত বাসায় আটকে রাখার খবর পেয়ে পুলিশ পাঠানো হয়। পুলিশ গিয়ে ছেলেটিকে উদ্ধার করে এবং তিনজনকে থানায় নিয়ে আসে। থানায় জিজ্ঞাসাবাদে মুক্তিপণ দাবির কথা তারা স্বীকার করেছে।