প্রয়াত স্বামী শিল্পপতি হাসান আহমেদের সম্পত্তি থেকে স্ত্রী ও তার সন্তানদের বঞ্চিত করার ষড়যন্ত্র, মিথ্যা মামলা এবং হয়রানি থেকে রক্ষায় অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা ও আইন উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তার স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস। গতকাল ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে এ হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি। সংবাদ সম্মেলনে জান্নাতুল ফেরদৌস জানান, ডিবির সাবেক প্রধান হারুন অর রশিদের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে কবির আহমেদ, বিদ্যুৎ ঘোষ, মুসা আহমেদ এবং তার সহযোগীরা তাদের প্রতি অবিচার করে আসছে। তিনি আরও জানান, স্বামী হাসান আহমেদ বাংলাদেশের বিমা খাত ও ব্যবসায়িক জগতে বিশিষ্ট ব্যক্তি ছিলেন। তিনি পপুলার লাইফ ইন্স্যুরেন্সের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান এবং পিপলস ইন্স্যুরেন্সের সাবেক চেয়ারম্যান ছিলেন। পাশাপাশি তিনি একজন জুট মিল ব্যবসায়ী ছিলেন এবং জুট রপ্তানির মাধ্যমে দেশের জন্য বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতেন। ২০২০ সালে স্ট্রোকের কারণে হাসান আহমেদ অসুস্থ হয়ে পড়লে তিনি পপুলার লাইফ ইন্স্যুরেন্সের চেয়ারম্যান পদ থেকে সরে দাঁড়ান। তখন থেকেই হাসান আহমেদের সম্পত্তি আত্মসাতের ষড়যন্ত্র শুরু করেন তার সহকর্মী বিদ্যুৎ ঘোষ এবং তার ভাই কবির আহমেদ।
হাসান আহমেদের অসুস্থতার সুযোগে বিদ্যুৎ ঘোষ তার অফিসের গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র ও ফাইল সরিয়ে নেন। এ নিয়ে হাসান আহমেদ মতিঝিল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (নং ১৩৪) করেন। বিদ্যুৎ ঘোষ ও কবির আহমেদের নেতৃত্বে তাকে তার ব্যক্তিগত অফিস এবং পৈতৃক বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়।
জান্নাতুল ফেরদৌস জানান, ২০২২ সালের ২৪ জানুয়ারি হাসান আহমেদ বিষম অসুস্থ অবস্থায় মারা যান। তার মৃত্যুর পর বিদ্যুৎ ঘোষ, কবির আহমেদ এবং তাদের সহযোগীরা আমার নামে একটি মিথ্যা হত্যা মামলা দায়ের করেন, যা পরে পল্টন থানা পুলিশ মিথ্যা প্রমাণ করে। তবে বিদ্যুৎ ঘোষ এবং তার সহযোগীরা ডিবির হারুনের মাধ্যমে পুলিশের প্রভাব খাটিয়ে আমাদের বিরুদ্ধে চার্জশিট প্রদান করেন। এর মধ্যে বিদ্যুৎ ঘোষকে মুসা আহমেদ বেইলি রোডে তিন কোটি টাকা মূল্যের ফ্ল্যাট উপহার দেন।
তিনি আরও জানান, এ বিষয়গুলো নিয়ে তিনি একাধিকবার প্রশাসনের শরণাপন্ন হয়েছেন, কিন্তু কোনো সহায়তা পাননি। শেষ পর্যন্ত গেল বছরের ৩ জুলাই তিনি বিদ্যুৎ ঘোষের বিরুদ্ধে মতিঝিল থানায় প্রতারণা ও জালিয়াতির মামলা (মামলা নং ২) করেন। এরপর পুলিশ তাকে আটক করলেও জামিনে মুক্তি পেয়ে সম্পত্তি ফেরতের প্রতিশ্রুতি দেন, যা এখনো বাস্তবায়ন হয়নি।
জান্নাতুল ফেরদৌস জানান, আগামীকাল (১৫ জানুয়ারি) ঢাকার নবম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতে আমার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মিথ্যা মামলার ডিসচার্জ শুনানি হবে। এ বিষয়ে তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা ও আইন উপদেষ্টার কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন তার পরিবারকে এই মিথ্যা মামলা থেকে অব্যাহতি প্রদানের জন্য। পাশাপাশি বিদ্যুৎ ঘোষ গংদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দেশত্যাগে নিশেধাজ্ঞার দাবি জানান তিনি।