ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী বলেছেন, লোকেরা ছোটখাটো দাবি আদায়ের জন্য রাজপথকেই বেছে নিচ্ছে। সবাই মনে করে রাজপথ দখলে নিলেই তাদের দাবি দ্রুত আদায় হবে বা সমস্যার সমাধান হবে। গতকাল রাজধানীর ঢাকা ক্লাবে বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ক্র্যাব) বার্ষিক সাধারণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শেখ সাজ্জাদ আলী বলেন, বিগত ১৫ বছর ডিএমপি সদস্যরা যেরূপ আচরণ করেছেন, সেই আচরণ থেকে বের হয়ে আসতে চাই। কিন্তু এ জন্য সময়ের প্রয়োজন। আমার সব অফিসারের নতুন করে প্রশিক্ষণের বিশেষভাবে প্রয়োজন। প্রশিক্ষণ ছাড়া হঠাৎ করে ৪০ হাজার সদস্যকে পরিবর্তন সম্ভব নয়।
তাই আমরা প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা ইতোমধ্যে শুরু করেছি।
তিনি আরও বলেন, ইদানীং যে অপরাধটি মানুষের মধ্যে শঙ্কার সৃষ্টি করেছে সেটি ছিনতাই। ছিনতাইয়ের সঙ্গে জড়িত অধিকাংশ মাদকাসক্ত অল্প বয়সের ছেলেরা। ১৫-২২ বছরের ছেলেরা মাদকাসক্ত হয়ে এ ধরনের অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে।
বেকারত্বের সংখ্যা দিনদিন বাড়ছে। নানাবিধ সামাজিক সমস্যা প্রকারান্তরে পুলিশের ঘাড়েই এসে পড়ে। ইদানীং বিভিন্ন সম্প্রদায়ের তিনি বলেন, ছিনতাই প্রতিরোধে গত এক সপ্তাহে ব্যাপক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। দিনে এবং রাতে প্যাট্রোল সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। ডিবিকেও এ কাজে লিপ্ত করেছি। গত এক সপ্তাহে তথ্য মোতাবেক আগের তুলনায় ছিনতাই কমে এসেছে। আমরা আপনাদের এ ব্যাপারে সাহায্য করব। কিন্তু নিজের ব্যক্তিগত ব্যাগ এবং মানিব্যাগ, পার্স, মোবাইল নিজে একটু নিরাপদে রাখার চেষ্টা করবেন। তাহলে এ কাজটির মাধ্যমে আপনি আমাদের সহযোগিতা করতে পারবেন। ছিনতাইয়ের মধ্যে ৮০ শতাংশই মোবাইল। বাসে বা প্রাইভেটকারে যখন কথা বলে তখন মোবাইল ফোন নিয়ে দৌড় দেয়। তাদের হাতেনাতে ধরা অত্যন্ত কঠিন কাজ। আমার অফিসারদের কাছে বড় অস্ত্র থাকে, বুট পরা, ইউনিফর্ম পরা থাকে। ছিনতাইকারী থাকে খালি পায়ে বা একটা কেডস পরা। তার সঙ্গে দৌড়ে পারাটা অনেক কঠিন।
কোথায় কী পরিমাণ বল প্রয়োগের প্রয়োজন সেদিকে আমরা দৃষ্টি রাখছি। অচিরেই আপনারা সেই পরিবর্তন লক্ষ্য করবেন। পুলিশ যদি নিষ্ক্রিয় থাকে তার ফলাফল কী হয় ৫ আগস্টের পরে ঢাকাবাসী মর্মে মর্মে উপলব্ধি করেছে। এ পুলিশ আপনাদের লাগবে। আমাদের অনেক দুর্বলতা আছে, সেগুলো থেকে বের হয়ে আমরা আপনাদের সেবা দেব। কিন্তু ডিএমপি আপনাদের লাগবে। আমার সহকর্মীদের অনেক ভুলভ্রান্তি হয়ে যায়। সেই ভুলভ্রান্তি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখার অনুরোধ। সেসব সংশোধন করে যেন ঢাকাবাসীকে সেবা দিতে পারি সবার কাছে কামনা করছি। সীমিত সংখ্যক পুলিশ দিয়ে সব সমস্যার সমাধান অত্যন্ত দুরূহ। সম্মিলিতভাবে চেষ্টা করলে আমরা অবশ্যই ভালো থাকব।