এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের এফডিসি থেকে পলাশী পর্যন্ত সংযোগ সড়ক নির্মাণের উদ্যোগ বন্ধের দাবি জানিয়েছে ইনস্টিটিউট ফর প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (আইপিডি)। গতকাল আইপিডির পরিচালক অধ্যাপক ড. আদিল মুহাম্মদ খান ও নির্বাহী পরিচালক ড. মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম এই দাবি জানান। তাদের ভাষ্য, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের এফডিসি থেকে পলাশী পর্যন্ত সংযোগ সড়কে হাতিরঝিল জলাধার ও পান্থকুঞ্জ পার্কের পরিবেশ ইতোমধ্যেই ধ্বংসের পাশাপাশি কাঁঠালবাগান-কাঁটাবন-নীলক্ষেত-পলাশীসহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) পরিবেশ ও পরিবহন ব্যবস্থা সীমাহীন সংকটে পড়বে।
আইপিডি জানান, মেগাপ্রজেক্টের বিনিয়োগ ফেরত আনা ও ব্যক্তিগত গাড়ি চলাচলের সুযোগ করে দেওয়ার জন্য এই সংযোগ সড়কটি প্রস্তাব করা হয়েছে, যা এই এলাকায় বিদ্যমান অতিব্যস্ত রাস্তাগুলোর উপযোগিতা নষ্ট করবে। একই সঙ্গে এই এলাকায় এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের র্যাম্প ওঠানামার কারণে বিভিন্ন মোড়ে ট্রাফিক জ্যাম আরও অনেক বেড়ে যাবে বলে মনে করে আইপিডি। বিগত সরকারের সময়ে পরিবেশগত, পরিকল্পনাগত প্রভাব বিশ্লেষণ এবং জনগণের মতামত ছাড়াই ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে মেগা প্রকল্প নেওয়া হয়েছিল। এই প্রকল্পের প্রথম দিককার প্রস্তাবনায় ও এই সংযোগ সড়ক ছিল না।
অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে প্রকল্পটি পুনর্মূল্যায়নের উদ্যোগ নিয়ে যথাযথ সংশোধনসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া জনগণের প্রত্যাশা ছিল জানিয়ে আইপিডি জানান, ‘এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের সংযোগ সড়কের অংশটি বাতিলের দাবিতে এলাকাবাসী, বাংলাদেশ গাছরক্ষা আন্দোলনসহ বিভিন্ন পরিবেশ, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থা, সংগঠন ও বিশেষজ্ঞদের সম্মিলিত আন্দোলন এক মাসের অধিক পার হলেও এ বিষয়ে নীরবতা পালন করছে।
এই প্রকল্পের কারণে ইতোমধ্যে হাতিরঝিল এলাকায় জলাধার ভরাট এবং পান্থকুঞ্জ উদ্যানের সহস্রাধিক গাছ কাটা হয়েছে। ফলে এক্সপ্রেসওয়ের পিলারগুলো এলাকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, জলাধারের পানিপ্রবাহ ও সার্বিক উপযোগিতা ধ্বংস করবে। সংযোগ সড়ক প্রকল্পটি ইতোমধ্যেই পার্ক-উদ্যান-জলাধার সংরক্ষণ আইন, পরিবেশ সংক্রান্ত আইন ও বিভিন্ন পরিকল্পনার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন করেছে। এই সংযোগ সড়ক বাতিল না করা হলে ট্রাফিক জ্যাম মারাত্মকভাবে বেড়ে ঢাবি এবং বুয়েটের সামগ্রিক একাডেমিক পরিবেশ ও পরিবহন ব্যবস্থা সংকটে পড়বে।